Kirti Azad: দামোদরে ড্রেজিংয়ের দাবিতে সংসদে আওয়াজ তুলবেন কীর্তি – lok sabha election durgapur tmc candidate kirti azad called a press conference on friday and told about her plans


এই সময়, দুর্গাপুর: একগুচ্ছ কাজ রয়েছে সামনে। তার আগে শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক ডেকে দুর্গাপুর ঘিরে তাঁর পরিকল্পনার কথা জানালেন কীর্তি আজাদ। এদিনই তিনি রওনা দিয়েছেন কলকাতার উদ্দেশে। শনিবার জয়ী সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগে ভবিষ্যতের কাজের রূপরেখা সামনে আনলেন কীর্তি।শুরুতেই ডিভিসি-র দুর্গাপুর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সম্প্রসারণ ও তার জেরে উচ্ছেদের মুখে থাকা বস্তিবাসীর কথা তুলে আনেন কীর্তি। জানিয়েছেন, বস্তিবাসীর উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নামবেন তিনি। সংসদে দুর্গাপুর স্টিল প্লান্ট ও অ্যালয় স্টিল প্লান্টের আধুনিকীকরণের দাবি জানানোর পাশাপাশি ফেরো স্ক্র্যাপ বিলগ্নিকরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হবেন বলেও জানিয়েছেন বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রের জয়ী তৃণমূল সাংসদ।

দামোদরের পলি উত্তোলন নিয়ে তিনি যে সরব হবেন, শুনিয়েছেন সে কথাও। ড্রেজিং করে দামোদরের জলধারণ ক্ষমতা বাড়াতে কেন্দ্র থেকে অর্থ বরাদ্দের জন্য তিনি সচেষ্ট হবেন বলে জানান।

স্বাস্থ্যোন্নতি ঘটিয়ে দামোদরকে পর্যটন মানচিত্রে নিয়ে আনার কথা গত এপ্রিল মাসে শোনা গিয়েছিল দিলীপ ঘোষের মুখে। বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্র থেকে জিতলে এই কাজই তিনি প্রথমে করবেন বলে জানিয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী। সেই দিলীপ ঘোষকে হারিয়ে কীর্তি জানিয়ে দিলেন, এবার দামোদর সংস্কারই তাঁর কাজের তালিকায় উপরের দিকে থাকবে।

Kirti Azad Bardhaman Durgapur Lok Sabha : ‘যাঁরা ভোট দেননি তাঁদেরও ধন্যবাদ, মন জয়ের চেষ্টা করব’ মন্তব্য জয়ী তৃণমূল প্রার্থী কীর্তির

১৯৫৫ সালে দুর্গাপুর ব্যারাজ তৈরি হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত সংস্কার হয়নি দামোদরের। ফলে পলি জমে নাব্যতা কমেছে। কমেছে জলধারণ ক্ষমতাও। ব্যারাজে পলি উত্তোলনের জন্য আন্দোলন হয়েছে। নদীতে ড্রেজিংয়ের জন্য সংসদের জলসম্পদ দপ্তরের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যরা একাধিকবার ব্যারাজ পরিদর্শন করেছেন। উমা ভারতী কেন্দ্রীয় জলসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী থাকাকালীন দুর্গাপুর ব্যারাজে এসে নমামী গঙ্গে প্রকল্পের মতো দামোদর সংস্কারের কথা বলেছিলেন। কিন্তু কিছুই হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, গত পাঁচ বছরে দামোদর বাঁচাতে কিছুই করেননি বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রের বিদায়ী সাংসদ সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া। পরিবেশবিদদের আশঙ্কা, ড্রেজিং না-করলে আগামী দিনে বেঙ্গালুরুর মতো দুর্গাপুরেও জলসঙ্কট দেখা দিতে পারে। তবে দামোদর সংস্কার হলে পশ্চিম বর্ধমান তো বটেই, হুগলির গোঘাট, হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরের মতো বেশ কিছু এলাকায় প্লাবনের আশঙ্কা কমবে। ড্রেজিং হলে দুর্গাপুর ব্যারাজে জলধারণ ক্ষমতা বাড়বে বলে জানিয়েছেন সেচ দপ্তরের বিশেষজ্ঞরাও।

‘ও ঝুটা আদমি হ্যায়…’, দিলীপকে তোপ কীর্তি আজাদের
একইসঙ্গে এদিন দুর্গাপুর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়েও কথা বলেছেন কীর্তি। দুর্গাপুরে ৮০০ মেগাওয়াটের সুপার ক্রিটিক্যাল ইউনিট তৈরি করছে ডিভিসি। এর জন্য ডিভিসি কর্তৃপক্ষ নিজস্ব জমি পাঁচিল দিয়ে ঘিরে ফেলার কাজ শুরু করেছেন। যার জেরে ওই এলাকার বস্তির বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নোটিস দিয়েছে ডিভিসি। উচ্ছেদের বিরুদ্ধে গত ৭ দিন ধরে অনশন করছেন বস্তির ৪৫ জন বাসিন্দা।

এর মধ্যে ৫ জন অনশনকারী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এরই মধ্যে ডিভিসি-র চেয়ারম্যান দুর্গাপুরে এসে জানিয়ে গিয়েছেন পুনর্বাসন দেওয়া সম্ভব নয়। তবে অনশনকারীদের পাশে থেকে পুনর্বাসনের দাবিতে প্রয়োজনে আইনি লড়াইয়ের আশ্বাস দিয়েছেন কীর্তি। এদিন তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রয়েছে, পুনর্বাসন দেওয়ার। ডিভিসি-র চেয়ারম্যানকে ইতিমধ্যে চিঠি দিয়ে বস্তিবাসীর জন্য দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার কথা বলেছি। না হলে আইনি পথে হাঁটব আমরা।’

১৯৮২-র দিল্লি এশিয়াডের প্রসঙ্গ তুলে কীর্তি বলেন, ‘দিল্লি এশিয়ান গেমসের সময়ে বিভিন্ন কাজের জন্য বাইরে থেকে শ্রমিকরা এসেছিলেন। গেমস শেষে তাঁরা ওখানেই থেকে গিয়েছিলেন। পরে আমি তাঁদের পুনর্বাসন দেওয়ার ব্যাপারে লড়াই করেছি। ৭০ হাজার ৩৩৩ জনকে পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছে। তা হলে এখানে কেন পুনর্বাসন দেওয়া হবে না?’ কলকাতা থেকে ফিরে অনশনকারীদের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন বলে এদিন জানিয়েছেন কীর্তি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You missed