Junior Doctors Protest,সময়মতো ইনহেলার, পুলিশের প্রাণরক্ষায় প্রতিবাদীরা – junior doctors protesting in front of health building saved policemen lives with inhalers


এই সময়: জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন অব্যাহত আরজি করের ঘটনায় ন্যায় বিচারের দাবিতে। রয়েছে কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের পদত্যাগের দাবিও। কিন্তু ধর্না, আন্দোলন, কর্মবিরতি, বিক্ষোভ এক ব্যাপার। তার মধ্যেও চিকিৎসকের পেশাগত দায়িত্ব ভুললেন না আন্দোলনকারীরা। বুধবার মাঝরাতে তেমনই একটা ছবি উঠে এল। স্বাস্থ্যভবনের সামনে অবস্থানরত জুনিয়র ডাক্তারদের মানবিক মুখ দেখল মহানগর।অবস্থান মঞ্চে ডিউটিরত এক মহিলা পুলিশকর্মী আচমকা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার পর আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তারের কল্যাণেই বাঁচলেন তিনি। আন্দোলনকারীদের হাত ধরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেও ভোলেননি উপস্থিত পুলিশ আধিকারিকরা। ওই মহিলা পুলিশকর্মীকে সল্টলেক মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় রাতেই। বৃহস্পতিবার চিকিৎসকরা জানান, ভালো আছেন তিনি।

বিনীতের পাশাপাশি রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা ও স্বাস্থ্য অধিকর্তার পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার সল্টলেকের স্বাস্থ্য ভবন থেকে প্রায় একশো মিটার দূরে পুলিশের ব্যারিকেডের সামনে অবস্থানে বসে পড়েন আন্দোলনকারীরা। মঙ্গলবার সারা রাত থাকার পর বুধবার রাতেও সেখানেই অবস্থানে ছিলেন চিকিৎসকরা।

আন্দোলনের শরিক হতে পথে তখন হাজার পাঁচেক মানুষের ভিড় স্বাস্থ্যভবনের সামনে। ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনীও। সেখানেই ডিউটিতে ছিলেন বিধাননগর পুলিশের কনস্টেবল নিবেদিতা হালদার। রাত ১২.৩০ নাগাদ আচমকাই অসুস্থবোধ করেন তিনি। শুরু হয় শ্বাসকষ্ট।কাছেই অবস্থানে ছিলেন পিজি হাসপাতালের গ্যাস্ট্রো-এন্টেরোলজি বিভাগের জুনিয়র আবাসিক চিকিৎসক, পোস্ট ডক্টরাল পড়ুয়া বিপ্রেশ চক্রবর্তী।

তাঁর অভিজ্ঞ চোখে বুঝতে অসুবিধা হয়নি, আচমকা অ্যাজ়মা অ্যাটাক হয়েছে ক্রনিক ওই অ্যাজ়মা রোগীর। বুঝতে পারেন, সে সময়ে একেবারে জীবনদায়ী ওষুধ হলো স্টেরয়েড কম্বিনেশনের ইনহেলার। কিন্তু এত রাতে সেটা কোথায় পাওয়া যাবে! তিনি দৌড়ে যান অবস্থান মঞ্চে। স্লোগান থামিয়ে মাইক হাতে তুলে নিয়ে সকলের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কারও তাছে লং-অ্যাক্টিং বিটা অ্যাগনিস্ট প্লাস স্টেরয়েড কম্বিনেশনের ইনহেলার থাকলে তিনি যেন এগিয়ে আসেন।’

ভিড়ের মধ্যে থেকে সে কথা শুনেই দ্রুত বিপ্রেশের কাছে চলে আসেন আন্দোলনকারী এক তরুণী ডাক্তারি পড়ুয়া। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের ফাইনাল ইয়ারের ওই ছাত্রী সোমদত্তা যশ নিজেও অ্যাজ়মায় ভোগেন। ফলে তাঁর বুঝতে অসুবিধে হয়নি ওই ইনহেলারের জীবনদায়ী ভূমিকার কথা। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তা ব্যবহার না করলে যে বিপদ ঘনাতে পারে, তা বুঝেই নিজের ইনহেলার তিনি তুলে দেন বিপ্রেশের হাতে।

সোমদত্তার কথায়, ‘কার জন্য চাওয়া হয়েছিল, সেটা জানতাম না। একজনের প্রাণ বাঁচাতেই ওটা আমি দিয়েছি।’ তড়িঘড়ি সেই ইনহেলার থেকে কনস্টেবল নিবেদিতাকে কয়েকটি পাফ দেওয়ার ব্যবস্থা করেন বিপ্রেশ। ধীরে ধীরে ধাতস্থ হন ওই কনস্টেবল। এর পরই দুই চিকিৎসকের সঙ্গে অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাঁকে দ্রুত পাঠিয়ে দেওয়া হয় বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন।

রাতভর বিক্ষোভ, সকালেও স্বাস্থ্য ভবনের অদূরে ঠায় বসে জুনিয়র চিকিৎসকরা

বিপ্রেশ জানান, এর পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক পুলিশ আধিকারিক এগিয়ে এসে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা না থাকলে ওকে বাঁচানো মুশকিল ছিল। অনেক ধন্যবাদ।’ ওই চিকিৎসককে ধন্যবাদ জানিয়ে ফেসবুক পোস্ট করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশও। ‘সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে’ শীর্ষক একটি পোস্টে দু’টি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়। সেখানে গত রাতের কথা বিশদে ব্যক্ত করে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে পুলিশ।

পাশাপাশি জানায়, আরও একটি ঘটনায় মানবিকতার সাক্ষী থেকেছে ঝাড়গ্রাম শহরও। ঝাড়গ্রামের ফাঁসিতলায় বুধবার রাতে একটি ভয়াবহ পথদুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন একাধিক যাত্রী। আহতদের মধ্যে ছিলেন মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের শিশুরোগ বিভাগের এক জুনিয়র ডাক্তার এবং তাঁর পরিবার। সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছতে পারার জন্য ওঁরা এবং অন্য আহত যাত্রীরা এখন বিপন্মুক্ত।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *