২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতিয়েছেন, নির্বাচকরা আর ফিরেও তাকান না! অবশেষে অবহেলায় ‘অবসর’ শ্রেয়সের?


জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: অজিত আগরকরের (Ajit Agarkar) জাতীয় নির্বাচক কমিটি, এশিয়া কাপের ১৫ সদস্যের স্কোয়াড (Asia Cup Squad 2025) বেছে নেওয়ার পরেই নেটপাড়া জ্বলেছিল ক্ষোভের দাবানালে। সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েও কী করে শ্রেয়স আইয়ার (Shreyas Iyer) দল থেকে বাদ পড়তে পারেন? এটা ভেবেই সকলে হতবাক হয়েছিলেন। শ্রেয়স বাদ পড়তে প্রাক্তন তারকারাও রে রে করে তেড়ে উঠেছিলেন। 

Add Zee News as a Preferred Source

কোথাও নেই শ্রেয়স!

৩০ বছরের মুম্বইকর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর দেশের জার্সিতে আর কোনও সংস্করণেই খেলার সুযোগ পাননি! অবশেষে কি এই অবহেলায় শ্রেয়স বলেই ফেললেন যে, তাঁকে যেন আপাতত ৬ মাসের জন্য মুক্তি দেওয়া হোক! ভারত এশিয়া কাপের ফাইনালে ওঠার পরদিনই, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে আসন্ন টেস্ট সিরিজের দল ঘোষণা করেছে ভারত। উইন্ডিজের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে দু’ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবেন শুভমন গিলরা। ১৫ সদস্যের দলে নাম নেই শ্রেয়সের। এখানেও শেষ নয়। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ইরানি ট্রফি এবং অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের বিরুদ্ধে বেসরকারি ওডিআই সিরিজের জন্য ইন্ডিয়া ‘এ’ দল বেছে নিয়েছে। এমনকী ইরানি ট্রফির জন্য রেস্ট অফ ইন্ডিয়া দলও বাছা হয়েছে। কোথাও নাম নেই শ্রেয়সের! 

আরও পড়ুন: ১৪ বছরেই বিশ্বরেকর্ড! সূর্যের বৈভবে ঢাকল ‘চাঁদ’, ৬ ৬ ৬ ৬ ৬ ৬ হাঁকাল কিশোর ওস্তাদ…

শ্রেয়সের অনুপস্থিতি

শ্রেয়সের প্রসঙ্গে বিসিসিআই বিবৃতি দিয়ে বলেছে, ‘মিস্টার শ্রেয়স আইয়ার লাল বলের ক্রিকেট থেকে ছ’মাসের বিরতির সিদ্ধান্তের কথা বিসিসিআইকে জানিয়েছেন। ব্রিটিনে পিঠের অস্ত্রোপচারের পর তিনি ভালো ভাবে আরোগ্য় হয়েছিল। তবে সম্প্রতি দীর্ঘ ফর্ম্যাটে খেলার সময় তিনি বারবার পিঠে ব্যথা অনুভব করেছেন। এর সঙ্গেই পিঠ শক্ত হয়ে যাচ্ছে। তিনি ​​শরীরের স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে এনডিওরেন্স তৈরি করতে চাইছেন। এবং ফিটনেসের উপর কাজ করবেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতেই ইরানি কাপের জন্য তাঁকে নির্বাচনের জন্য বিবেচনা করা হয়নি।’ অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় প্রথম-শ্রেণির ম্যাচের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই বড় আপডেট এসেছিল। অধিনায়কত্বের সঙ্গেই  ‘ইন্ডিয়া এ’ দলে ছেড়ে দেশে ফিরে এসেছিলেন শ্রেয়স আইয়ার! জানা গিয়েছিল তাঁর সিদ্ধান্ত একেবারে ‘ব্যক্তিগত’। শ্রেয়সের শেষ মুহূর্তে দল ছাড়ায় অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচে ‘ইন্ডিয়া এ’-র অধিনায়ক হিসাবে ধ্রুব জুরেলকে বেছে নিয়েছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে শ্রেয়স যথাক্রমে ৮ এবং ১৩ রান করেছিলেন। যদিও শ্রেয়স ভুল আম্পায়ারিংয়ের শিকার হয়েছিলেন বলেই মনে করা হচ্ছে। 

আরও পড়ুন: আচমকাই চড়চড়িয়ে বাড়ল আটারি-ওয়াঘার উত্তেজনা, শত্রুকে জলে মারার পর এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চেও ভারত…

আগরকর বলছেন…

দুবাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ভারতের দল বেছে নেওয়ার পর, আগরকর সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন। সেখানে তিনি শ্রেয়সের প্রসঙ্গে বলেন, ‘শ্রেয়সের ফিটনেসের প্রসঙ্গে একটি বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে। বলাই হয়েছে যে, লাল বলের ক্রিকেটে তাকে পাওয়া যাবে না। এটি আমাদের কাছে সুযোগ দেয়। গত কয়েক বছর ধরে শ্রেয়স একদিনের ক্রিকেটের এক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আগে ওর কাছে তিনটি ম্যাচ আছে। সর্বোপরি, আমরা চাই ও ভালো খেলুক এবং কারণ সে একদিনের দলে এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠেছে।’

শ্রেয়স ওডিআই অধিনায়ক?
 
শ্রেয়সকে কি এবার ওডিআই অধিনায়ক হিসাবে দেখা যাবে? এই প্রশ্নে আগরকর বলেন, ‘আমার মনে হয় না যে, আমরা ৫০ ওভারের ফর্ম্যাট নিয়ে আলোচনা করেছি। এই মুহূর্তে আমাদের এই দুটি টেস্ট ম্যাচের জন্য দল নির্বাচন করতে হয়েছে। শ্রেয়স সিনিয়র খেলোয়াড়। আইপিএল ক্রিকেটে ও তার ফ্র্যাঞ্চাইজিকে নেতৃত্ব দেয়। সে ভারত এ দলের অধিনায়কও ছিল। এমন নয় যে, আমরা ওকে টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে দেখছি। আমরা অনেকের মধ্যে নেতার গুণাবলী খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি এবং ভারত এ আমাদের সুযোগ করে দেয় যে কার মধ্যে সেই ক্ষমতা আছে তা দেখার।’

আরও পড়ুন: ১৬০০০+ রান, সর্বোচ্চ ৩০৩*! মহারথীকে বাদ দিয়েই টেস্ট টিম ভারতের, পন্থেরও জায়গা হল না

দারুণ ছন্দে শ্রেয়স আইয়ার

ইংল্যান্ড সফরে বাদ পড়ার পর চলতি এশিয়া কাপেও শ্রেয়সকে দলে নেওয়া হয়নি। মিডল অর্ডারের এই তারকা তিন সংস্করণেই দলের এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হওয়ার কঠোর পরিশ্রম করছেন। শ্রেয়স ইতিমধ্যেই ভারতের ওডিআই সংস্করণে বড় নাম। গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ে বিরাট ভূমিকা ছিল শ্রেয়সের। ওডিআই-তে জায়গা পাকা করলেও শ্রেয়স বাকি দুই সংস্করণে নির্বাচনের ক্ষেত্রে লড়ছেন। ২০২৩ থেকে শ্রেয়স দেশের জার্সিতে ক্ষুদ্রতম সংস্করণে খেলেননি। বিগত দুই মরসুমে শ্রেয়সের টি-টোয়েন্টি রেকর্ড চমকে দেওয়ার মতো। পঞ্জাব কিংসের হয়ে চলতি আইপিএলে প্রীতি জিন্টার দলের অধিনায়ক আলো ছড়িয়েছেন। ১৭৫.০৭-এর স্ট্রাইক রেটে ৬০৪ রান করেছিলেন ৫০.৩৩- এর গড়ে। স্পিনের বিরুদ্ধে তাঁর আধিপত্য ছিল দেখার মতো। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট এবং ঘরোয়া ক্রিকেট মিলিয়ে সোনালি দৌড়ে ছিলেন তিনি। বিগত দু’বছরে, তিনি কলকাতা নাইট রাইডার্সকে আইপিএল খেতাব জিতিয়েছেন ২০২৪ সালে। সৈয়দ মুসতাক আলি ট্রফিতে মুম্বইকে জিতিয়েছেন। সোবো মুম্বই ফ্যালকনসকে মুম্বই টি-টোয়েন্টি লিগের ফাইনালে নিয়ে গিয়েছিলেন। এবার আইপিএলে প্রথমবার পঞ্জাবের দায়িত্ব নিয়েই ফাইনালে তুলেছেন। তাঁর সাফল্য শুধু সাদা বলের ক্রিকেটেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ২০২৩-২৪ সালে মুম্বইয়ের রঞ্জি ট্রফি জয়ের অংশ ছিলেন। তারপরে ইরানি কাপ জিতেছিলেন। চলতি বছরের শুরুতে ভারতকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতাতেও রেখেছেন অবদান। 

 

(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের AppFacebookWhatsapp ChannelX (Twitter)YoutubeInstagram পেজ-চ্যানেল)





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *