ভাতের ফ্যান পড়ে ঝলসে যাওয়া শিশুটির মা সুনীতা সিং বলেন, ‘আমার ছেলেকে ইমার্জেন্সিতে দেখিয়ে বেডে নিয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু লিফটের সামনে আধ ঘণ্টারও বেশি সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। খুব কষ্ট পেয়েছে ছেলেটা। ভীষণ কেঁদেছে। কিন্তু কোনও রোগীকে ছাড়া হয়নি। লিফটটা কি ইট-সিমেন্ট বহনের জন্য নাকি রোগীদের ওঠানামার জন্য? এতে তো সংক্রমণের আশঙ্কাও রয়েছে।’
রোগীদের জরুরি পরিষেবা ও উপরতলার বিভিন্ন ওয়ার্ডে যাতায়াতের জন্যই রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজে তৈরি করা হয়েছে দু’টি লিফট। কিন্তু সেই লিফট রোগীদের অপেক্ষায় রেখে মাল বহন করছে দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন হাসপাতালে আসা রোগীর পরিজনরা। পাশে সিঁড়ি থাকলেও তা ব্যবহার করা গুরুতর অসুস্থদের পক্ষে সম্ভব নয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য রোগীর এক আত্মীয় বলেন, ‘একটা লিফট এমনিতেই খারাপ। দ্বিতীয় লিফট ভরসা। তাতেও আবার ইট, বালি, সিমেন্ট বোঝাই করে উপরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। রোগীরা অপেক্ষায়। চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হতে হয়েছে রোগীদের। ইনফেকশনের ভয় নিয়েও কেউ একটা বার ভাবল না?’
রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজের ভারপ্রাপ্ত এমএসভিপি বিদ্যুৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এই দশ তলা বিল্ডিংটা ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল সার্ভিসেস কর্পোরেশন (WBMSCL)-এর অধীনে। সমস্ত রক্ষণাবেক্ষণ ও দেখভাল তারাই করে। তারা উপরে বিল্ডিংয়ের কিছু সংস্কারের কাজ করছে। ফলে ওই লিফট দিয়ে তারাই ইট তুলছে। এখানে আমাদের কিছু বলার নেই। এমনকী, বললেও তারা আমাদের কথা শুনবে না। ফলে শুধু রোগীদের নয়, আমাদেরকেও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।’
