খুঁজে বের করা হয় নদী বাঁধের ফাটল। এবং নিচু বাঁধের অংশ চিহ্নিত করা হয়। এদিন সকাল থেকে এলাকার জমা জল নামতে শুরু করে। সেচ দপ্তরের কর্মীরাও ফাটল মেরামতের কাজে হাত লাগায়। আগামী দিনে পরিকল্পনা করে বাঁধের নিচু অংশ উঁচু করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
তবে নদীর নোনা জল ঢুকে পড়ায় আগামী বেশ কয়েকটি মরশুমে বিঘের পর বিঘে জমিতে ধান চাষের পাশাপাশি সব্জির বাগান চাষ, মিষ্টি জলের পুকুরে মাছ চাষ এবং পান চাষ করা সম্ভব নয়। বাসিন্দাদের দাবি, ‘ক্ষতিপূরণ দেওয়া দেওয়া হোক কৃষকদের। তা না হলে এলাকার বাসিন্দারা কৃষিকাজে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।’
পূর্ণিমার কটালে সুন্দরবনের নদীগুলিতে জলস্তর বাড়ায় একাধিক জায়গায় মাটির বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। নদীর চরেও ধস নেমে ফাটল দেখা দিয়েছে কংক্রিটের রাস্তাতেও। গোসাবার কুমিরমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের ভাঙনখালিতে শার্শা নদীর বাঁধে ১০০ ফুটের বেশি ফাটল দেখা দিয়েছে। ওই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বুধবারের বাজারে বাগনা নদীর চরের বেশ অনেকটাই অংশ তলিয়ে গিয়েছে নদীগর্ভে।
পাশের আমতলি গ্রাম পঞ্চায়েতের পুঁইজালি গ্রামের হরিতলা এলাকায় ও ৫৫ মিটার রায়মঙ্গল নদীর চর একেবারে শনিবার তলিয়ে গিয়েছে। ছোট মোল্লাখালি গ্রাম পঞ্চায়েতের কালিদাসপুরেও শার্শা নদীর চরে ১০০ মিটার অংশ সরাসরি নেমে গিয়েছে নদীতে। গোমর নদীর চরের অনেকটাই তলিয়ে গিয়েছে নদীর গর্ভে।
গোসাবার একের পর এলাকায় এ ভাবে নদী বাঁধের ফাটল ও চর নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে সেচ দপ্তরের আধিকারিকদের। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দিনভর বিভিন্ন জায়গায় বাঁধের ফাটল মেরামতের কাজ শুরু হয়। সেচ দপ্তরের গোসাবা ডিভিশনের এসডিও শুভদীপ দালাল বলেন, ‘এ বার ষাঁড়া ষাঁড়ির কটালের থেকে পূর্ণিমার কটালে জলস্ফীতি বেড়েছে। তার ফলেই বিভিন্ন জায়গায় মাটির নদী বাঁধের ফাটল ও চরে ধস নেমেছে।’
