ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল, প্রশ্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে – college and university admission controversy over obc certificate cancellation


এই সময়: কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে বাংলায় এক লপ্তে কয়েক লক্ষ ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল হয়েছে। এ দিকে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হচ্ছে ভর্তি-প্রক্রিয়া। প্রশ্ন উঠেছে, ভর্তিতে ওবিসি সংরক্ষণের কী হবে? সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ওবিসি এ ও বি মিলিয়ে মোট ১৭ শতাংশ সংরক্ষণ থাকে মোট আসনের উপরে।কিন্তু হাইকোর্টের রায়ে যেখানে ওবিসি সার্টিফিকেটই বাতিল হয়ে গিয়েছে সেখানে কী ভাবে ওই বর্গের পড়ুয়াদের ভর্তি করা হবে–এ নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলি। এমনকী সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে রাজ্য জয়েন্টের ফল। তার পর কী ভাবে ওবিসি ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি নেওয়া হবে, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। সোমবার সরকারি একটি সূত্র অবশ্য এর সমাধানে একটি রাস্তা বাতলেছে।

হাইকোর্টের রায় চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবে বলে জানিয়েছে রাজ্য। সেই আপিলে হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ মিলবে–এই আশাতেই যা সার্টিফিকেট ছিল, সব বহাল ধরে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি এগোনোর ফর্মুলা দিয়েছে ওই সরকারি-সূত্র।

তবে গত কয়েক দিন ধরেই যাদবপুর, প্রেসিডেন্সি, রবীন্দ্রভারতীর মতো একক বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে এই নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু কোনও সমাধানসূত্র বেরোয়নি। যাদবপুরের ভারপ্রাপ্ত ভিসি ভাস্কর গুপ্ত বলেন, ‘আমরা এ ব্যাপারে সরকারের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে।’ প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিক জানান, এ ব্যাপারে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডই নেবে।

কারণ, প্রেসিডিন্সিতে ভর্তির প্রবেশিকা নেওয়া এবং মেধাতালিকা তৈরির দায়িত্ব জয়েন্ট বোর্ডেরই। পাল্টা জয়েন্ট বোর্ডের বক্তব্য, তারা প্রেসিডেন্সির ক্ষেত্রে কেবল প্রবেশিকা নেয়। আসন সংখ্যা, ভর্তির ক্রাইটেরিয়া ঠিক করে বিশ্ববিদ্যালয়ই। ফলে এ ব্যাপারে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিশ্ববিদ্যালয়কেই নিতে হবে। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে কী হবে? জয়েন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান মলয়েন্দু সাহা বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমরা উচ্চশিক্ষা দপ্তরের নির্দেশের দিকেই লক্ষ্য রাখছি।’

রবীন্দ্রভারতীর ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আশিসকুমার সামন্ত জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে আলোচনা করে পরে জানানো হবে। খানিকটা উল্টো কথা শুনিয়েছে অবশ্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানেও স্নাতকোত্তরে নানা শাখায় ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এক আধিকারিকের বক্তব্য, ‘আমরা ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিলের মামলার পার্ট নই। আমরা সরকারি নির্দেশিকার উপরেই নির্ভর করি। সরকার আমাদের এখনও এ ব্যাপারে নতুন করে কিছু জানায়নি। তাই আগের যে নির্দেশিকা রয়েছে, সেটা ধরেই ওবিসি কোটায় ভর্তি হবে।’

এখনও পর্যন্ত কলেজগুলিতে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। এ বছর কেন্দ্রীয় ভাবে অনলাইনে ভর্তি হওয়ার কথা। মাত্র তিন সপ্তাহ আগে হাইকোর্ট রায় দেয় যে, ২০১০-এর পর থেকে যত ওবিসি সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে–সব বাতিল। কিন্তু আগে যারা এই সার্টিফিকেট দেখিয়ে চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের চাকরি বহাল থাকবে।

বাড়ল DELED আবেদন সময়সীমা, দরখাস্ত পাঠানোর শেষ তারিখ জানেন?

এই মামলার অন্যতম আইনজীবী কার্তিকচন্দ্র কাপাস বলেন, ‘২০১০ পর্যন্ত যে ৬৪টি জাতি ওবিসি সার্টিফিকেট পেয়েছিল, তাদের পরিবারের ছেলেমেয়েদের ভর্তির আবেদনে অসুবিধা নেই। কিন্তু তার পর থেকে সব বাতিল। আমার ধারণা, বাতিলের সংখ্যাটা ১৫ লক্ষ। তারা কোনও ভাবেই কোটায় ভর্তির জন্যে আবেদন করতে পারবে না।’

এই দোলাচলের পরিস্থিতিতেই উচ্চশিক্ষা দপ্তরের একটি সূত্র জানাচ্ছে, ইতিমধ্যে হাইকোর্টের রায় চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া হবে বলে রাজ্য সরকার ঠিক করেছে। ফলে ওবিসি সার্টিফিকেট যার যার আছে, তার ভিত্তিতেই ভর্তির ক্ষেত্রে আবেদন করা যাবে। কোনও সমস্যা হবে না। সরকারি ওই সূত্রের আশা, শীর্ষ আদালত থেকে অন্তত স্থগিতাদেশ পাওয়া যাবে। ফলে ভর্তিতে কোনও সমস্যা থাকবে না।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *