জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বলিউডের চিরকালীন গ্ল্যামারাস ও রহস্যময়ী অভিনেত্রী পরভীন ববির প্রয়াণ দিবসে প্রকাশ্যে এল তাঁর জীবনের এক অজানা ও মানবিক দিক। পর্দায় যাঁকে আমরা আধুনিক ও সাহসী অবতারে দেখেছি, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন শিকড়ের প্রতি দায়বদ্ধ এক অত্যন্ত সংবেদনশীল মানুষ। সম্প্রতি তাঁর কলেজ জীবনের বন্ধু হেমন্ত নানাবতী পারভীনের শেষ দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এই তথ্যগুলো তুলে ধরেছেন।
৭০ ও ৮০-র দশকের বলিউডে পরভীন ববি ছিলেন আধুনিকতার প্রতীক। কিন্তু তাঁর এই বাহ্যিক গ্ল্যামারের নিচে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল এক কোমল মন। তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু হেমন্ত নানাবতী জানান, মুম্বইয়ের বিলাসবহুল জীবনে থাকলেও পরভীন মনেপ্রাণে ছিলেন জুনাগড়ের সেই সাধারণ মেয়েটি।
জীবনের শেষ কয়েক বছর পরভীন গুরুতর মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। সেই সময় জুনাগড় থেকে বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ জে. এ. নানাবতী বিশেষ প্রয়োজনে মুম্বই গিয়েছিলেন তাঁর দেখভালের জন্য। তিনি টানা ১৫ দিন পরভীনের কাছে থেকে তাঁর চিকিৎসার তদারকি করেন। হেমন্ত জানান, ডাক্তারবাবু যখন জুনাগড়ে ফিরছিলেন, তখন পরভীন তাঁর মাধ্যমে জুনাগড়ের পরিচিত ও আত্মীয়দের জন্য প্রচুর উপহার পাঠিয়েছিলেন। নিঃসঙ্গ জীবনে লড়াই করেও তিনি যে পুরনো মানুষদের ভোলেননি, এই উপহারগুলোই ছিল তার প্রমাণ। কিন্তু কেউ তখন ভাবতেও পারেনি, এই সৌজন্যই হবে তাঁর শেষ বিদায়।
আরও পড়ুন- Hiraan Marriage: DJ নয়, বাজল সানাই! ভোটের মুখে আচমকা বিয়ে সারলেন ‘দেব-শত্রু’ হিরণ…
২০০৫ সালের ২০ জানুয়ারি মুম্বইয়ের ফ্ল্যাট থেকে পারভীনের নিথর দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর এই আকস্মিক ও রহস্যময় মৃত্যু আজও ভক্তদের মনে বিষণ্ণতা জাগিয়ে তোলে। মৃত্যুর পর জানা যায়, পরভীন তাঁর সম্পত্তির এক বিশাল অংশ ‘সেন্ট জেভিয়ার্স ট্রাস্ট’-কে দান করে গিয়েছেন। জুনাগড়ের রাজপরিবারে জন্ম নেওয়া এই অভিনেত্রী সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকেই তাঁর শিক্ষা সম্পন্ন করেছিলেন। ‘অমর আকবর অ্যান্টনি’, ‘সুহাগ’-এর মতো ব্লকবাস্টার ছবির এই নায়িকা সারা জীবন অঢেল ভালোবাসা পেলেও শেষ জীবনে ছিলেন বড়ই একা।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
