চম্পক দত্ত: পারিবারিক বিবাদের জেরে চলে গেল এক তরতাজা প্রাণ। বলি হতে হল এক সাড়ে তিন বছরের শিশুকে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার দুপুরে মেদিনীপুর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ড হবিবপুর এলাকায়। পারিবারিক অশান্তি চরমে উঠেছিল। সেইসময় পরিবারের অসাবধানতায় বাড়ির পাশে থাকা একটি ডোবাতে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হল সাড়ে তিন বছরের এক শিশুর। ঘটনাকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এলাকায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মেদিনীপুর কোতোয়ালি থানার পুলিস।
স্থানীয় কাউন্সিলর এবং এলাকাবাসীদের দাবি দীর্ঘদিন ধরে নিরূপ গাঁতাইত ও স্ত্রী রুবি গাঁতাইতের মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকতো। নিরূপ মেদিনীপুর শহরের স্থানীয় একটি কাপড় দোকানের কর্মচারী। তার স্ত্রী বাড়ি বাড়ি কাজ করে মূলত উপার্জন করে সংসার চালায়। অভিযোগ, ভালোবেসে বিয়ে করার পর থেকেই নিরূপ তার স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর করত এবং তাতে সহযোগিতা করত রুবির শ্বশুর, শাশুড়ি।
রুবি এবং আত্মীয়দের আরো অভিযোগ, তার সন্তানকে তার কাছে আসতে দেওয়া হত না। শুক্রবারও এমন ঘটনা ঘটেছিল। নিরূপ তার স্ত্রীকে এমন মারধর করেছিল যে তার হাতে বড় চোট লাগে। তবুও কিন্তু স্ত্রী থানায় কোন অভিযোগ দায়ের করেনি। পরে স্থানীয় কাউন্সিলর এবং এলাকাবাসীরা গিয়ে সতর্ক করে দিয়ে এসেছিল ভবিষ্যতে এমন কোন ঘটনা যাতে না ঘটে। সবার সাথে আলোচনা করে দুটি ছেলের দায়িত্ব নিয়েছিল রুবির শাশুড়ি।
শনিবার দুপুরে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গেল। রুবি এদিন যথারীতি কাজ করতে গিয়েছিল লোকের বাড়িতে। ফিরে এসে রান্নার কাজ করছিল। এর মধ্যেই শ্বশুর শাশুড়ির সঙ্গে লেগে যায় তুমুল অশান্তি। সেই সময় বাড়ির বাইরে খেলা করছিল রবির ২ শিশু। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ দেখা যায় একজন শিশু নিখোঁজ। দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর বাড়ির পাশে একটি ডোবায় ভাসতে দেখা যায় ওই শিশুটিকে। তাকে উদ্ধার করে মেনদিপুর মেডিকেল কলেজে পাঠালে শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করে চিকিৎসকেরা।
আরও পড়ুন-কুর্সি থাকবে নীতীশ কুমারের! বিহার বিধানসভা ভোটের আগে জনমত সমীক্ষায় বিশাল চমক
আরও পড়ুন-হিমাচল প্রদেশে ট্রেকিংয়ে গিয়ে নিখোঁজ কলকাতার ৬ অভিযাত্রী, আতঙ্ক বাড়ছে পরিবারে
ঘটনার পরেই ভেঙে পড়ে শিশুর মা ও তার পরিবারের সদস্যরা। তারা অভিযোগ করেন এই ঘটনার জন্য সম্পূর্ণভাবে দায়ী তার স্বামী নীরূপ এবং তার শ্বশুর এবং শাশুড়ি। এলাকাবাসিরাও পাশে দাঁড়ায় শিশুটির মায়ের পক্ষে। পরে মেদিনীপুর কোতোয়ালি থানার পুলিস বাবা এবং ঠাকুমাকে আটক করে নিয়ে যায়।
কাউন্সিলর ইন্দ্রজিৎ পানিগ্রাহী জানিয়েছেন, বারবার বলা সত্ত্বেও এই পরিবারের লোকজন কোনভাবেই কথা শোনেননি। ক্রমাগত অত্যাচার চালিয়ে গেছে শিশুটির মায়ের উপর। পাশাপাশি শিশু দুটির উপরও তারা কোন নজর রাখেনি। ফলে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমরা চাই এদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক যাতে ভবিষ্যতে এরকম কাজ কেউ করতে সাহস না পায়।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)