জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ইউনূসের বাংলাদেশে যখন একের পর এক হিন্দু নিধনের খবর আসছে। তখনই জেলের ভেতর রহস্যজনক মৃত্যু হল বাংলাদেশের জনপ্রিয় গায়ক প্রলয় চাকীর। কী কারণে মৃত্যু হল তাঁর। পুলিশি হেফাজতে কী ঘটেছিল? তাঁর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। জেল কর্তৃপক্ষ এই মৃত্যুকে ‘স্বাভাবিক’ বলে দাবি করলেও, প্রলয়বাবুর পরিবারের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তাঁদের দাবি, বিনা মামলায় গ্রেফতারের পর জেলে সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ার কারণেই মৃত্যু হয়েছে এই প্রবীণ শিল্পীর।
আটের দশকের হার্টথ্রব গায়ক এবং বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামি লিগের প্রথম সারির নেতা প্রলয় চাকীর জীবনাবসান হয়েছে। গত রবিবার রাত ৯টা নাগাদ রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (আরএমসিএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল। পুলিসি হেফাজতে থাকাকালীন আচমকা শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল।
পাবনা জেলা জেল সুপার ওমর ফারুক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রলয় চাকী দীর্ঘকাল ধরে হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং মধুমেহ (ডায়াবেটিস) সমস্যায় ভুগছিলেন। জেলে থাকাকালীন শুক্রবার রাতে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তাঁকে প্রথমে পাবনা সদর হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়। শনিবার থেকে সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর রবিবার রাতে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি মারা যান।
পরিবারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ প্রলয় চাকির ছেলে সনি চাকি সরাসরি জেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেন, “বাবাকে যখন গ্রেফতার করা হয়, তখন তাঁর নামে কোনও সুনির্দিষ্ট মামলা ছিল না। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। জেলে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও আমাদের সরকারিভাবে কিছুই জানানো হয়নি।” সনি আরও দাবি করেন যে, অন্য মাধ্যমে খবর পেয়ে তাঁরা হাসপাতালে পৌঁছান, কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। সঠিক চিকিৎসার অভাবেই তাঁর বাবার মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
জেল কর্তৃপক্ষের বয়ান অন্যদিকে, পাবনা জেল সুপার মহম্মদ ওমর ফারুক যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, এটি একটি স্বাভাবিক মৃত্যু। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, “শুক্রবার তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হলে দ্রুত পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয় এবং রবিবার রাত ৯টা নাগাদ তিনি মারা যান।”
আশির ও নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতে প্রলয় চাকী ছিল এক উজ্জ্বল নাম। বিটিভির পর্দায় তাঁর গান শোনেনি এমন মানুষ মেলা ভার। মূলত তাঁর ভাই মলয় চাকীর সঙ্গে জুটি বেঁধে ‘চাকী ব্রাদার্স’ নামে তাঁরা দেশজুড়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। তাঁদের দরদী ও মরমী কণ্ঠস্বর সে সময়কার তরুণ প্রজন্মের মুখে মুখে ঘুরত। তাঁর মৃত্যুতে বাংলা সঙ্গীতের একটি স্বর্ণযুগ শেষ হলো বলে মনে করছেন ভক্তরা।
গায়ক পরিচয়ের পাশাপাশি প্রলয় চাকী পাবনা জেলা আওয়ামি লিগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন এবং নিজ জেলায় দলের একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি হেফাজতে ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর সঠিক কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্তের দাবি উঠেছে। বিতর্কের মুখে প্রয়াণ আশির দশকের জনপ্রিয় ‘চাকি ব্রাদার্স’-এর অন্যতম সদস্য প্রলয় চাকিকে ঘিরে এখন শোকের পাশাপাশি ক্ষোভ দানা বাঁধছে। একজন প্রথিতযশা শিল্পী ও রাজনৈতিক কর্মীর এমন মৃত্যুতে এখন প্রশ্ন উঠছে মানবাধিকার ও জেলবন্দিদের চিকিৎসার অধিকার নিয়ে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
