সন্দীপ প্রামাণিক: শোভন-রত্নার বিচ্ছেদ মামলার রায়ের পর স্বাভাবিকভাবেই চর্চার শেষ নেই। সেই মামলার পর খুশির মেজাজে শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বৈশাখী বন্দোপাধ্যায়। দুজনেই রায়ের পর মনে করছেন, তাদের নৈতিক জয় পেয়েছেন। তেমনই খুশি রত্না চট্টোপাধ্যায়ও। এদিন শোভন যদিও বলেন, ‘এই রায় বিচিত্র রায়। বুদ্ধিতে যার ব্যাখ্যা চলে না। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে একটা ধারা রয়েছে ৪৯৮। কিন্তু পুরুষরাও যে সমাজে কতটা অত্যাচারিত, তা আমি জীবন দিয়ে উপলব্ধি করেছি। প্রত্যেক মুহূর্তে। ২২ বছরের বৈবাহিক সম্পর্ক, আমি শখ করে ডিভোর্স মামলা করিনি।’
আরও পড়ুন, Vidyasagar Setu Closed: ফের ভোগান্তি! রবিবার প্রায় ষোলো ঘণ্টা বন্ধ থাকবে দ্বিতীয় হুগলি সেতু…
তাঁর কথায়, ‘আইনত বা সামাজিক স্ত্রীও নয়। সুতো দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। উনি তো শক্তিশালী। আমাকে শক্তিশালী বলা হচ্ছে কেন। আমি এমএলএ, এমপিও নই। উনি তো বিধায়ক, কাউন্সিলরও। ডেফিনেটলি বৈশাখী বড় শক্তি আমার। বৈশাখীর সঙ্গে হৃদয়ের মিল। ১২ সেপ্টেম্বর আমরা হাতে হাত দিয়ে একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, আজ সেটা সম্পূর্ণভাবে সিলমোহর পড়ল। বিবাহের যে আইনত বন্ধন আছে, সেটা সরু সুতোর মত, সেটা কিভাবে বিচ্ছিন্ন করা যায়, সেটা দেখব।’
২০১৭ সালে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। রত্নার বিরুদ্ধে নিষ্ঠুর আচরণ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি আদালতে আবেদন জানান। এমনকী এও অভিযোগ করেন, রত্না নিজের সন্তানদের প্রতিও উদাসীন। কিন্তু দীর্ঘ শুনানি চলার পর আদালতে কোনও অভিযোগই প্রমাণ করতে পারেননি শোভনের আইনজীবীরা। ফলে আদালত শোভনের বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন খারিজ করে দেয়।
শোভন-রত্নার পুত্র ঋষি চট্টোপাধ্যায়ও এই রায় শুনে খুশি হয়েছেন। তিনি আবার এও চান, বাবা তাঁদের কাছে ফিরে আসুন। সে পরিস্কার বলে, এখনও কিছু খারাপ হয়নি, দেরি হয়নি। বাবা ফিরে এলে আমরা সব ঠিক করে নেব। যদিও শোভনের মত ভিন্ন। শোভন জানান, ছেলে হিসেবে ওর যোগ্যতা আছে মিডিয়ার সামনে নিজের পরিচয় দেওয়ার? আমি তো ওর পরিচয় দেব না!
এই রায়ে বৈশাখীর অবশ্য মত, ৮-৯ বছর অনেক আঘাতের পর প্রস্তর হয়ে যেতে হয়। স্বামীকে না ফিরে পাওয়ার পর একজন হাসতে হাসতে বেরিয়ে এলেন। স্বামীকে ফিরে না পেয়ে কোনও দুঃখ নেই। যে সম্পর্ক প্রাণহীন, দুটো অবয়ব পড়ে আছে। আমার সঙ্গে শোভনের সম্পর্ক তলানিতে এলে, আমিই শোভনকে মুক্তি দেব। জোর করে অধিকার বোধের মানুষ আমি নই। শোভন মুক্ত পুরুষ।
শুধু শোভনের আইনি লড়াই দীর্ঘায়িত হল, সময় নষ্ট হবে। লড়াই জারি থাকবে। লড়াইয়ের মধ্যেই আমরা ভালবাসার রসদ খুঁজে নিই। শোভন আমায় বলেছে, যতদিন বাঁচব, আমি সুন্দর করে সংসার করতে চাই। আমার জয়ী মনে হয়, যখন ওঁকে ডাক্তার বলে আর ইনসুলিনের দরকার নেই।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)