দেবব্রত ঘোষ: ফের SIR আতঙ্কে মৃত্যু! বিডিও অফিসে শুনানি লাইনে দাঁড়িয়ে মাখা ঘুরিয়ে পড়ে গেলেন এক ব্যক্তি। শেষে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু হল। ঘটনার ছবি ধরা পড়ল সিসিটিভি ক্য়ামেরায়। এবার হাওড়া।
আরও পড়ুন: Abhishek Banerjee: মতুয়াগড়ে অভিষেক, তাহেরপুরের সভা শেষে গেলেন ঠাকুরবাড়িতে…
নজরে ছাব্বিশ। বাংলায় SIR। খসড়া তালিকায় প্রকাশের পর এখন চলছে শুনানি। প্রথম দফায় শুনানিতে ডাকা হচ্ছে মূলত ‘ম্যাপিং’য়ের বাইরে থাকা ভোটারদের। কিন্তু সেই প্রক্রিয়াতেও অব্যবস্থার অভিযোগ উঠেছে। হাওড়ায় শুনানিতে হাজিরা দিতে এসে প্রাণ গেল এক ব্যক্তির।
জানা গিয়েছে, মৃতের নাম মদন ঘোষ। লিলুয়ার চকপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন তিনি। ভোট দিতেন ডোমজুড় বিধানসভা কেন্দ্রের ২৩৪ নম্বর বুথের। পরিবারের লোকেদের দাবি, ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে নাম ছিল মদনের। কিন্তু তাও নাকি শুনানিতে ডাকা হয়েছিল!রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন ওই বৃদ্ধ। আজ, শুক্রবার বালি জগাছা বিডিও অফিসে শুনানি কেন্দ্রে যান তিনি।
এদিকে বিডিও অফিসের সামনে তখন লম্বা লাইন। লাইনের সামনে দাঁড়িয়ে হঠাত্ অসুস্থ হয়ে পড়েন মদন। মাথা ঘুরে পড়ে যান রাস্তায়! এরপর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু হয় মদনের।
SIR Hearing Incident | শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে মাথা ঘুরে পড়ে ১ বৃদ্ধর মৃত্যু! | CCTV Footage | Zee 24 Ghanta #SIRHearing #SIRinBengal #Zee24Ghanta #Latest pic.twitter.com/Wu1vG1Qaon
— zee24ghanta (@Zee24Ghanta) January 9, 2026
দিন কয়েক আগেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরে SIR আতঙ্কে মৃত্যু হয় এক বৃদ্ধের। পরিবারের দাবি, ২০০২ সালের তালিকায় নিজের নাম খুঁজে না পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বছর ৬৮-এর নাজিতুল মোল্লা। হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় তাঁকে। আর ঠিক তখনই আসে SIR শুনানির ডাক। শারীরিক অবস্থার কথা উপেক্ষা করেই নাকে অক্সিজেনের নল গুঁজে শুনানিতে হাজির হন নাজিতুল। পরিবারের দাবি, অসুস্থ শরীরের শুনানিতে যাওয়া-আসার ধকল ধকল সহ্য করতে পারেননি। শুনানি শেষে যখন ফের হাসপাতালে ফিরছিলেন, তখনই মৃত্যু হয় ওই বৃদ্ধের।
হুগলিতে শুনানির ডাক পাওয়ার আত্মঘাতী যুবক। স্থানীয় সূত্রের খবর, মৃতের নাম স্বপন বাগদি। সপ্তগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের তিসবিঘা এলাকায় বাসিন্দা ছিলেন তিনি। ভোট দিতেন ওই অঞ্চলেরই ৭৮ নম্বর বুথে। গতকাল, মঙ্গলবার রাতে নিজের বাড়িতেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন স্বপন। স্ত্রীর দাবি, ‘ভোটার কার্ড ছাড়া আমার স্বামীর আর কোনও কাগজ ছিল না। BLO ফোন করে শুনানিতে যেতে বলেছিল। কাগজ নিয়ে আতঙ্কে ছিল। আমার সঙ্গে ঝগড়া করে আত্মহত্য়া করেছে’।
এদিকে যেদিন SIR শুনানি দিনেই রেললাইন থেকে উদ্ধার হয় বছর বিরাশির দুর্জন মাঝির দেহ। পুরুলিয়ার পাড়া ব্লকের চৌতালা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন তিনি। কিন্তু SIR-র পর খসড়া ভোটার তালিকায় নাম ছিল না আদিবাসী সম্প্রদায়ের সম্প্রদায়ের ওই বৃদ্ধের। শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। যেদিন শুনানি ছিল, সেদিন সাতসকালে গ্রামের পাশেই দুর্জনের দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিবারের দাবি, SIR-র খসড়া তালিকায় নাম না থাকায় আতঙ্কের ভুগছিলেন দুর্জন। সেকারণেই আত্মহত্যা করেছেন তিনি।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
