Kultali Incident,সেই ছাত্রীর শেষযাত্রায় পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর – local villagers protest demonstration in kultali demanding punishment minor student death case


এই সময়, কুলতলি: নাবালিকা ছাত্রী-মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেওয়া দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলি নতুন করে অশান্ত হলো মঙ্গলবার। নিহত ছাত্রীর মরদেহ নিয়ে এলাকায় মিছিল করেন গ্রামবাসীরা। দোষীর শাস্তির দাবিতে এলাকা নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রাস্তা অবরোধ শুরু করেন তাঁরা। ভাঙচুর করা হয় পুলিশের গাড়ি। পুলিশকে নিশানা করে চলে প্রবল ইটবৃষ্টি। গ্রামবাসীদের রোষের মুখে নিহত ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে দেখা না-করেই এলাকা ছাড়তে হয় স্থানীয় তৃণমূল সাংসদ প্রতিমা মণ্ডলকে।সোমবার সারা রাত বাড়ির সামনেই রাখা ছিল নিহত ছাত্রীর দেহ। মঙ্গলবার সকালে গ্রামবাসীরা দেহ নিয়ে আসেন স্থানীয় কৃপাখালি মোড়ে। সেখান থেকে শবদেহ বহনকারী গাড়িটি সামনে রেখে শুরু হয় প্রতিবাদ মিছিল। মিছিল যায় মহিষমারিহাটে। সেই মিছিলে বিভিন্ন গ্রাম থেকে বহু মহিলা যোগ দেন। মিছিল থেকে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে স্লোগান শুরু হয়। কৃপাখালি মোড় থেকে মহিষমারিহাট পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার রাস্তার বিভিন্ন মোড়ে মোতায়েন ছিল পদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী।

মিছিলের সামনে ও পিছনে ছিল বিশাল সংখ্যক পুলিশ। যার নেতৃত্বে ছিলেন বারুইপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জোনাল) রূপান্তর সেনগুপ্ত। শববাহী গাড়িটিও ঘিরে রেখেছিল বহু পুলিশ। যদিও দেড় কিলোমিটার পথ যেতেই সেই মিছিল বিভিন্ন মোড়ে আটকে পড়ে। স্থানীয় মানুষ চোখের জলে শেষ বারের মতো ছোট্ট মেয়েটিকে বিদায় জানান। পরে সেই মিছিল কৃপাখালি হয়ে আবার গ্রামে ফিরে যায়। গ্রামের মধ্যে বাড়ির কাছেই সমাধিস্থ করা হয় দশ বছরের বালিকাকে।

জয়নগরের দক্ষিণ বারাসত-মহিষমারি রাস্তায় গরানকাটি মোড়ে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গ্রামবাসীরা রাস্তায় ইট এবং গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করে। সেখানে দিয়েই পুলিশের একটি গাড়ি যাওয়ার চেষ্টা করলে খেপে ওঠেন গ্রামবাসীরা। পুলিশের সেই গাড়ি লক্ষ্য করে জুতো দেখানো হয়। গাড়ির চাবি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টাও চলে। ভাঙচুর হয় গাড়ি।

শেষমেষ গাড়ি লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি শুরু হলে অসুস্থ হয়ে পড়েন এক মহিলা পুলিশকর্মী। কোনও রকমে পুলিশ-গাড়ির চালক সওয়ার মহিলা পুলিশকর্মীদের নিয়ে ভাঙা গাড়িটি নিয়ে ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যান। পরে সেখানে গিয়েই গ্রামবাসীদের ক্ষোভের মুখে পড়েন বারুইপুরের এসডিপিও অতীশ বিশ্বাস। বিক্ষোভের মুখে তাঁকে গাড়ি ছেড়ে পায়ে হেঁটে গরানকাটি মোড় এলাকা ছেড়ে যেতে হয়।

দুপুরের পর এলাকায় যান জয়নগরের তৃণমূলের সাংসদ প্রতিমা। তিনি ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গেলে গ্রামে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সাংসদকে দেখে ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান ওঠে। তাঁর নিরাপত্তায় থাকা পুলিশকর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি বেধে যায় গ্রামবাসীদের। গোলমালে সেখান থেকে ফিরে যান সাংসদ।

Jaynagar Incident: জয়নগর কাণ্ডের তদন্তে ৭ সদস্যের সিট গঠন, এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা

যাওয়ার আগে নিহত ছাত্রীর সমাধিতে মালা দিয়ে প্রতিমা বলেন, ‘আমি কোনও একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সাংসদ হয়েছি। কিন্তু এখন আমি সবার সাংসদ। তাই আমি মেয়েটির পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম। কিন্তু আমাকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।’ এলাকায় রাস্তার আলো এবং রাস্তা সংস্কারের জন্য সাংসদ তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

বিকেলে জয়নগরের ভবানীমারি মোড় থেকে মিছিল বের করে এসইউসিআই। দোষীর কঠোর শাস্তি দাবিতে সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্রামবাসীরাও রাস্তায় বসে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *