দেবাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়: বিসিসিআইয়ের (BCCI) নির্দেশ মেনেই কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR) দলের একমাত্র বিদেশি ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে (Mustafizur Rahman) ছেড়ে দিয়েছে। বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে, পদ্মাপাড়ের পেসারের দলে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। রাজনৈতিক নেতা থেকে আধ্যাত্মিক গুরুরা কেকেআরের অন্যতম কর্ণধার ও ভারতের আইকনিক ব্যক্তিত্ব শাহরুখ খানকেই (Shah Rukh Khan) আসামির কাঠগড়ায় তুলেছিলেন। মুস্তাফিজুরকে নেওয়ায় তিনবারের আইপিলজয়ী ফ্র্যাঞ্চাইজি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝেই ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা মুস্তাফিজুরকে সরানোর নিদান দেয়।
ভারতের বদলে বিকল্প ভেন্যু শ্রীলঙ্কা!
মুস্তাফিজুরকে ছেড়ে দেওয়া একেবারেই ভালো ভাবে মেনে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। সেই দেশের অন্তর্বর্তীকালীন মহম্মদ ইউনূসের সরকার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপে ম্যাচগুলির ভেন্যু পরিবর্তনের জন্য অনুরোধের নির্দেশ দিয়েছিল। ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরানোর আবেদন জানাতে বলা হয়েছিল। বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বিষয়টি নিশ্চিত করে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। নজরুল জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিসিবিকে নির্দেশ দিয়েছে আনুষ্ঠানিক ভাবে ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়টি আইসিসি-কে জানাতে। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলি যেন বিকল্প ভেন্যু হিসেবে শ্রীলঙ্কায় দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: নববর্ষের প্রথম রবি সকালেই ময়দানে আঁধার! সন্তানকে হারালেন দেশের কিংবদন্তি বাঙালি ফুটবলার…
আসিফ নজরুলের ফেসবুক পোস্ট
‘উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর কাছে নতি স্বীকার করে বাংলাদেশের ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দেওয়ার জন্য কলকাতা নাইট রাইডার্সকে নির্দেশ দিয়েছে ভারতের ক্রিকেট বোর্ড। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা হিসেবে আমি ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডকে বলেছি তারা যেন আইসিসির কাছে পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করে লিখে। বোর্ড যেন জানিয়ে দেয় যে যেখানে বাংলাদেশের একজন ক্রিকেটার চুক্তিবদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও ভারতে খেলতে পারেন না, সেখানে বাংলাদেশের গোটা ক্রিকেট টিম বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া নিরাপদ মনে করতে পারেনা। বোর্ড থেকে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলাগুলো শ্রীলংকায় অনুষ্ঠিত করার অনুরোধ জানানোর নির্দেশনাও আমি দিয়েছি। আমি তথ্য এবং সম্প্রচার উপদেষ্টাকে অনুরোধ করেছি বাংলাদেশ আইপিএল খেলার সম্প্রচারও যেন বন্ধ করে দেয়া হয়! আমরা কোন অবস্থাতেই বাংলাদেশের ক্রিকেট, ক্রিকেটার ও বাংলাদেশকে অবমাননা মেনে নিব না। গোলামীর দিন শেষ’
এখন কী পরিস্থিতি
এখনও আইসিসির কাছে চিঠি দেয়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। কী পরিপ্রেক্ষিতে চিঠি দেবে, তা নিয়েই চলছে পর্যালোচনা। গত শনিবার রাত পর্যন্ত হম্বিতম্বি করলেও শেষমেশ ভারত থেকে বিশ্বকাপের ম্যাচ সরানোর দাবি জানিয়ে আইসিসিকে লেখা চিঠিতে জানাবে না বিসিবি। এখনও পর্যন্ত যা খবর, তাতে আইসিসিকে চিঠি পাঠিয়ে ভারতে ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগপ্রকাশ করা হতে পারে। নিরাপত্তার বিষয়ে কী কী পদক্ষেপ করা হচ্ছে সেটা জানতে চাওয়া হতে পারে। কিন্তু ম্যাচ সরানোর দাবি তাতে থাকবে না। এমনই খবর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সূত্রে।
আরও পড়ুন: মুস্তাফিজুর বিয়োগে ৯.২ কোটি যোগ, কেকেআর বিকল্প পাবে! টার্গেটে এই তারকারাই…
ভয় কাঁপছে বাংলাদেশ
বিসিসিআইয়ের মতো শক্তিশালী সংস্থার বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করার ক্ষমতাই বাংলাদেশের নেই। সেটা মেনে নিয়েছেন সেদেশের বোর্ড প্রেসিডেন্ট আমিনুল হক বুলবুল। শেষ মুহূর্তে ক্রীড়া উপদেষ্টা নজরুলের সঙ্গে রবিবার (৪ জানুয়ারি সকালে) সহমত হয়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। বিসিবি বুঝতে পেরেছে, মাত্র এক মাসের মধ্যে বিশ্বকাপের ভেন্যুবদল সম্ভব নয়। তাছাড়া, এখন আইসিসির চেয়ারে ভারতের জয় শাহ। তিনি একই সঙ্গে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পুত্রও। ফলে বাংলাদেশ যদি আইসিসি-র দ্বারস্থ হয়, তাতেও কতটা লাভ হবে তা নিয়ে সংশয় থাকছে। উলটে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ না খেলতে চাইলে তাঁদের উপর অন্য কোনও শাস্তি নেমে আসতে পারে।

আরও পড়ুন: ইউনূসের বাংলাদেশে তীব্র ভারত বিদ্বেষ, IPL থেকে বাদ KKR-এর মুস্তাফিজুর…
বিসিবি বুঝে গিয়েছে যা বোঝার
আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল পাঠাতে চায় না, এ খবর প্রকাশ্যে আসার পর বিসিসিআইয়ের সূত্র সাফ বলে দেয়, কারও ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছার ভিত্তিতে বিশ্বক্রিকেট চলবে না। মাত্র এক মাস পর বিশ্বকাপ। এর মধ্যে বাংলাদেশের এতগুলি ম্যাচ সরানো পদ্ধতিগত ভাবে অসম্ভব। তাছাড়া বিপক্ষ দলগুলির কথাও ভাবতে হবে। তাদের বিমান ভাড়া, হোটেল সব বুক হয়ে গিয়েছে। আরও একটা পদ্ধতিগত সমস্যার কথা বলছে ভারতীয় বোর্ড। বিসিসিআই সূত্র বলছে, প্রতিদিন তিনটি করে ম্যাচ হওয়ার কথা। দু’টি ভারতে একটি শ্রীলঙ্কায়। এবার নতুন করে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ সরালে সম্প্রচারে বড় সমস্যা হবে। মাত্র একমাসের নোটিসে বিশ্বকাপের ম্যাচ সরানো যে কার্যত অসম্ভব, সেই বাস্তব বুঝতে পারছে বিসিবিও। সেকারণে ম্যাচ সরানোর আবেদন করা হবে না বলেই এখনও পর্যন্ত খবর। তবে রাজনৈতিক চাপ রয়েছে, ক্রিকেটপ্রেমীদের অসন্তোষ রয়েছে। তাই ভারতের উপর চাপ দেওয়া হচ্ছে, এমন ভাব দেখাতে আইসিসিকে একটি চিঠি দেবে বিসিবি। যাতে মূলত নিরাপত্তার বন্দোবস্ত নিয়ে জানতে চাইবে তারা। অর্থাৎ রণংদেহী মেজাজ থেকে অনেকটাই পিছিয়ে আসছে তারা।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
