Rice Mill Boiler Explosion,রাইস মিলের বয়লার ফেটে বিস্ফোরণ! আশেপাশের বাড়িতে ফাটল, আতঙ্ক বাগনানে – rice mill boiler explosion in howrah bagnan eight workers injured


এই সময়, বাগনান: অন্য দিনগুলির মতোই কাজ চলছিল রাইস মিলে। হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে উঠল এলাকা। কী হয়েছে বুঝতে না পেরে আতঙ্কে মিলের কর্মীরা চারিদিকে ছোটাছুটি শুরু করে দেন। কেউ ভিড়ের মধ্যে ছুটতে গিয়ে পড়ে যান। শনিবার বাগনানের ওড়ফুলি গ্রাম পঞ্চায়েতের মাদারি গ্রামে একটি রাইস মিলের বয়লার ফেটে আহত হন তিন মহিলা-সহ আট জন শ্রমিক।আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কজনক। কারখানার বয়লার ফেটেই ওই বিস্ফোরণ হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিস্ফোরণের জেরে আশপাশের অনেক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কেঁপে উঠেছে পাঁচ কিলোমিটার দূরের বাড়িও। পুলিশ, মিল কর্তৃপক্ষ আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। আহতদের নাম ঝর্না অধিকারী, সমীরণ পাত্র, মনিকা অধিকারী, সুপর্ণা মণ্ডল, রাহুল হালদার, অমিতকুমার সিং, সুদীপ অধিকারী ও আজাম আলি।

১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের ওই রাইস মিলে এ দিন দুপুরে শ্রমিকরা কাজ করছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে বয়লার ফেটে যায়। আচমকা এই ঘটনায় মিলের আধিকারিক থেকে কর্মীরা হতভম্ব হয়ে পড়েন। বিস্ফোরণের শব্দে গ্রামবাসীরা ঘটনাস্থলে চলে আসেন। খবর দেওয়া হয় পুলিশ ও দমকলে। পুলিশ, মিল কর্তৃপক্ষ ও গ্রামবাসীরা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে বাগনান গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান।

এঁদের মধ্যে তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের উলুবেড়িয়ার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। দমকলের প্রাথমিক অনুমান, অত্যাধিক তাপ তৈরি হওয়ায় এখানে বিস্ফোরণ হয়েছে। উলুবেড়িয়ার এসডিপিও নিরুপম ঘোষ বলেন, ‘তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রয়োজনে পরীক্ষার জন্য ডাকা হতে পারে ফরেন্সিক টিমকে।’

স্থানীয়রা জানান, বিস্ফোরণের জেরে পাশের বেশ কয়েকটি বাড়ির জানলার কাচ ভেঙে গিয়েছে। দেওয়ালেও ফাটল ধরেছে। বয়লারের যন্ত্রাংশ ওই মিলের পাশে কয়েক ফুট দূরে বিদ্যুতের হাইটেনশন তারের উপর গিয়ে পড়ে। মিল কর্তৃপক্ষের তরফে সুচন্দন বসু বলেন, ‘আমরা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করি। এটি দুর্ঘটনা। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

তবে মিলের মালিক ও ম্যানেজারের দেখা মেলেনি। মিলের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগও করা যায়নি। ঘটনার অভিঘাতে স্থানীয় মানুষ আতঙ্কে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। এলাকার মদন পাল, টুম্পা পাল বলেন, ‘বিস্ফোরণের জেরে টিন, ইট, রড উড়ে এসে পড়ে বাড়ির টালিতে। বাড়ির মধ্যেই টালি ভেঙে পড়তে শুরু করে। গোটা বাড়ি কেঁপে ওঠে। দেওয়ালেও ফাটল ধরেছে।’ আরও এক বাসিন্দা মিঠু পাল বলেন, ‘রান্না করছিলাম। বিকট শব্দে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসি। পায়ে একটি টিন এসে পড়ে।’

মহেশতলার বহুতলে সিলিন্ডার ফেটে বিস্ফোরণ, হুড়মুড়িয়ে ভাঙল ফ্ল্যাটের দেওয়াল, জখম একাধিক

রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মী লাল্টু পাল বলেন, ‘আমি বাড়ি ছিলাম না। নবান্নে গিয়েছিলাম। বাড়িতে থাকলে বিপদ ঘটত।’ মনোজ ঘোষ নামে এক বাসিন্দার বাড়ির এসি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। জানলার কাচ ভেঙে ঘরের মধ্যে পড়েছে। মিল থেকে বাগনান, হিজলক, গোপালপুর-সহ একাধিক গ্রামের দূরত্ব চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার। বাগনান এনডি ব্লকে বাড়ি আইনের ছাত্রী সৈয়দ মারিয়ার। তিনি বলেন, ‘বাড়িতে বসে মোবাইলে কথা বলছিলাম। বিকট শব্দে ঘরটা কেঁপে উঠল। ভেবেছিলাম ভূমিকম্প।’

ওড়ফুলি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রঘুনাথ জানা ঘটনাস্থলে যান। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানান। উলুবেড়িয়া হাসপাতালে তিন শ্রমিককে দেখতে যান রাজ্যের পূর্ত এবং জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি মন্ত্রী পুলক রায়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *