পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার মেমারি থানার কুচুট এলাকায় ধর্মরাজের মেলা চলছিল। দাদপুর থেকে খোকন রায় নামে এক যুবক কুচুট পশ্চিম পাড়ায় পিসির বাড়িতে মেলা দেখতে এসেছিল। আচমকাই রটে যায় কুচুটের এই ধর্মরাজের মেলায় একটা শিশু নিখোঁজ হয়েছে। এরপরই স্থানীয় মানুষ খোকন রায়কে ছেলেধরা সন্দেহে মারধর শুরু করে।
গণ্ডগোলের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে খোকন রায় নাম ওই যুবককে। তাঁকে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসার জন্য পাহাড়হাটি প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর মারধরের এই ঘটনায় মেমারি থানার পুলিশ ৩ জনকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেফতার করে। পুলিশ সূত্রে খবর, যে শিশুটি নিখোঁজ হয়েছিল বলে রটে সে বাড়িতেই ছিল। সোমবার ধৃত শ্রীমন্ত মল্লব, সোমনাথ সাঁতরা ও অনিরুদ্ধ ঘোষকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়।
ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির একের পর এক ঘটনা ঘটছে একাধিক জেলায়। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার একাধিক জায়গায় এই ধরণের ঘটনা ঘটেছে গত কয়েকদিন ধরে। যদিও, পুলিশ প্রশাসনের তরফে বারংবার গুজবে কান না দেওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় এলাকাবাসীদের সতর্ক করা হচ্ছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও একাধিক জায়গায় জনগণকে নিজের হাতে আইন তুলে নিতে দেখা যাচ্ছে। তাতে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন রয়েছে প্রশাসন।
শনি ও রবিবার বনগাঁ মহকুমার বিভিন্ন জায়গাতেই গণপিটুনির মতো ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। বনগাঁ, গাইঘাটা, গোপালনগর সহ একাধিক এলাকায় এই ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত, খড়দা এবং অশোকনগরেও একই ঘটনা ঘটতে দেখা গিয়েছে। সেই ঘটনার আঁচ গিয়ে এবার পড়ল বর্ধমান জেলাতেও। কড়া ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে বর্ধমান পুলিশ।
