ডানকুনির জনাই রোডে থাকেন বিভাস। গত কয়েক দিন ধরেই বিভাসের মেয়ে অসুস্থ। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তিনি মেয়েকে ভর্তি করিয়েছিলেন বেলঘরিয়ার একটি নার্সিংহোমে। চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছেন, মেয়ের জন্য রক্তের প্রয়োজন। মেয়ের জন্য রক্ত জোগাড় করতে এ দিন বিভাস প্রথমেই আসেন কামারহাটি সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজে।
ব্লাড ব্যাঙ্কে এসে রক্তের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ দেখিয়ে দুই ইউনিট রক্ত কিনতে চান তিনি। সেখানে তাঁকে জানানো হয়, নার্সিংহোমের চিকিত্সকের সই এবং স্ট্যাম্প দেওয়া রিকুইজ়িশন ফর্ম লাগবে। বিভাস ওই নার্সিংহোম থেকে সেই কাগজ এনে কিছুক্ষণ পর জমা দেন ব্লাড ব্যাঙ্কে।
অভিযোগ, এ বার সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজের ব্লাড ব্যাঙ্কের এক কর্মী বলেন, দুই ইউনিট রক্তের জন্য ১২০০ টাকা লাগবে। সেটা দিতেও রাজি ছিলেন বিভাস। কিন্তু অভিযোগ, এর পরেই ব্লাড ব্যাঙ্কের আর এক কর্মী এসে বলেন, সময় অতিক্রান্ত হয়ে গিয়েছে, রক্ত আর মিলবে না। মরিয়া হয়ে বিভাস হাসপাতালের সুপার-সহ বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু যোগাযোগ করতে পারেননি তিনি।
দীর্ঘ ছোটাছুটির পর তিনি কলকাতার মানিকতলা সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাঙ্কে যান রক্তের জন্য। সরকারি মেডিক্যাল কলেজের ২৪ ঘণ্টা চালু থাকা ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে জরুরি প্রয়োজনে রক্ত না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বিভাসের অভিযোগ, ‘আমার মেয়ের গুরুতর অসুস্থ। আমি দু-দু’বার এসেও সরকারি হাসপাতাল থেকে রক্ত পেলাম না। আমাকে ফিরিয়ে দেওয়া হল। অথচ প্রথম বারে বললেই অন্য জায়গায় চেষ্টা করতাম।’ এই প্রসঙ্গে হাসপাতালের সুপার সুজয় মিস্ত্রি বলেন, ‘এমন কোনও অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। ব্লাড ব্যাঙ্ক ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। সে ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটার কথা নয়। অভিযোগ পেলে নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেব।’
অন্যদিকে, এ দিন ফের সাগর দত্তের জুনিয়র চিকিৎসকদের ধর্নামঞ্চের জিনিসপত্র নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। এতদিন জুনিয়র ডাক্তাররা ডেকরেটরদের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া খাটিয়ার উপরে বসেই ধর্না চালাচ্ছিলেন। বুধবার দেখা যায়, ধর্নামঞ্চে পেতে রাখা সেই সব খাটিয়া খুলে নিয়ে চলে যাচ্ছেন ডেকরেটর সংস্থার কর্মীরা। যদিও আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলেই খাটিয়া খোলা হয়েছে।
