জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বাংলা ছবির শো পাওয়া ও না পাওয়ার সমস্যা যেন কিছুতেই কাটছে না। পুজোয় মুক্তি পেতে চলেছে চারটি বাংলা সিনেমা আর সেই সিনেমার শো (Pujo Release 2025) পাওয়া নিয়েই শুরু হয়েছে তর্ক বিতর্ক। ইতোমধ্যেই পছন্দমতো শো না পাওয়ার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, রক্তবীজ ২ (Raktabeej 2) ছবির কাহিনিকার জিনিয়া সেন। এরই মাঝে এই ইস্যুতে সোশ্যাল মিডিয়ায় তর্কে জড়ালেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) ও প্রযোজক রানা সরকার (Rana Sarkar)।
আরও পড়ুন- Umer Shah died: অকালেই ঝড়ে গেল ফুটফুটে প্রাণ! প্রয়াত ‘ভাইরাল’ শিশুশিল্পী আহমেদের ছোটভাই উমর…
কুণাল ঘোষ লেখেন, “টলিউডে চুক্তিভঙ্গের ইঙ্গিত। বাংলার সিনেমার স্বার্থে ঠিক হয়েছিল পুজোয় আসা সবকটি ছবি প্রথমে সমান সুযোগ পাবে। তারপর দর্শকের সাড়া অনুযায়ী বা ব্যবসা অনুযায়ী হল মালিকরা সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু যা খবর, ‘প্রভাবশালী’ একটি ছবি বাড়তি শো পাচ্ছে একাধিক হলে শুরু থেকেই। ‘রক্তবীজ ২’র মত প্রথম পর্ব সুপারহিট হওয়া ছবিকেও কোণঠাসা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে গোড়া থেকে। এটা কাম্য নয়। শুরুটা সবাই সমান সুযোগ পাক। তারপর দর্শকের বিচার। সেটা না হলে এত বৈঠকের মানে কী? যাঁরা বৈঠক করেছিলেন, তাঁরা এখন কী করছেন? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে নজর দিন। হল মালিকরাও বিষয়টায় নিরপেক্ষতা রাখুন। চারটি সিনেমা, রক্তবীজ টু, রঘু ডাকাত, দেবী চৌধুরানী, যত কান্ড কলকাতাতেই সমান সুযোগ পাক আত্মপ্রকাশে, তারপর দর্শকের বিচারে দৌড় চলুক। একটা ছবি নেপথ্য প্রভাবে শুরুর দিন থেকে বাড়তি শো পাবে, এসব হলে তার প্রতিবাদও হবে”।
কুণাল ঘোষের এই পোস্টের পরেই প্রযোজক রানা সরকার, যিনি দেবের শেষ ছবি ‘ধূমকেতু’র প্রযোজক ছিলেন, একটি পোস্টে লেখেন, দেব বিরোধী কেন কুণাল ঘোষ ? রঘু ডাকাতের পেছনে লাগছে কেন কুণাল ঘোষ ? বাংলা সিনেমা নিয়ে এখন এত কথা কেন বলেন কুণাল ঘোষ? কুণাল ঘোষের পেছনে টলিউডের কোন প্রোডাকশন হাউস ? ২০২৬ বিধানসভা ভোটের আগে কুণাল ঘোষের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বিষয়ে কথা বলা কি কোনো দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক স্ট্রাটেজি ? ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির লোক হিসেবে না, একজন সাধারণ রাজনৈতিক সচেতন বাঙালি হিসেবে আমার এই প্রশ্ন।”
আরও পড়ুন- Mimi Chakraborty: টানা ৯ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরা ইডির, কোন কোন প্রশ্নের মুখে পড়লেন মিমি?
ফের রানা সরকারের তোলা ছয়টি প্রশ্নের উত্তর দেন কুণাল ঘোষ। তিনি লেখেন:
1) কুণাল ঘোষ নায়ক দেবের বিরোধী নয়। টেক্কার আগের ইন্টারভিউটা মনে আছে? কিন্তু যে বা যারা এই সরকারকে ফেলার প্রচার করছে, প্রতিবাদের নামে কুৎসা করছে, তাদের কয়েকজনকে নিয়ে 2026-এর আগে ছবি করা, সেটাও কি ইঙ্গিতবাহী? ওওও রানাবাবু, যে নায়িকা বাংলায় সন্তানের জন্ম দিতে লজ্জা পান, তাকে নিয়ে ছবির জন্ম দিয়ে কী বার্তা দিচ্ছেন? যে মিঠুনদা সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার কুৎসা করছে, তাকে নিয়ে আদিখ্যেতা? কীসের ইঙ্গিত? আমি দেবকে পছন্দ করি কি না, দেব বুকে হাত রেখে বলুক। ওসব পর্ব আপনি জানেন না হয়ত। আমি ব্যক্তিগত বিষয় লিখতে চাই না।
2) আমি ধূমকেতুর লাগাতার প্রচার দিয়েছি আমি জড়িত থাকা সব কটা মিডিয়ায়। আমি কেন রঘু ডাকাতের বিরোধী হবো? ‘বিনোদিনী’ নিয়ে আমি কতটা ইমোশনালি ইনভলবড ছিলাম, রুক্মিনীকে জিজ্ঞেস করে নেবেন। ওওওও রানাবাবু, একটা কথা আছে জানেন তো, পড়ল কথা সবার মাঝে, যার কথা তার গায়ে বাজে। আপনার গায়ে বাজল, এবং আপনি লাফাচ্ছেন। ছেলেমানুষ। চাঁদ টাইপের। দেখতে ভালো, কিন্তু অন্যের আলোয় আলোকিত। আমি রঘু ডাকাতেরও সমর্থক, কারণ আমি বাংলা ছবির ভক্ত।
3) বাংলা সিনেমা নিয়ে কুণাল ঘোষ কথা বলে কেন? বেশ করে। কুণাল ঘোষ কেউ না, তা আপনি গুরুত্ব দেন কেন? কুণাল ঘোষ কথা বলে, তার কারণ, ক) আমি বাংলা ছবির দর্শক। খ) আমি একটি টেলিফিল্ম পরিচালনা করেছিলাম 2004এ, আনন্দবাজার পত্রিকা যেটিকে সপ্তাহের সেরা বাছাই বলে প্রকাশ করেছিল। গ) 2012 সালে আমি পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবি প্রযোজনা করেছিলাম, লাইন প্রোডিউসার ছিল রুদ্রনীলের কোম্পানি। অভিনয় তালিকা- ব্রাত্য, রাহুল, শাশ্বত, লকেট, পরম, পরাণবাবু এবং অতিথি শিল্পী মিঠুনদা। ঘ) আমি ইমপার সদস্য ছিলাম। ঙ) আমি সেন্সর বোর্ডের সদস্য ছিলাম। চ) আমার যোগাযোগের মিডিয়াগুলিতে আমি বাংলা নাটক ও সিনেমার সাধ্যমত প্রচার করি। ছ) আমার লেখা উপন্যাস থেকেও একটি ওটিটির কাজ হচ্ছে।
4) আমার পেছনে কেন প্রোডাকসন হাউস থাকবে? যখন টেক্কা বা খাদানের প্রশংসা করছিলাম, তখন তাহলে কারা ছিল? যখন কোনো সিনেমা, নাটককে দর্শকের কাছে তুলে ধরি, কে থাকে?? আমি আমার ভালোলাগা থেকে করি। কেউ কারুর কাজে সহযোগিতা চাইলে, ভালো লাগলে করি। গল্প, উপন্যাস, সিনেমা, থিয়েটার আমার ভালো লাগে। একটা বিষয় আপনার কথা থেকে পরিষ্কার, কোথাও আপনাদের প্রোডাকসনের প্রশংসা দেখলে বুঝতে হবে পেছনে আপনারাই আছেন। আপনারাই সাজিয়ে করান। আপনার মনোভাবেই স্পষ্ট।
5)) 2026-এর আগে কথা বলব কেন, অনেকদিন ধরে বলি। সিনেমা নিয়ে বলি, লিখি। অ্যাকাডেমি, গিরীশে নাটক দেখি। কাল কা যোগীরা অনেকেই এসব বুঝবে না। কিছু টাকা থাকা আর দুজন হিরোর সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেই বাংলা সিনেমার দাদাগিরির অধিকার পাওয়া যায় না। আর যদি 2026 ধরি আপনার কথায়, তাহলে টাটকা টাটকা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কুৎসাকারীদের নিয়ে ভোটের মুখে নাচানাচি কীসের ইঙ্গিত?
6) আসল কথায় আসি। পুজোয় চারটে সিনেমাই প্রথম সপ্তাহে সমান সুযোগ পাক। তারপর দর্শকের সাড়া অনুযায়ী হল মালিক সিদ্ধান্ত নিক। এই চুক্তির কথা বললেই আপনি লাফাচ্ছেন কেন?
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
