Barasat Mob Lynching,বারাসত পুলিশ জেলায় শিশুচুরির ঘটনা ঘটেনি: এসপি – barasat police district sp pratiksha jharkhariya press meet after mob lynching case


শিশুচোর সন্দেহে গণপ্রহারের ঘটনাকে ঘিরে উত্তপ্ত বারাসত। এরই মাঝে, বারাসত পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার প্রতীক্ষা ঝাড়খাড়িয়া জানিয়ে দিলেন, বারাসত পুলিশ জেলা এলাকায় কোনও শিশুচুরির ঘটনা ঘটেনি, সম্পূর্ণটাই গুজব। একইসঙ্গে এদিন বারাসতে গণপিটুনির ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানিয়ে দেন পুলিশ সুপার।বারাসতের পুলিশ সুপার আরও জানান, কিছুদিন ধরে বারাসাত এলাকায় শিশু চুরি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু লোক গুজব ছড়াচ্ছে। এদিনের গণপিটুনির ঘটনায় মোট ৩ জন আহত হয়েছেন। এখনও পর্যন্ত মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া গিয়েছে। তদন্ত চলছে। গুজবে কান না দেওযার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে বলেও জানান এসপি।

অন্যদিকে বারাসতের কাজিপাড়ায় শিশুর দেহ উদ্ধারের ঘটনা নিয়েও এদিন মুখ খোলেন এসপি। তিনি জানান, কাজিপাড়ার ঘটানায় কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে একজনের বক্তব্যে অসঙ্গতি রয়েছে। বারেবারে নিজের বয়ানও বদলিয়েছে সে। ঘটনার সময় সে কোথায় ছিল, সেই বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেনি। যার প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

উল্লেখ্য, বারাসতের কাজিপাড়া এলাকায় সম্প্রতি এক নিখোঁজ বালকের দেহ উদ্ধার হয় প্রতিবেশীর শৌচালয় থেকে। ওই ঘটনার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বারাসত শহরের বিভিন্নমহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। আর তারপর থেকেই বারাসতের বিভিন্ন এলাকায় ছেলেধরার গুজব ছড়িয়ে পড়ছে। সামাজিক মাধ্যমেও সেই বিষয়ে পোস্ট ভাইরাল হয়। তারই মধ্যে বুধবার দুপুরে বারাসতের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কামাখ্যা মন্দির চত্বর ও পাশের একটি ওয়ার্ডে ছেলেধরা সন্দেহে দুই মহিলা সহ মোট তিনজনকে বেধড়ক মারধর করে উত্তেজিত জনতা। তাঁদের উদ্ধার করতে গেলে জনতা পুলিশ খণ্ডযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। উত্তেজিত জনতা পুলিশের দু’টি গাড়িতেও ভাঙচুর চালায়। পালটা উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশও লাঠিচার্জ করে।

ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির শিকার তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বারাসত জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আপাতত তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল বলেই জানা যাচ্ছে। এদিকে এই ঘটনার পরেই সাংবাদিক বৈঠক ডাকেন বারাসতের পুলিশ সুপার। তাঁর সাফ হুঁশিয়ারি, ‘সমাজ মাধ্যমে ছেলেধরা সংক্রান্ত গুজব কেউ ছড়ালে তাকে গ্রেফতার করা হবে। ‌আইন কেউ নিজের হাতে তুলে নিলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *