Dy Chandrachud,কথায় কথায় ছুটি কেন কোর্টে, অসন্তুষ্ট CJI – chief justice of india dy chandrachud visit calcutta court for the first time on friday


এই সময়: বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে মানুষের ভরসা জোগাতে আইনজীবীদের পেশাদারিত্ব ও যোগ্য জুনিয়রদের জায়গা দেওয়ার আহ্বান জানালেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়। বিচারপতি হিসেবে শুক্রবার প্রথম বার কলকাতায় এসে হাইকোর্ট বার লাইব্রেরি ক্লাবের দ্বিশতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন তিনি।বিভিন্ন আদালতে যে ভাবে কথায় কথায় কর্মবিরতি হচ্ছে, তারও কড়া সমালোচনা করেন সিজেআই। একইসঙ্গে এই পেশায় মহিলাদের আরও বেশি করে যুক্ত করার জন্যও সিনিয়রদের পরামর্শ দেন। তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেন, জুনিয়র আইনজীবীদের কাজ শেখানোর নামে বিনা পয়সায় কাজ করানোর দিন আর নেই। জুনিয়রদের সম্মানজনক পারিশ্রমিক দেওয়ার উপরেও জোর দেন তিনি।

দেশের প্রথম সুপ্রিম কোর্ট তৈরি হয়েছিল কলকাতাতেই। পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্টের জন্ম হয় ১৮৭৪ সালে। ১৮২৫ সালে ব্রিটিশদের হাতে দেশের প্রথম আইনজীবীদের সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ হয় বার লাইব্রেরি ক্লাবের। ঘটনাচক্রে এদিনের অনুষ্ঠানস্থল টাউন হলেই তৈরি হয়েছিল ওই সংগঠন। সেই অনুষ্ঠানে সিজেআই বলেন, ‘সাধারণ মানুষের একটা ধারণা হয়ে গিয়েছে, মামলায় সময় চাওয়াই যেন দস্তুর।’

মানুষের এই ধারণা বদলাতে আইনজীবীদের আরও পেশাদার হতে হবে বলে তিনি মনে করেন। এই প্রসঙ্গে ‘জলি এলএলবি’ সিনেমার উল্লেখ করে বলেন, ‘যেভাবে একজন অতি সাধারণ আইনজীবী প্রভাবশালী সহকর্মীর মক্কেলদের বিরুদ্ধে মিথ্যে সাক্ষ্য জোগাড়ের বিষয়টি সামনে এনে একটা লিগ্যাল সিস্টেমকে ধাক্কা দিয়েছিলেন, সেটার সঙ্গে সাধারণ মানুষ নিজেকে কানেক্ট করেন।’

DY Chandrachud : ‘বিচারকরা মানুষের সেবক’, সংবিধান নিয়ে বিশেষ বার্তা দেশের প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড়ের
কোনও সহকর্মী আইনজীবীর প্রয়াণে সারাদিন এজলাসে কাজকর্ম বন্ধ রেখে কার্যত ছুটি কাটানোর প্রবণতারও সমালোচনা করেন সিজেআই চন্দ্রচূড়। আদালতগুলিতে মামলার পাহাড় জমে যাওয়ার পিছনে যে এটা অন্যতম কারণ, তা-ও বুঝিয়ে দেন তিনি। এই প্রসঙ্গে তাঁর বাবা সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘ সময়ের প্রধান বিচারপতি ওয়াইবি চন্দ্রচূড়ের মৃত্যুর পরে তিনি নিজে বম্বে হাইকোর্টের তরুণ বিচারপতি থাকাকালীন কীভাবে সেখানে সারাদিন ছুটির বিরোধিতা করেছিলেন, তারও উল্লেখ করেন।

তাঁর বক্তব্য, ‘মানুষ বিচার পাওয়ার জন্য কাঁদছে। সেখানে এভাবে আইনজীবীদের ছুটির বিলাসিতায় একজন অভিযুক্ত জামিন পাচ্ছেন না। কত মানুষের জীবনে অন্ধকার নেমে আসছে!’ সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে বিচারপতিদেরও সাধারণ মানুষের মন বোঝার জন্য নিচুতলার কর্মীদের সঙ্গে প্রতিদিন সহজভাবে কথা বলার পরামর্শ দেন সিজেআই।

তিনি জানান, আইনজীবী পেশায় আসার দু’বছরের মাথায় ১৯৯৪ নাগাদ তিনি কলকাতায় এসেছিলেন আরপিএফ কর্মীদের হয়ে একটি মামলা লড়তে। তার প্রায় ৪০ বছর পরে আবারও শহরে এসে সেই মামলার আগের রাত হাওড়া স্টেশনের ওয়েটিং রুমে কাটানোর স্মৃতিও শেয়ার করেন সিজেআই। তিনি ছাড়াও শীর্ষ আদালতের বিচারপতি বিআর গভাই, বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত-সহ একঝাঁক ভিভিআইপি ছিলেন অনুষ্ঠানে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *