জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দু:খজনক’। আনন্দপুরে অগ্নিকাণ্ডে মৃত পরিবারকে পিছু এককালীন ২ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পঞ্জাশ হাজার টাকা করে পাবেন আহতরাও।
আরও পড়ুন: SIR in Bengal: ভবানীপুরে SIR-কাঁটা! কাউন্সিলরদের সঙ্গে ফের বৈঠক মুখ্যমন্ত্রীর, বাদ..
এদিন প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের(PMO) তরফে এক্স হ্যান্ডেল পোস্টে আনন্দপুরে অগ্নিকাণ্ডকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দু:খজনক’ বলে উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, ‘যাঁরা তাঁদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন তাঁদের প্রতি আমার সমবেদনা রইল। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। এই দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের নিকটাত্মীয়কে PMNRF থেকে ২ লক্ষ টাকা করে এককালীন সহায়তা দেওয়া হবে। আহতদের ৫০,০০০ টাকা সহায়তা প্রদান করা হবে’।
দেখতে পাঁচ দিন পার। আনন্দপুরে নাজিরাবাদে অগ্নিকাণ্ডের পর যত সময় গড়াচ্ছে,ততই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। কারখানার ধ্বংসস্তুপের নিচ থেকে বেরিয়ে আসছে দেহ। এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২৫। গতকাল, বৃহস্পতিবারও উদ্ধার হয় আরও চারজনের দেহ। আজ, শুক্রবার আনন্দপুরে অগ্নিকাণ্ডের প্রতিবাদে মিছিল করলেন শুভেন্দু। হাইকোর্টের নির্দেশ মতোই নরেন্দ্রপুর থানা থেকে ২০০ মিটার দুরে শেষ হল মিছিল। মিছিল সভায় বক্তব্য রাখলেন বিরোধী দলনেতা।
এদিকে মিছিল শুরু হতেই বেজে ওঠে ডিজে। ডিজের তালে তালে রীতিমতো নাচতে নাচতে মিছিল হাঁটতে গেল বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের। সোশ্যাল মিডিয়ার সেই ভিডিয়ো পোস্ট করে তৃণমূল লিখেছে, ‘গদির লোভে মত্ত বিজেপি মৃত্যুকেও রাজনীতির ময়দানে নামিয়ে, ডিজে বাজিয়ে উল্লাস প্রকাশ করছে। বিজেপির এই নিম্নরুচির মানসিকতা বাংলার মানুষ নিজের চোখে দেখছে। এর যোগ্য জবাব বাংলার মানুষ দেবেন’। কাল, শনিবার পালটা মিছিল করবে রজ্যের শাসকদল।
আনন্দপুরকাণ্ডে গ্রেফতারি বেড়ে ৩। পুষ্পাঞ্জলি ডেকরেটর সংস্থার মালিক গঙ্গাধর দাসের পর এবার মোমো কোম্পানির দুই আধিকারিককে গ্রেফতার করল নরেন্দ্রপুর থানা। ধৃতরা হলেন কোম্পানির ম্যানেজার মনোরঞ্জন শিট এবং ডেপুটি ম্যানেজার রাজা চক্রবর্তী।
ইতিমধ্যেই ১৬ জনের দেহ ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। নিখোঁজদের নিকটাত্মীয়দের থেকে এখনও পর্যন্ত ভ্যারিয়েবল ডিএনএ স্যাম্পলিং বা নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৩২টি। স্টেট ফরেনসিক প্যাথলজি সেগুলিকে ম্যাপিং করছে। কলকাতার বুকে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর ঘটনায় একমাত্র স্টিফেন কোর্টের পর আনন্দপুরেই প্রয়োজন পড়ল ডিএনএ ম্যাপিং-এর। ২৫ জনের মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র একটি প্রায় পূর্ণাঙ্গ দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তাকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে পুলিস সূত্রে খবর। ওই ব্যক্তির শরীরের প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পুড়ে গেলেও, তাঁর পরনের পোশাক দেখে অনুমান করা হচ্ছে তিনি ওই মোমো প্রস্তুতকারক সংস্থার কর্মী। বয়স আনুমানিক ৪৫ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। যদিও ওই ব্যক্তির পরিবার এখনও নিশ্চিতভাবে দেহটি শনাক্ত করেনি। তাই ওই দেহটিও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
