নুরুল ইসলাম নামে এক গ্রামবাসী বলেন, ‘গভীর রাতে দিল মহম্মদের বাড়িতে পুলিশ আসে। তার ছেলেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশকে বাঁধা দেয় দিল মহম্মদের পরিবারের সদস্যরা। পুলিশকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাতও করে। ধারাল অস্ত্রের আঘাতে আহত হন পুলিশ কর্মীরা। এই ঘটনায় আতঙ্কে আছি।’
আকবর আলি নামে অপর এক গ্রামবাসী বলেন, ‘মেজর আলমের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা ছিল। সেই ঘটনায় রাত্রে মেজর আলমকে পুলিশ গ্রেফতার করতে আসে। তাদের পরিবারের সঙ্গে পুলিশের গণ্ডগোল হয়। সেই গণ্ডগোলে পুলিশকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাদের পরিবারের সদস্যরা। পুলিশ সকাল থেকে এলাকায় বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে।’ যারা পুলিশের উপর হামলা চালিয়েছে তাদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা।
এই ঘটনায় স্থানীয় তৃণমূল নেতা তনয় কুণ্ডু বলেন, ‘ওই এলাকায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুরনো অভিযোগ ছিল। তাকেই গ্রেফতার করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছে পুলিশ। আমরা চাই যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তারা দ্রুত গ্রেফতার হোক। এর সঙ্গে রাজনৈতিক কোনও যোগ নেই। দিল মহম্মদ ওখানকার স্থানীয় বাসিন্দা। তার সঙ্গে আমাদের তৃণমূল দলের কোনও যোগাযোগ নেই। এক সময় কংগ্রেস করত বলে শুনেছি। আমরা চাই এলাকায় শান্তি বজায় থাকুক।’
এদিকে ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই দিল মহম্মদের ছেলে মেজর আলম, মেয়ে কাসমিরা ও ভাই হাবিবুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে। যদিও দিল মহম্মদ পলাতক। এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। ওই বাড়ি থেকে কিছু ধারাল অস্ত্রও উদ্ধার হয়েছে। ঘটনায় ইসলামপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার জবি থমাস বলেন, ‘গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এক দুষ্কৃতীকে ধরতে ওই এলাকার একটি বাড়ীতে যায় পুলিশ। হঠাৎ ধারাল অস্ত্র নিয়ে দুষ্কৃতীরা পুলিশের উপরে আক্রমণ চালায়। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা অনেকটাই সুস্থ রয়েছেন। পরবর্তীতে পুলিশ ওই এলাকায় গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদেরকে আমরা চিহ্নিত করতে পেরেছি। খুব শীঘ্রই তাদের গ্রেফতার করা হবে।’
