জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ স্পোর্ট জেনারেল অ্যাসেম্বলিতে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস! এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমসের আয়োজক হিসেবে নির্বাচিত হলো ভারতের আমদাবাদ। ক্রীড়াজগতের এই অন্যতম সেরা আসরের শতবর্ষ পূর্তির দায়িত্ব পেল ভারত—যা দেশের সম্মান ও বৈশ্বিক মর্যাদায় এক নতুন সোনালী পালক যোগ করল।
আরও পড়ুন: Gautam Gambhir: গুয়াহাটিতে লজ্জা ঢাকার জায়গা নেই! এরপরও কি কোচ থাকবেন গম্ভীর? প্রশ্ন উঠছেই…
দূরদর্শী পরিকল্পনা: ‘নতুন শতকের জন্য নতুন আঙ্গিকের গেমস’
“New Age Games for a New Century” (নতুন শতকের জন্য নতুন আঙ্গিকের গেমস)—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আমদাবাদের প্রস্তাবনাটি গোটা অ্যাসেম্বলিকে মুগ্ধ করেছে। এই দূরদর্শী পরিকল্পনা কমনওয়েলথ স্পোর্টসের মূলনীতি, অর্থাৎ, সাশ্রয়, নমনীয়তা এবং দীর্ঘমেয়াদী লিগ্যাসির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হিসেবে ভারত এই ক্রীড়াযজ্ঞে যে масштаб ও প্রাণশক্তি নিয়ে আসছে, তাকে স্বাগত জানিয়েছেন কমনওয়েলথ স্পোর্টসের কর্তাব্যক্তিরা।
ক্রীড়াযজ্ঞের মূল কেন্দ্রবিন্দু: অত্যাধুনিক এনক্লেভ
গেমসের প্রধান ভেন্যু হিসাবে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে এশিয়ার বৃহত্তম মাল্টি-স্পোর্টস ডেভেলপমেন্ট—সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল স্পোর্টস এনক্লেভ। শুধু এই প্রধান কেন্দ্রই নয়, গুজরাট পুলিশ অ্যাকাডেমি এবং বীর সাভারকর স্পোর্টস কমপ্লেক্সের মতো বিশ্বমানের ভেন্যুগুলিও প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই পরিকাঠামো নিশ্চিত করছে—
প্রতিটি ইভেন্টে প্যারা-স্পোর্টস-এর সর্বজনীন উপস্থিতি (Inclusivity)।
পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ও জিরো-ওয়েস্ট পরিচালনার মাধ্যমে স্থায়িত্বের সর্বোচ্চ মানদণ্ড (Sustainability)।
ক্রীড়াবিদদের জন্য অত্যাধুনিক থাকার জায়গা ও ডিজিটাল সুবিধা।
বিকশিত ভারত ও গুজরাট: সুদূরপ্রসারী প্রভাব
এই মেগা ইভেন্ট কেবল খেলাধূলাকে উৎসাহ দেবে না, বরং ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত ও বিকশিত গুজরাট গড়ার জাতীয় স্বপ্নকে আরও গতি দেবে। আমদাবাদকে ভারতের ‘স্পোর্টিং ক্যাপিটাল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি এটি লক্ষ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করবে এবং রাজ্যের পর্যটন শিল্পকে নতুন দিশা দেবে।
কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রী মনসুখ এল. মাণ্ডবীয় বলেন, “আমদাবাদের এই অর্জন আমাদের জাতীয় উন্নয়নের লক্ষ্য এবং বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ আয়োজক দেশ হিসেবে ভারতের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে।”
গুজরাটের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাংভি গর্বের সঙ্গে বলেন, “এই শতবর্ষের গেমস আয়োজন করা আমাদের জন্য সম্মান ও দায়িত্ব উভয়ই। আমদাবাদ প্রস্তুত তার প্রগতি, আতিথেয়তা ও মূল্যবোধ—একতা, স্থায়িত্ব এবং শ্রেষ্ঠত্বের বার্তা নিয়ে বিশ্বকে স্বাগত জানাতে।”
ভারত সরকার, গুজরাট সরকার ও CGA ইন্ডিয়ার মিলিত প্রচেষ্টার ফসল এই সাফল্য। আমদাবাদের এই আয়োজন নিঃসন্দেহে কমনওয়েলথ ক্রীড়া আন্দোলনের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করতে চলেছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
