সৌরভ চৌধুরী: কলকাতার নামকরা জায়গায় চোখের অপারেশন হয়েছিল। তার পরও প্রায় দুচোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজপুরের বাসিন্দা হীরক লাহিড়ী। তাকে তার পরিবার নিয়ে আসে নয়াগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। বর্তমানে সেখানে অস্ত্রপ্রচারের পর একটা চোখে সম্পূর্ণ দেখতে পাচ্ছেন তিনি। আগামী দিন আরেকটা চোখেও চিকিৎসা শুরু হবে। এরকম বহু জটিল অপারেশন করে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছে নয়াগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের চক্ষু বিভাগ। গত ৩ দিনে ১৩০টি ছানি অপারেশন সহ একাধিক সমস্যার অপারেশন করে নজির গড়ল এই সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল।
সীমান্ত লাগোয়া এই হাসপাতাল এখন শুধু ঝাড়গ্রাম জেলা নয়, পার্শ্ববর্তী জেলা পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পার্শ্ববর্তী রাজ্য ওড়িশার রোগীদের কাছেও বড় ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে। সুদুর কলকাতা থেকেও এখানে রোগীরা এসে পৌছচ্ছেন।
জঙ্গলে ঘেরা ছোট্ট জনপদ নয়াগ্রাম। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে এখানে স্থাপিত হয় একটি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। সম্প্রতি এখানে স্থাপিত হয়েছে ডায়ালিসিস ইউনিট ও সিসিইউ। ডায়ালিসিস ও সিসিউয়ের পাশাপাশি এই হাসপাতালের অত্যন্ত গর্বের বিষয় হল চক্ষু বিভাগ। হাসপাতাল সুপার ডাঃ দেবাশিস মাহাত জানান, দূর দুরান্ত থেকে মানুষ এখানে চোখের চিকিৎসা গ্রহণ করতে আসেন। ভোর থেকেই আউটডোরে লম্বা লাইন শুরু হয়। অন্যান্য চোখের অস্ত্রোপচারের পাশাপাশি গত বছর এই হাসপাতালে শুধু ছানি অপারেশানই হয়েছে ১৩০৮ টি।
আরও পড়ুন-টানা দুর্যোগ চলবে আগামী ৫ দিন, রাজ্যে নিম্নচাপের প্রভাব কতটা?
আরও পড়ুন-হঠাত্ মৃত্যু কিংবা হার্ট অ্যাটাকের পেছনে কোভিড ভ্যাকসিন! চাঞ্চল্যকর তথ্য AIIMS-ICMR এর গবেষণায়
হাসপাতালের চক্ষুসার্জেন ডাঃ শান্তনু পাত্র ১১৪৪ টি অপারেশন করেছেন। হাসপাতাল সুপার জানান এত সংখ্যক অপারেশন করার পরও অস্ত্রোপচারের তারিখ পাওয়ার জন্য রোগীদের দুই থেকে তিন সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হত। এই অপেক্ষার নিরসন করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। আউটডোর ও এমার্জেন্সি পরিষেবা অক্ষুন্ন রেখে জমে থাকা সমস্ত অপারেশান পর পর তিনদিনে শেষ করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তিনদিনে মোট ১৩০টি ছানি এবং জটিল অপারেশন হয়। হাসপাতালের সুপার ডাঃ দেবাশীষ মাহাত নিজে থেকে গোটা অপারেশনের তত্ত্বাবধান করেন। নেতৃত্ব দেন চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাঃ শান্তনু পাত্র। অপারেশান শেষে হাসপাতাল সুপার পুরো সার্জিক্যাল টিম কে এবং এই সেখানে যুক্ত ডেপুটি নার্সিং সুপারিনটেন্ডেট, নার্সিং ইনচার্জ, নার্সিংস্টাফ, ওয়ার্ডবয়, ওটিবয়, সুইপার সবাইকে শুভেচ্ছা জানান।
চক্ষু চিকিৎসক ডাঃ শান্তনু পাত্র জানান “এত সংখ্যক রোগীর অস্ত্রোপচার আমার কাছে একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। আমি স্টেরিলাইজেশন এবং অপারেশানের প্রতিটি ধাপকে গুরুত্ব দিয়েছি, পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এই তিনদিন মাইক্রোসার্জারির রোমাঞ্চ উপভোগ করেছি এবং সমস্ত রোগী ভালো আছে। রোগীরা উপকৃত হয়েছেন এটাই একজন চিকিৎসকের কাছে সবচেয়ে বড় পাওনা।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
