শহরে নামী স্কুলগুলোর অন্যতম বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল হাই স্কুল। ওই ছাত্রের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন স্কুলে টিফিনের সময়ে ঘটনাটি ঘটে। জল খাওয়ার জায়গায় কোনও এক ছাত্র চিৎকার করে ওঠে। তখন সেখানেই ছিলেন ইংরেজির শিক্ষক রঞ্জিত মুর্মু। তাঁর ধারণা হয় ওই ছাত্রটিই চিৎকার করেছে। এর পরই তিনি ওই ছাত্রকে টেনে নিয়ে গিয়ে প্রথমে স্কেল দিয়ে মারতে শুরু করেন বলে অভিযোগ। তাতেও শিক্ষককে থামানো যায়নি। অভিযোগ, এর পরে প্যান্টের বেল্ট খুলে ওই ছাত্রকে বেধড়ক মারতে থাকেন ইংরেজির ওই শিক্ষক।
সহপাঠীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে ওই ছাত্রের দিদি স্কুলে গিয়ে ভাইকে নিয়ে যান বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে আসেন ছাত্রটির পরিজন। কিন্তু হাসপাতালে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বা অভিযুক্ত শিক্ষক কারও দেখা পাননি তাঁরা। ফোনেই তাঁরা কথা বলেন প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে।
প্রহৃত ছাত্রটির দিদি বলেন, ‘ভাই কোনও অপরাধ করলে স্যরদের উচিত ছিল বিষয়টি ঠিক না বেঠিক সেটা আগে জানা। কিছু না জেনে এ ভাবে ভাইকে মারধর করা ঠিক হয়েছে কিনা সেটা স্যরদের উপরেই আমরা ছেড়ে দিয়েছি। শুক্রবার স্কুলে যেতে বলা হয়েছে। প্রধান শিক্ষক কী সিদ্ধান্ত নেন দেখব, তার পরে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’
স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অরুণাভ চক্রবর্তী বলেন, ‘ওই ছাত্রের অভিভাবকদের মেডিক্যাল রিপোর্ট নিয়ে স্কুলে আসতে বলা হয়েছে। মারধরের অভিযোগ ওঠা শিক্ষককেও ডাকা হয়েছে। আলোচনার পরে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।’ স্কুল কর্তৃপক্ষ বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করায় এদিন ওই ছাত্রের পরিবার পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযুক্ত শিক্ষক রঞ্জিত মুর্মুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
