Darjeeling Tourism,বাংলা পাচ্ছে প্রথম হেলিপোর্ট, শিলিগুড়ি-দার্জিলিং ১৫ মিনিটেই – west bengal government takes initiative to build heliports in darjeeling kalimpong and raiganj


সুনন্দ ঘোষ
দার্জিলিং, কালিম্পং ও রায়গঞ্জে হেলিপোর্ট বানাচ্ছে রাজ্য সরকার। এই প্রথম রাজ্যের কোথাও হেলিপোর্ট বা হেলিবন্দর তৈরি হতে চলেছে। দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে নিয়মিত হেলিকপ্টার পরিষেবা চালু হলে শিলিগুড়ি থেকে মাত্র ১০-১৫ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছনো যাবে দুই শৈলশহরে।বিমানবন্দর থেকে যেমন বিমান ওঠানামা করে, তেমনই হেলিপোর্ট থেকে ওঠানামা করবে শুধুই হেলিকপ্টার। সারা দেশে হাজারের বেশি এমন হেলিপোর্ট ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গিয়েছে। বিদেশেও কম দূরত্বের গন্তব্যে নিয়মিত হেলিকপ্টার পরিষেবা দিতে হেলিপোর্ট রয়েছে। এ রাজ্যে এর আগে বিচ্ছিন্ন ভাবে কয়েকটি পর্যটন কেন্দ্রে হেলিকপ্টার চললেও হেলিপোর্ট তৈরির কথা আগে ভাবা হয়নি। মূলত প্রত্যন্ত এলাকার পর্যটনকেন্দ্র, ধর্মীয় স্থানে নিয়মিত যাতায়াতের জন্যই এই হেলিপোর্ট ব্যবহার করা হয়।

কী থাকে এই হেলিপোর্টে?
রাজ্যের পর্যটন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি হেলিপ্যাড তো থাকবেই। তার সঙ্গে থাকবে একটি ছোট টার্মিনাল বিল্ডিং বা ওয়েটিং লাউঞ্জ। ঠিক যেমন বিমানবন্দরে থাকে। তবে, হেলিপোর্টে থাকা টার্মিনাল হবে তুলনায় অনেক ছোট। সঙ্গে থাকবে নিরাপত্তা, যাত্রীদের মালপত্র এক্স-রে করার ব্যবস্থা। থাকবে দমকল বাহিনীও।

কেন্দ্রীয় সরকারের গতিশক্তি প্রকল্পের অধীনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছোট বিমানবন্দর ও হেলিপোর্ট তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের তিন শহরে হেলিপোর্টের টাকা আসবে ওই প্রকল্প থেকেই। আর হেলিপোর্ট তৈরি হবে রিজিওনাল কানেক্টিভিটি স্কিম (আরসিএস)-এর অধীনে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের অধীনস্থ পবন হংস সংস্থাকে ওই তিনটি হেলিপোর্ট বানানোর বরাত দেওয়া হয়েছে।

দার্জিলিং ও রায়গঞ্জে হেলিপোর্টের জমি অধিগ্রহণ করে তুলে দেওয়া হয়েছে পবন হংসের কাছে। কালিম্পংয়ে জমি খোঁজার কাজ চলছে। নবান্ন সূত্রের খবর, ওই তিন হেলিপোর্ট নিয়ে পবন হংস শীঘ্রই ডিটেলস প্রজেক্ট রিপোর্ট (ডিপিআর) জমা দেবে। পর্যটন দপ্তরের কর্তাদের বক্তব্য, রাজ্যের অন্য সব জেলায় স্থায়ী হেলিপ্যাড থাকলেও উত্তর দিনাজপুরে নেই।

শিলিগুড়ির পরে উত্তরবঙ্গের রায়গঞ্জকেই দ্বিতীয় ব্যবসা কেন্দ্র হিসাবে বিবেচনা করা হয়। অথচ সেভাবে রায়গঞ্জের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করা যায়নি। এক কর্তার কথায়, ‘কলকাতা বা শিলিগুড়ি থেকে আকাশ পথে সরাসরি রায়গঞ্জের যোগাযোগ স্থাপন হলে তাতে উপকৃত হবেন রায়গঞ্জ, বালুরঘাট-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ।’

নবান্নের সূত্র জানাচ্ছে, ঘুম-এর আগে ধুতরে চা বাগানে দার্জিলিংয়ের হেলিপোর্টের জন্য ২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। অফিসারের কথায়, ‘প্রচুর বিদেশি পর্যটক নিয়মিত ভাবে দার্জিলিং-কালিম্পংয়ে যান। তাঁরা এই পরিষেবা ব্যবহার করতে পারেন।’

উড়ানে বাগডোগরা পৌঁছে হেলিকপ্টারে করে মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়া যাবে। ভাড়া এখনও ঠিক হয়নি। তবে যেহেতু এটি আরসিএস-এর অধীনে, তাই কেন্দ্র-রাজ্য সরকারের ভর্তুকিও দেওয়ার কথা। তা দিলে ভাড়া মধ্যবিত্তের আওতার মধ্যেই থাকবে।

কারা চালাবে হেলিকপ্টার?নবান্ন সূত্রের দাবি, পাহাড়ে হেলিকপ্টারে যাত্রী পরিষেবা চালু করতে অনেকেই আগ্রহী। ইতিমধ্যে এমন কয়েকজন রাজ্যের সঙ্গে নাকি যোগাযোগও করেছেন। এক অফিসারের কথায়, ‘বাগডোগরা থেকে এখন নিয়মিত ২৬ আসনের হেলিকপ্টার চালানো হচ্ছে গ্যাংটকে। তবে, দার্জিলিং-কালিম্পংয়ে ৬-৭ আসনের হেলিকপ্টার দিয়েই পরিষেবা শুরু করা হবে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *