Singur Tata Nano Controversy,’আমার এখন মনে হচ্ছে সিঙ্গুরে শিল্প হলে…’, বুদ্ধদেবের মৃত্যুর পর আক্ষেপ মাস্টারমশাইয়ের – rabindranath bhattacharya opens up about singur protest after buddhadeb bhattacharya passed away


বাম জমানায় সিঙ্গুরে জমি অধিগ্রহণের বিরোধিতায় সুর চড়িয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য ওরফে মাস্টারমশাই। এরপর গঙ্গা দিয়ে বহু জল গড়িয়েছে। টাটারা কারখানা সরিয়ে নিয়ে গিয়েছেন অন্যত্র। সিঙ্গুর আন্দোলনে টলমল হওয়া বাম সরকারের পতন হয়েছে। অন্যদিকে, রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য তৃণমূলের টিকিটে বিধায়ক হলেও পরবর্তীতে যোগদেন বিজেপিতে। এখন অবশ্য তাঁকে আর সক্রিয় রাজনীতিতে দেখা যায় না। কিছুটা রাজনৈতিক সন্ন্যাসের পথে তিনি। বৃহস্পতিবার রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মৃত্যুর খবরে মন ভারাক্রান্ত সিঙ্গুরের মাস্টারমশাইয়ের।তিনি ‘এই সময় ডিজিটাল’-কে বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমার সঙ্গে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের খুব বেশি আলাপ হয়নি। তবে তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধেয়। ব্যক্তি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের কোনও সমালোচনা করিনি। কিন্তু, জমি আন্দোলনের ক্ষেত্রে তাঁর দলের নীতির আমি বিরোধিতা করি। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সততা, নিষ্ঠাকে সম্মান করি। জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে তিনি এবং তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী নিরুপম রায় একটা সমঝোতার পথ খুঁজে বার করেছিলেন। যেটুকু জমি স্বেচ্ছায় পাওয়া গিয়েছে সেখানে টাটারা কারখানা করবে এবং অনিচ্ছুক কৃষকদের জমি ফেরত দেওয়া হবে। সেই চুক্তি যদি সিপিএম মেনে নিত তাহলে সিঙ্গুরে শিল্প হত। কিন্তু, সেই সময় তাঁর দল এই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি।’

প্রাক্তন এই বিধায়ক আরও বলেন, ‘আমার এখন মনে হচ্ছে সিঙ্গুরে শিল্প হলে রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হত। কৃষকরা জমি ফেরত পেলেও চাষযোগ্যভাবে পায়নি। ফলে কৃষি এবং শিল্প দুই ক্ষেত্রেই বঞ্চিত হয়েছে সিঙ্গুর।’ যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিঙ্গুরের আড়াইশো একর জমি যেখানে চাষ করা যাচ্ছে না তা চাষের যোগ্য করার উদ্যোগ নিয়েছেন ইতিমধ্যেই।

বামফ্রন্ট সরকার সিঙ্গুরে কারখানা তৈরির কথা ঘোষণা করেছিল। রতন টাটা ন্যানো কারখানা গড়তে চেয়েছিলেন সেখানে। কিন্তু, দ্বিধাবিভক্ত হয়ে যান কৃষকরা। সুফলা জমি ছাড়তে চাননি কৃষকদের একাংশ। ‘কৃষি জমি রক্ষা কমিটি’ জোর আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলনরত কৃষকদের পাশে দাঁড়ান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর বাম শাসনের ৩৪ বছরের ভিত নড়িয়ে দেওয়ার নেপথ্যে সেই সিঙ্গুর আন্দোলনের বিস্তর প্রভাব ছিল বলেই মত রাজনৈতিক মহলের। ‘ব্যর্থতা’-র দায় এসেছিল বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের দিকে।

বৃহস্পতিবার হাওয়া ভার সিঙ্গুরের। আন্দোলন, পক্ষ, বিপক্ষ ভুলে অনেকেরই স্মৃতিতে ‘বুদ্ধবাবু’। রাজ্যের কৃষি মন্ত্রী বেচারাম মান্নাও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সিঙ্গুর আন্দোলন’-এর সঙ্গী। তিনি বৃহস্পতিবার বলেন, ‘বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রয়াণে গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর দলের নীতি সিঙ্গুরের মানুষ মেনে নিতে পারেননি। সাধারণ মানুষ গর্জে উঠেছিল। গোটা বিষয়টি যে ভাবে তাঁর দল পরিচালনা করেছিল তাতে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য যে ভাবে রাজ্য চালাতেন, তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাব।’ কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্না বলেন, ‘ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য স্বচ্ছ ভাব মূর্তির মানুষ। শেষ জীবন পর্যন্ত অনাড়ম্বর জীবনযাপন করে গিয়েছেন।’

সিঙ্গুরের জমি দানে অনিচ্ছুক চাষি অমিয় ধাড়া বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে বলেন, ‘আমার মনে হয় তাঁর উচিত ছিল কৃষকদের সঙ্গে কথা বলা। যে জমি নিয়েছিলেন তা তিন ফসলি । এখানে কিছু জলা জমিও ছিল। যদি তা নিতেন সেক্ষেত্রে কারও কিছু বলার ছিল না। তার জায়গায় বলপ্রয়োগ করে জমি নিতে চেয়েছিল তাঁর সরকার।’ জমিদানে ইচ্ছুক কৃষক শক্তিপদ মুখোপাধ্যায় অবশ্য বলছেন, ‘আজ সিঙ্গুরে কারখানা হলে অনেক তরুণ-তরুণী চাকরি পেত। যিনি এই স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনিই নেই।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *