বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই স্বতঃপ্রণোদিত মামলাটি করেছে। কারণ আদালতের জেরার মুখে অভিযোগকারিণী মিথ্যা অভিযোগ দায়েরের কথা স্বীকার করে নেন। ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ‘অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগকারিণীর দেওয়া গোপন জবানবন্দি মিথ্যা ছিল। তাঁর বয়ানে বিভিন্ন অসঙ্গতিও রয়েছে। বোঝা যাচ্ছে, আদালতকে বিভ্রান্ত করতেই এটা করা হয়েছিল। আর এই একটা মিথ্যা অভিযোগের জন্য তিন জনকে এক বছর জেল খাটতে হলো!’
বিধি অনুযায়ী, হাইকোর্টের এই স্বতঃপ্রণোদিত মামলার বিচারপ্রক্রিয়া চলবে নিম্ন আদালতে। ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ, বিচারের সময়ে লোয়ার কোর্ট সামগ্রিক বিষয়টি বিবেচনা করবে। তার পরে অভিযোগকারিণী এবং তাঁকে কেউ মদত দিয়ে থাকলে তাঁদের শাস্তির বিধান দিতে পারে নিম্ন আদালত।
২০২৩-এর ৮ অগস্ট মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে এক নাবালিকাকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে গিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে তিন যুবকের বিরুদ্ধে। পকসো আইনে মামলা হয়। তিন জনকেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তখন অভিযোগকারিণীর বয়স ছিল ১৮ বছরের থেকে কয়েক দিন কম। তাই পকসোয় মামলা হয়। তার কয়েক দিন পর, ১৭ অগস্ট তাঁর গোপন জবানবন্দি নেওয়ার সময়ে বয়স ১৮ বছর পেরিয়ে যায়। গোপন জবানবন্দিতে অভিযোগকারিণী শারীরিক নির্যাতনের কথা বলেছিলেন। নিম্ন আদালতে তিন ধৃতের জামিনের আবেদন খারিজ হয়। সেই রায় চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন জানান ধৃতেরা।
হাইকোর্টে অভিযোগকারিণীর আইনজীবী জানান, ধৃতদের জামিনে তরুণীর আপত্তি নেই। আদালত চেপে ধরে অভিযোগকারিণীকে। তাঁর আইনজীবীকে কোর্টের প্রশ্ন, ‘আপনার ক্লায়েন্ট নিজেই তো গোপন জবানবন্দিতে বলেছিলেন তাঁকে নির্যাতন করা হয়েছে। সে কারণে পকসো আইনে মামলা হয়েছিল। তিন জনের সাজাও হয় সেই মতো।’ আইনজীবী বলেন, ‘মক্কেলের উপরে চাপ সৃষ্টি করে ওই গোপন জবানবন্দি দেওয়ানো হয়েছিল।’
এতে বিস্মিত আদালত বলে, ‘এমন ঘটনা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। একজনের মিথ্যা গোপন জবানবন্দির জন্য তিন জনকে অযথা এক বছর ধরে জেল খাটতে হলো!’ সরকারি কৌঁসুলি অরিন্দম সেন ও শিলাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এমন স্বীকারোক্তির পরে আদালতের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।’ এর পরেই তিন জনকে জামিন দেয় হাইকোর্ট। আইনজীবীদের একাংশের বক্তব্য, মিথ্যা জবানবন্দির ক্ষেত্রে তিন বছর পর্যন্ত কারাবাস হতে পারে এই তরুণী।
হাইকোর্টের স্বতঃপ্রণোদিত মামলা প্রসঙ্গে পুরুষদের অধিকার নিয়ে কাজ করা নন্দিনী ভট্টাচার্যর বক্তব্য, ‘আদালত একটা দৃষ্টান্ত তৈরির চেষ্টা করছে। এর পরে শাস্তি হলে আগামী দিনে এমন মিথ্যে অভিযোগের দায়েরের প্রবণতা কমতে পারে।’
