জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দুয়ারে ভোট। দরজায় কড়া নাড়ছে বিধানসভা নির্বাচন। SIR পর্ব মিটলেই সম্ভবত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। আর তার আগে এখন সব দলেই চলছে দল ভাঙা-গড়ার খেলা। কোথাও ভাঙন শাসক শিবিরে, কোথাও বিরোধী শিবিরে। কোথাও শাসকের শক্তিবৃদ্ধি। কোথাও বিরোধী বিজেপির শক্তিবৃদ্ধি। সবমিলিয়ে আসন্ন ভোটের আবহে বঙ্গে টান টান রাজনৈতিক পটভূমি। চলছে জল মাপার পালা, পায়ের তলার জমি শক্ত করার পালা। কার খুঁটির জোর কত বেশি, ভোটবাক্সের দাঁড়িপাল্লায় তার পরিমাপ… বিপক্ষকে পর্যুদস্ত করতে তুখোড় রণনীতি নির্ধারণ।
২০০ জনের বিজেপি যোগদান
ভোটের মুখেই বড়সড় শক্তিবৃদ্ধি গেরুয়া শিবিরে। শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের হাত ধরে পানিহাটির ২০০ জন যোগদান করলেন বিজেপিতে। পানিহাটি স্বদেশী মোড়ে বিজেপিতে যোগদান করেন ২০০ জন। এদের মধ্যে বেশিরভাগই নতুন প্রজন্মের। কেউ তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে এলেন, কেউ সিপিআইএম ছেড়ে। আবার কেউ কখনও এর আগে সক্রিয় রাজনীতি তো দূর, কোনও দল-ই করেননি। বেকারত্ব ,দুর্নীতিতে বিরক্ত হয়ে বিজেপিতে যোগদান করেছেন। বেশিরভাগ-ই নতুন প্রজন্মের, ইয়ং জেনারেশন।
জলপাইগুড়িতে ফের রাজনৈতিক সমীকরণ বদল
কদিন আগেই ব্যাপক মাত্রায় দলবদলের ঘটনা ঘটেছে জলপাইগুড়ি জেলার ৩ বিধানসভা এলাকা। এবার ফের জলপাইগুড়িতে আরও একবার রাজনৈতিক সমীকরণের বদল… জলপাইগুড়িতে শক্তি বাড়ল তৃণমূলের। জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ বিধানসভায় বিজেপি ও সিপিআইএম ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান। রাজগঞ্জ বিধানসভার সন্ন্যাসীকাটা অঞ্চলের ২২টি পরিবার থেকে ১২৫ জন বিজেপি ও সিপিআইএম দল ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেছেন। ডাবগ্রাম, রাজগঞ্জ, জলপাইগুড়ি বিধানসভার কো-অর্ডিনেটর তথা জলপাইগুড়ি জেলা এসসি/ওবিসি তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি কৃষ্ণ দাসের হাত ধরে এই যোগদান হয়। বিরোধীরা কটাক্ষ করেছেন, বিধানসভা ভোট যত সামনে এগিয়ে আসছে যতই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে খেলা শুরু হয়েছে জলপাইগুড়িতে।
দক্ষিণেও তৃণমূলের শক্তিবৃদ্ধি
উত্তরে জলপাইগুড়ির পাশাপাশি দক্ষিণে দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেও তৃণমূলের শক্তিবৃদ্ধি। মথরাপুর ১ নম্বর ব্লকের বাকলি বাজারে বিজেপি ও সিপিআইএম থেকে তৃণমূলে যোগদান করে ৫০টি পরিবারেরও বেশি। তাদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মানবেন্দ্র হালদার। দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘি বিধানসভার মথুরাপুর ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বাপুলির বাজারে ‘বিজেপির SIR চক্রান্ত’-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেই এই যোগদান কর্মসূচি হয়। বিজেপির বিবিধ কর্মকাণ্ডে মানুষের হেনস্থা ও বিজেপির ভুল বুঝতে পেরেই মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করছে বলে দাবি শাসক শিবিরের। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মানবেন্দ্র হালদার তোপ দাগেন, মথরাপুর এক নম্বর ব্লকের প্রায় ২৯ হাজার মানুষকে হিয়ারিংয়ের জন্য ডাকা হয়েছে। মানুষকে বিভ্রান্ত করছে, মানুষকে সমস্যায় ফেলছে বিজেপি। দাবি করেন, তাই যারা বিজেপি করত, তারাও দল ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করছে। ছাব্বিশের নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়া আর কোনও দলই থাকবে না মথুরাপুরে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
