মিছিলের সামনে ও পিছনে ছিল বিশাল সংখ্যক পুলিশ। যার নেতৃত্বে ছিলেন বারুইপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জোনাল) রূপান্তর সেনগুপ্ত। শববাহী গাড়িটিও ঘিরে রেখেছিল বহু পুলিশ। যদিও দেড় কিলোমিটার পথ যেতেই সেই মিছিল বিভিন্ন মোড়ে আটকে পড়ে। স্থানীয় মানুষ চোখের জলে শেষ বারের মতো ছোট্ট মেয়েটিকে বিদায় জানান। পরে সেই মিছিল কৃপাখালি হয়ে আবার গ্রামে ফিরে যায়। গ্রামের মধ্যে বাড়ির কাছেই সমাধিস্থ করা হয় দশ বছরের বালিকাকে।
জয়নগরের দক্ষিণ বারাসত-মহিষমারি রাস্তায় গরানকাটি মোড়ে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গ্রামবাসীরা রাস্তায় ইট এবং গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করে। সেখানে দিয়েই পুলিশের একটি গাড়ি যাওয়ার চেষ্টা করলে খেপে ওঠেন গ্রামবাসীরা। পুলিশের সেই গাড়ি লক্ষ্য করে জুতো দেখানো হয়। গাড়ির চাবি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টাও চলে। ভাঙচুর হয় গাড়ি।
শেষমেষ গাড়ি লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি শুরু হলে অসুস্থ হয়ে পড়েন এক মহিলা পুলিশকর্মী। কোনও রকমে পুলিশ-গাড়ির চালক সওয়ার মহিলা পুলিশকর্মীদের নিয়ে ভাঙা গাড়িটি নিয়ে ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যান। পরে সেখানে গিয়েই গ্রামবাসীদের ক্ষোভের মুখে পড়েন বারুইপুরের এসডিপিও অতীশ বিশ্বাস। বিক্ষোভের মুখে তাঁকে গাড়ি ছেড়ে পায়ে হেঁটে গরানকাটি মোড় এলাকা ছেড়ে যেতে হয়।
দুপুরের পর এলাকায় যান জয়নগরের তৃণমূলের সাংসদ প্রতিমা। তিনি ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গেলে গ্রামে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সাংসদকে দেখে ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান ওঠে। তাঁর নিরাপত্তায় থাকা পুলিশকর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি বেধে যায় গ্রামবাসীদের। গোলমালে সেখান থেকে ফিরে যান সাংসদ।
যাওয়ার আগে নিহত ছাত্রীর সমাধিতে মালা দিয়ে প্রতিমা বলেন, ‘আমি কোনও একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সাংসদ হয়েছি। কিন্তু এখন আমি সবার সাংসদ। তাই আমি মেয়েটির পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম। কিন্তু আমাকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।’ এলাকায় রাস্তার আলো এবং রাস্তা সংস্কারের জন্য সাংসদ তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
বিকেলে জয়নগরের ভবানীমারি মোড় থেকে মিছিল বের করে এসইউসিআই। দোষীর কঠোর শাস্তি দাবিতে সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্রামবাসীরাও রাস্তায় বসে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন।