Chandan Nagar Railway Station: উচ্ছেদে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের, বাধায় ফিরল রেল – supreme court stays eviction drive at chandannagar railway station


এই সময়, চন্দননগর: অমৃত ভারত প্রকল্পের মাধ্যমে চন্দননগর স্টেশনকে আধুনিক করতে উদ্যোগী হয়েছে রেল। তাই স্টেশন চত্বরে থাকা হকার উচ্ছেদ করতে ৪ অক্টোবর নোটিস দিয়ে ১৪ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। শুক্রবার পুলিশবাহিনী ও মাটি কাটার যন্ত্র নিয়ে স্টেশন চত্বরে হাজির হন রেল দপ্তরের কর্তারা। কিন্তু চন্দননগর স্টেশন চত্বরের হকারদের উচ্ছেদ সংক্রান্ত দায়ের করা মামলায় এ দিন সুপ্রিম কোর্ট স্থগিতাদেশ দিতেই পিছু হটে রেল দপ্তর।যদিও তার আগে সকাল থেকে উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান হকাররা। উচ্ছেদের বিরোধিতা করে জমায়েত করে বাম বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরাও। বিক্ষোভ শুরু হতে উচ্ছেদ অভিযান বাধার মুখে পড়ে। হকার সংগঠনের দাবি, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযানে স্থগিতাদেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

চন্দননগর হকার কো-অপারেটিভ সোসাইটির সম্পাদক দেবব্রত দে বলেন, ‘আমরা ১৯৯২ সাল থেকে রেলের কাছে আবেদন করেছি। রেলকে উপযুক্ত মূল্য দিয়ে আমরা ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু সেই কথা রেল শোনেনি। রুজি-রোজগার বাঁচাতে তাই আইনি পথে হাইকোর্টে মামলা করি। হাইকোর্ট রেলের পক্ষে রায় দেয়। আমরা গত মাসে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করি। সুপ্রিম কোর্ট উচ্ছেদ অভিযানে স্থগিতাদেশ দিয়েছে।’

হকার সংগঠনের সম্পাদক হীরালাল সিনহা বলেন, ‘২০১৪ সালের হকার আইনে বলা হয়েছে পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ করা যাবে না। আমরা ২০২৩ সাল থেকে আইনি লড়াই করছি। রেল আগেও তুলে দেবে, উচ্ছেদ করবে বলে নোটিস দিয়েছে। কিন্তু আমরা স্পষ্ট বলেছি পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ করা যাবে না।’

চন্দননগর স্টেশন সংলগ্ন হকারদের উচ্ছেদের জন্য আগেই একটি নোটিস ধরানো হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ১৮ তারিখের মধ্যে রেলের জায়গা দখল করে রাখা হকারদের উঠে যেতে বলা হয়। এ দিন সকালে হকার উচ্ছেদ করতে গেলে বিক্ষোভের মুখে পড়েন রেলের আধিকারিকরা। অভিযানের শুরুতেই বাধার মুখে পড়ে রেল পুলিশ। রেল পুলিশের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বচসা বাধে হকারদের। বাম, বিজেপি কর্মীরাও সেখানে হাজির হন।

হকাররা জানিয়েছেন, চন্দননগর স্টেশনে ঢোকার মুখেই রেলের জায়গায় কেউ চল্লিশ, কেউ তিরিশ বছর ধরে ব্যবসা করে খাচ্ছেন। প্রায় শতাধিক হকার এখানে ব্যবসা করে সংসার চালান। রাজু লস্কর নামে এক হকার বলেন, ‘অমৃত ভারত প্রকল্পের মাধ্যমে চন্দননগর স্টেশনের উন্নতি হোক আমরাও চাই। কিন্তু আমাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক। আমাদের পরিবার আছে। আইনের লড়াইয়ে যেতে বাধ্য হয়েছি। আদালত যদি বলে উঠে যাব। কিন্তু গায়ের জোরে কিছু করতে দেব না।’ ঘটনাস্থলে উপস্থিত রেল পুলিশের আধিকারিকরা এই বিষয়ে কিছু বলতে চাননি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *