Asit Mazumdar: নেগেটিভ মার্জিনের খেসারত, অসিতের ধমকে গুচ্ছ ইস্তফা – tmc mla asit majumder instructions some panchayat members to submit their resignation


এই সময়, চুঁচুড়া: এ বারের লোকসভা ভোটে তারকাখচিত হুগলি কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় মসৃণ জয় পেলেও হুগলির সাতটি বিধানসভার মধ্যে তিনটিতে লকেট চট্টোপাধ্যায়ের কাছে হারতে হয়েছে তাঁকে। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবধান জেলা সদর চুঁচুড়া বিধানসভায়। তারই জেরে বিধায়ক অসিত মজুমদারের নির্দেশে কুর্সি গেল কয়েকজন পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধানের। শুক্রবার চুঁচুড়া মগরা ব্লকের বিডিও-র কাছে পদত্যাগপত্র জমাও দিয়েছেন মহিলা উপপ্রধান।লোকসভা ভোটের গোটা প্রচারপর্বে রচনার প্রায় ছায়াসঙ্গী ছিলেন বর্ষীয়ান বিধায়ক অসিত। কিন্তু তাঁর নিজের কেন্দ্রে প্রার্থীকে জেতাতে না পারায় প্রত্যাশিত ভাবেই ক্ষুব্ধ অসিত। পরাজয়ের কারণ নিয়ে কাটাছেঁড়া করতে শুক্রবারই চুঁচুড়া বিধানসভার অন্তর্ভুক্ত পঞ্চায়েতগুলির প্রধান, উপপ্রধান, পঞ্চায়েত সদস্য ও হুগলি চুঁচুড়ার পুরসভার কাউন্সিলারদের নিয়ে বৈঠক করেন অসিত। সেখানে বিধায়ক বৈঠকে নিজের কেন্দ্রে দলের হতাশজনক ফল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

২০২১ সালের বিধানসভা ও মাস কয়েক আগের পঞ্চায়েত ভোটে চুঁচুড়া বিধানসভা এলাকায় নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে তৃণমূল। সেই কেন্দ্রে লোকসভা ভোটে লকেট রচনার থেকে ৮২৮৪ ভোট বেশি পাওয়াতেই অশান্তির সূত্রপাত। সূত্রের খবর ব্যান্ডেল, দেবানন্দপুর, কোদালিয়া-১ ও ২ গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল পিছিয়ে থাকায় বিধায়কের কোপে পড়েছেন প্রধান ও উপপ্রধানেরা।

ওই বৈঠকের পরই বেশ কয়েকটি পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধানরা মগরা বিডিও অফিসে গিয়ে পদত্যাগ করেন। জানা গিয়েছে, সেই তালিকায় কোদালিয়া-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সুচেতা মান্না পাল। তিনি অবশ্য তাঁদের উপর কোনও চাপ আছে এমন কথা স্বীকার করেননি। তাঁর দাবি, দলের পরাজয়ের দায় নিয়ে পদত্যাগ করেছেন তিনি।

বিধায়ক অসিত মজুমদার বলেন, ‘চারটি পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধান পদত্যাগ করেছেন। আমি তাঁদের ধন্যবাদ জানাই। কারণ তাঁদের বিবেক আছে। তাঁরা ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দলের পরাজয় হয়েছে। মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়েছে। কেন তা নিয়ে বসে পর্যালোচনা করব।’

Rachana Banerjee : দ্বন্দ্ব ভুলে একজোট হয়েই হুগলিতে লক্ষ্মীলাভ রচনার
তবে অসিতের বিরুদ্ধে ক্ষোভ গোপন করেননি নিচুতলার জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই। চুঁচুড়া পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার ঝন্টু বিশ্বাসের পাল্টা অভিযোগ, ‘মানুষের সঙ্গে, বিশেষ করে দলের কর্মী কাউন্সিলারদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহারের ফল এটা। কাউন্সিলারদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন বিধায়ক। তাই এই পরাজয় হয়েছে।’ বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক সুরেশ সাউ বলেন, ‘পরাজয়ের দায় যদি নিতেই হয় তা হলে বিধায়ক কেন নিচ্ছেন না? তিনিই তো চুঁচুড়ার অভিভাবক।’

চুঁচুড়া বিধানসভার পঞ্চায়েতের পাশাপাশি হুগলি চুঁচুড়া পুরসভার ৩০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৩টি ওয়ার্ডে পিছিয়ে পড়েছে তৃণমূল। ওই ওয়ার্ডগুলিতে লকেট তৃণমূল প্রার্থী রচনাকে পিছনে ফেলে দিয়েছেন। পুরসভার সার্বিক ফলাফলের নিরিখে প্রায় আড়াই হাজার ভোটে এগিয়ে লকেট। তাতেই ঘুম উড়েছে শাসক দলের।

কারণ ২০১৯-এর লোকসভা ভোটের পর ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে লকেটকে ২০ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়েছিলেন বিধায়ক অসিত মজুমদার। সেই কারণেই লোকসভা নির্বাচনে চুঁচুড়া বিধানসভায় বিজেপি এগিয়ে থাকায় দলের জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধানদের ইস্তফায় কি দলের পরাজয়ের গ্লানি চাপা পড়বে, সে প্রশ্নও উঠেছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *