সাগরে ঘনাচ্ছে শক্তিশালী নিম্নচাপ, সপ্তাহজুড়ে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ তুমুল বৃষ্টিতে ভাসবে বাংলা…| A strong low pressure area is intensifying over the sea Bengal to witness heavy rain with thunderstorms throughout the week


অয়ন ঘোষাল: পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং উত্তর বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ঘনীভূত ঘূর্ণাবর্ত আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা। এর প্রভাবে আগামী কয়েক দিন প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকবে বঙ্গোপসাগর থেকে। সপ্তাহ জুড়ে বাংলায় বৃষ্টি। বৃহস্পতি, শুক্রবারে অতি ভারী বৃষ্টি বা প্রবল বর্ষণের আশঙ্কা বাংলার কোনও কোনও জেলায়।

মৌসুমী বায়ু
বৃহস্পতিবারের মধ্যে রাজ্যের উত্তরবঙ্গে বর্ষার প্রবেশের অত্যন্ত উজ্জ্বল সম্ভবনা। অনুকূল পরিস্থিতিতে নিজের কাঙ্খিত গতিতে এগোচ্ছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। আরো কিছুটা এগিয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতের বেশিরভাগ রাজ্যে গতকাল ঢুকে পড়লো বর্ষা। অসম এবং মেঘালয়ের কিছু অংশ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আওতায়। আগামী দুই দিনের মধ্যে সিকিম এবং উত্তরবঙ্গের সিংহ ভাগ অংশে ঢুকবে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। নিম্নচাপ তৈরি হলে তার সম্ভাব্য প্রভাব এবং সতর্কতা
নিম্নচাপের প্রভাবে সমুদ্র উত্তল থাকবে। উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং মধ্য বঙ্গোপসাগরে গভীর সমুদ্রে যেতে মৎস্যজীবীদের নিষেধাজ্ঞা কাল ২৮ মে বুধবার থেকে। ২৯ মে বৃহস্পতিবার থেকে ৩১ শে মে শনিবার পর্যন্ত বাংলা এবং উড়িষ্যা উপকূলে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা।

দক্ষিণবঙ্গ
আজ মঙ্গলবার বজ্রবিদ্যুৎ সহ হালকা মাঝারি বৃষ্টি দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতে। দিনভর দফায় দফায় বৃষ্টির সম্ভাবনা। বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা ঝড় বাতাস বইবে।
কাল বুধবার ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা উপকূলের জেলায়। উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস। বাকি সব জেলাতে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা ঝড় বাতাস বইবে।
পরশু বৃহস্পতিবার ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দশ জেলাতে। উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, বাঁকুড়া ও পশ্চিম বর্ধমান জেলাতে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা। বাকি সব জেলাতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা ঝড় বাতাস বইবে।
শুক্রবার ভারী থেকে অতি ভারী বা প্রবল বৃষ্টির সতর্কতা দক্ষিণবঙ্গের সাত জেলাতে। এগুলি হল পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর বাঁকুড়া বীরভূম এবং হুগলি। এই জেলাগুলিতে শুক্রবার ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টির আশঙ্কা। কলকাতা সহ বাকি জেলাতে ৭০ থেকে ১১০ মিলিমিটার অর্থাৎ ভারী বৃষ্টির সতর্কতা।
শনিবারেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা বীরভূম, মুর্শিদাবাদ জেলাতে।

আরও পড়ুন:Ajker Rashifal | Horoscope Today: সময় বুঝে এগোবেন মেষ, ধার দিলে বিপদে পড়তে পারেন ধনু…

উত্তরবঙ্গ
আজ মঙ্গল ও কাল বুধবার সতর্কতা না থাকলেও বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা মাঝারি বৃষ্টি বিক্ষিপ্তভাবে দু-এক জায়গায় হতে পারে। পরশু বৃহস্পতিবার থেকে ফের সর্তকতা। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস। প্রবল বৃষ্টি হতে পারে উত্তর দিনাজপুর ও কোচবিহারের দু এক জায়গায়। বিক্ষিপ্তভাবে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা এই দুই জেলার কিছু জায়গায়। দার্জিলিং থেকে মালদা সব জেলাতেই ভারী বৃষ্টির সতর্কতা।

শুক্রবার এবং শনিবার প্রবল বৃষ্টির আশঙ্কা উত্তরবঙ্গের উপরের দিকের পাঁচ জেলাতে। অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা বা প্রবল বৃষ্টির আশঙ্কা দার্জিলিং কালিম্পং আলিপুরদুয়ার কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি জেলাতে। বিক্ষিপ্তভাবে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা। মালদা উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা।
রবিবারেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা উত্তরবঙ্গে। বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা থাকবে দার্জিলিং কালিম্পং জলপাইগুড়ি আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলাতে।

কলকাতা
সম্পূর্ণ মেঘলা আকাশ। দিনের যেকোনওসময় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি। বৃষ্টি বন্ধ হলে গুমোট আর্দ্র অস্বস্তি তৈরি হবে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা আপাতত স্বাভাবিকের নিচে থাকবে। এই সপ্তাহে তা আর বাড়তে পারবে না। বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টি বাড়বে। শুক্রবার ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস। শনিবার বৃষ্টি হলেও তার পরিমান কিছুটা কমতে পারে। রবিবারও হালকা মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস।

পরিসংখ্যান
কাল রাতের তাপমাত্রা ২৫.৮ ডিগ্রি। স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় দেড় ডিগ্রি কম। কাল দিনের তাপমাত্রা ৩১.৩ ডিগ্রি। স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৪ ডিগ্রি কম। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমান ৭৭ থেকে ৯৭ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় বৃষ্টি হয়েছে প্রায় ৩৮ মিলিমিটার।

আরও পড়ুন:Rare Surgery In Hooghly: পেট ভার, খিদে নেই! প্রৌঢ়ার শরীরে ৮ কেজির টিউমার! অস্ত্রোপচারের পর…

কলকাতায় প্রাক বর্ষার বৃষ্টি
প্রাক বর্ষায় সন্তোষজনক বৃষ্টি প্রাপ্তি কলকাতার। মূল বর্ষায় কলকাতা সাধারণত দৈনিক গড়ে ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি পায়। বর্ষার ঘাটতির বছরগুলোতে এই পরিমান কমে গড়ে দৈনিক ৪৫ মিলিমিটার হয়ে থাকে। আর ফি বছর প্রাক বর্ষায় মোটামুটি ১৫ থেকে ২৫ মিলিমিটার দৈনিক বৃষ্টি কলকাতায় স্বাভাবিক। তবে গত ৫ দিনে কলকাতা (আলিপুর) ৮৪ মিলিমিটার বৃষ্টি পেয়েছে। বঙ্গোপসাগরে আজ নিম্নচাপ তৈরির সম্ভবনা প্রবল। তার জেরে বৃহস্পতি এবং শুক্রবার কলকাতা শহরেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। তার আগেই যথেষ্ট বৃষ্টি পেল কলকাতা।
গত বৃহস্পতিবার ৩৯ মিলিমিটার
মাঝে শুক্র শনি রবি মিলিয়ে ৮ মিলিমিটার
সোমবার ৩৮ মিলিমিটার
মোট ৮৫ মিলিমিটার
এর কারণ দিনের বিভিন্ন সময়ে পাসিং শাওয়ার বা চলমান মেঘ থেকে কলকাতা যে প্রাক বর্ষার বৃষ্টি পাচ্ছে তাতে মেঘের ঘনত্ব অনেক বেশি। সৌজন্যে বঙ্গোপসাগর এলাকায় আগাম বর্ষার প্রভাব এবং মৌসুমী বায়ুর আগাম সক্রিয়তা। ফলে দক্ষিণবঙ্গের নানা জেলায় অন্যান্যবারের থেকে এবারের পাসিং ক্লাউড অনেক বেশি ময়েশ্চার বা জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে বৃষ্টি নামাতে সক্ষম হচ্ছে।

(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের AppFacebookWhatsapp ChannelX (Twitter)YoutubeInstagram পেজ-চ্যানেল)





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *