জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: অনির্বাণ ভট্টাচার্যের (Anirban Bhattacharya) গানের দল ‘হুলি গান ইজ়ম’ (Hooligaanism) নিয়ে উত্তাল সংগীত দুনিয়া থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া, এমনকী রাজ্যরাজনীতিও। এই সময়ের কথা উঠে এসেছে তাঁদের গানে। আর তা নিয়েই শুরু তর্ক বিতর্ক। কেউ অনির্বাণের পাশে দাঁড়িয়েছে, কেউ আবার সমালোচনা করেছেন শিল্পীর। এই সমালোচনা আলোচনার মাঝেই অনির্বাণ ও তাঁর ব্যান্ডের পাশে দাঁড়ালেন তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)।
তসলিমা লেখেন, “অনির্বাণের হুলি গান ইজম তো বেশ লাগল। নতুন আইডিয়া, নতুন স্টাইল,আর হ্যাঁ নতুন চমক। জনপ্রিয় হবে কি না তা ভবিষ্যত বলবে। আপাতত মানুষ বলাবলি করছে। কেউ কেউ নাকি খুব অখুশি। তাতে কী! তাঁরাও কবির লড়াই করুন। সবাইকে খুশি করে চলা শিল্পী-সাহিত্যিকদের কাজ নয়”।
আরও পড়ুন- Sohini Ganguly: বিপদ জেনেও সোহিনীকে ফেলে ক্লাস করাতে চলে যান ডাক্তার! সেদিন সকাল থেকে কী কী ঘটেছিল?
সম্প্রতি কলকাতার একটি কনসার্টের মঞ্চ থেকে ভাইরাল তাঁদের গান। যে গানে তিন রাজনৈতিক দলের তিন প্রতিনিধিকে কটাক্ষ করে রয়েছে দু-এক লাইন। সেই তিন নেতা হলেন কুণাল ঘোষ , দিলীপ ঘোষ ও শতরূপ ঘোষ । সেই গানেই উঠে এসেছে SIR থেকে শুরু করে AI। সেই গানেই সনাতন এসেছে কিনা জিজ্ঞেস করেন গায়ক। সেই শব্দ থেকে শুরু বিতর্ক। অনির্বাণের নামে সাইবার ক্রাইম লালবাজারে অভিযোগ করেছেন বিজেপি নেতা তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আরেক বিজেপি নেতা ও অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষও।
অন্যদিকে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ সেই গানের ক্লিপটি শেয়ার করে লেখেন, “অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্যর নতুন ব্যান্ড ‘হুলি-গান-ইজম’ এর গানের অংশ। আমার মজা লেগেছে, ভালো লেগেছে। গানের ধরণ, উপস্থাপনাও উপভোগ করলাম। একটু তির্যক? তাতে কী!! কুণাল ঘোষ এসব মজা নিতে জানে। ভালো থেকো অনির্বাণ।” অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনির্বাণের বিরুদ্ধেও তৈরি হয়েছে একাধিক মিম। আরজিকর কাণ্ডে ও চাকরি দুর্নীতিতে কেন চুপ ছিলেন অভিনেতা, তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন, ”স্বাধীনতা সকলের রয়েছে তবে শালীনতা যেন ভঙ্গ না হয়। রসিকতা যেন শালীনতার বাইরে না যায় বা কারোর আদর্শ বা নীতিতে আঘাত না করে সে বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত। কেবলমাত্র জনপ্রিয়তা এবং মনোরঞ্জন করার জন্য যাকে যা ইচ্ছে বলার অধিকার কারও নেই। সে বিষয়ে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।”
ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োতে দেখা যায়, অনির্বাণ গাইছেন, “এসব গান-বাজনা ছাড়, চল প্রোমোটারি করি, বড় গাড়ি চড়ি / ইলেকশানের মেজাজ বুঝে দলটা বদল করি/ এই আমাদের দোষ/ গানবাজনা করতে এসে এসব কথা বললে/ রেগে যাবে কুণাল ঘোষ”। তবে শুধু কুণাল ঘোষই নয়, এরপরে নাম না করে হুলি গান ইজমের কটাক্ষ ছিল দিলীপ ঘোষের দিকে। গানের কথায়, “আরেক ঘোষও আছে/ দাদা খুবই রোমান্টিক/ ঘোষ দিয়ে যায় চেনা/ গয়না দোকান সব তুলে দাও, গোরুর দুধে সোনা।” অবশেষে আসে সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষের নাম। এরপরেই দেবরাজ ও অনির্বাণ গেয়ে ওঠেন, “আরেক ঘোষও আছে, ওই বিপ্লবীদের পার্টি/ টিভি চ্যানেলপার্টি অফিস বড্ড হাঁটাহাঁটি/তাই কিনেছে গাড়ি/দামটা বেশি খুব/ ফেসবুকেতেই রাজা মোদের দাদা শতরূপ”।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
