অরূপ লাহা: পুজোয় মেতেছেন তৃণমূল ব্লক সভাপতি। শারদ উৎসবের আবহে রাজনৈতিক সমীকরণও বদলাচ্ছে আউশগ্রামে। পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সেখ আবদুল লালন এ বছর রীতিমতো কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পুজোর আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন। জনসংযোগে তাঁর সক্রিয়তা এবার আরও স্পষ্ট। লোকসভা ভোটের পর থেকেই আউশগ্রাম বিধানসভায় বিধায়ক অভেদানন্দ থাণ্ডারের সঙ্গে লালনের দূরত্ব বাড়তে শুরু করে। সাম্প্রতিক সময়ে সেই ফাটল আরও প্রকট।
বিধায়ক অভেদানন্দ থাণ্ডার যেখানে বোলপুরে স্থায়ীভাবে থাকেন, সেখানে স্থানীয় পুজো মণ্ডপে লালনের কার্যত একচ্ছত্র দাপট। বিধায়ককে ছাপিয়ে জনসংযোগে এগিয়ে সেখ আবদুল লালন। গত শুক্রবার আউশগ্রামের গোপালপুর উল্লাসপুর সার্বজনীন দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করেন তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ দোলা সেন। উপস্থিত ছিলেন বলাগড়ের বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী। কিন্তু অনুপস্থিত ছিলেন এলাকার বিধায়ক অভেদানন্দ থাণ্ডার। আর সেই জায়গাতেই জনসংযোগের ময়দানে এগিয়ে গেছেন সেখ আবদুল লালন।
আয়োজকদের দাবি, গোপালপুর উল্লাসপুর সার্বজনীন দুর্গোৎসব আউশগ্রামের সবথেকে বড়, তবে আকৃতিতে নয়— ঐতিহ্যে। অতীতে কৃষক, দেহজীবী, বৃহন্নলদের সম্মান জানিয়েছে এই পুজো। এবার আলোকচিত্রের বাইরে থাকা পাঁচজন আদিবাসী মহিলাকে আসন দেওয়া হয়েছে পুজোর বেদীতে। অষ্টম বর্ষে তাদের থিম— “বাংলার বই গ্রাম”।
যদিও লালন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের কথা অস্বীকার করে জানিয়েছেন, আমি বরাবরই পুজোর সঙ্গে যুক্ত থাকি। রাজনীতির জন্য নয়, সমাজের জন্য এই উদ্যোগে আছি। অন্যদিকে আয়োজক রাধামাধব মণ্ডল বলেন, আমাদের পুজো ঐতিহ্যের, মানুষের। এবারে আদিবাসী মহিলাদের গুরুত্ব দিয়ে আমরা নতুন দৃষ্টান্ত রাখতে চাই। তবে পুজোর মঞ্চে সভাপতির এই সক্রিয়তা বিধায়ককে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলেছে বলেই আলোচনা এখন আউশগ্রমের জনপদে।
আরও পড়ুন, Nadia: পাঁশকুড়ার চিপস কাণ্ডের ছায়া! দোকানদারের ‘চোর’ অপবাদ, বাড়ি এসে চরম পদক্ষেপ এগারোর বিট্টুর…
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
