প্রবীর চক্রবর্তী: নন্দীগ্রামের ২টি ব্লকে শেষ হল সেবাশ্রয় ক্যাম্প। ১৫ জানুয়ারি থেকে নন্দীগ্রামে দুটি ব্লকে দুটি মডেল ক্যাম্প করা হয়েছিল। এখনওপর্যন্ত ওই দুটি শিবিরে চিকিত্সা পরিষেবা পেয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। এনিয়ে সাড়া পড়ে গিয়েছে এলাকায়। শিবিরে আসা মানুষজনদের রোগ নির্ণয়, চিকিত্সা, ওষুধ ও প্রয়োজনে তাদের রেফার করা হয় অন্য জায়গায়।
মোট ১৬ দিন ধরে নন্দীগ্রামের দুটি ব্লকে চলল সেবাশ্রয় শিবির। শেষ দিনে অর্থাত্ ১৬তম দিনের হিসেব অনুযায়ী মোট ২৬ জনকে রেফার করা হয়েছে। শনিবার ক্যাম্পে চিকিত্সার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন ৯৯৬ জন। এদিন বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়া হয়েছে ১৮৩০ জনকে। মোট ১২২২ জন রোগীর বিভিন্ন ধরনের টেস্ট করা হয়েছে। শিবির খোলা থেকে মোট ১৬ দিনে ৪৪,৫৪৩ জন বিনামূল্যে চিকিত্সা পেয়েছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মানবিক উদ্যোগে শুরুর দিন থেকেই অগাধ আস্থা রেখেছেন নন্দীগ্রামের মানুষ। আজ শেষ দিনেও একই চিত্র।
উল্লেখ্য, বুধবার সেবাশ্রয় ২ স্বাস্থ্য শিবির শেষ হয়েছে ডায়মন্ডহারবার লোকসভা কেন্দ্রে। দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলে ওই শিবির। বহু প্রবীণ মানুষ ওই ক্যাম্প থেকে স্বাস্থ্য পরিষেবা পেয়েছেন। নন্দীগ্রামে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ২৮ হাজারের বেশি মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়েছে।
আরও পড়ুন-মেহতাবের পর এবার ডাক রহিম নবিকে, SIR-এর হেয়ারিংয়ে এসে ক্ষুব্ধ ফুটবলার বললেন…
আরও পড়ুন-‘ইউসুফ পাঠানের প্রচারে গিয়ে হিন্দুদের মনে আঘাত করেছিলাম, ক্ষমা চাইছি’
শুক্রবার সেবাশ্রয় নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিষেক বন্দ্যোরাধ্য়ায় লিখেছেন, ‘সেবাশ্রয়’ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলেও এর প্রভাব রয়ে গেছে প্রতিটি মানুষের মনে। ডায়মন্ড হারবারের লক্ষ লক্ষ পরিবারে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে। ক্যাম্পগুলো শেষ হলেও আমাদের লক্ষ্য শেষ হয়নি—বরং সাধারণ মানুষের কাছে সঠিক চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার এই পবিত্র কাজকে আমরা আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা পেয়েছি।
সেবাশ্রয় এর এই পথচলায় রুস্তম শেখের গল্প আমাদের অনুপ্ররণা জোগায়। আমাদের স্বাস্থ্য ক্যাম্পে আসার পর দ্রুত পরীক্ষা করে জানা যায় যে তাঁর চোখের রেটিনা অপারেশনের প্রয়োজন। রেণুকা আই ইনস্টিটিউটের দক্ষ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে। রুস্তম এখন অনেক বেশি স্বচ্ছতার সঙ্গে পৃথিবী দেখতে পারছেন। রুস্তমের পাশাপাশ আরও ১৫ জন রোগী বিনামূল্যে ছানি অপারেশন করিয়েছেন। এর মাধ্যমে তাঁরা শুধু তাঁদের দৃষ্টিশক্তিই ফিরে পাননি, বরং ফিরে পেয়েছেন তাঁদের আত্মমর্যাদা ও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ।
অপারেশন পরবর্তী সঠিক যত্নের মাধ্যমে তাঁরা খুব শীঘ্রই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন। এই সাফল্যই প্রমাণ করে যে—জনসেবা যদি মানবিক হয়, তবে তা সাধারণ মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বরে নিজের লোকসভা কেন্দ্রে ‘সেবাশ্রয়’ শুরু করেন অভিষেক। তাঁর সেই উদ্য়োগে রীতিমতো সাড়া পড়ে যায় রাজ্যে। যে কেন্দ্রের বিধায়ক খোদ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, সেই নন্দীগ্রামেও ‘সেবাশ্রয়’-এর দাবি তুলেছিলেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। অবশেষে ১৫ জানুয়ারি শুভেন্দু গড়ে শুরু হয় অভিষেকের কর্মসূচি। এদিন নন্দীগ্রামে ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা। অভিষেক বলেন, ‘সেবাশ্রয়ের কথা দিয়েছিলাম। আমাকে তিন চারশো লোক ফোন করত। নন্দীগ্রামে বিধায়ক সাংসদ নেই। তাই আমাকেই সেবাশ্রয়ের দায়িত্ব তুলে নিতে হল। আগামী পনেরো দিন ধরে ক্যাম্প হবে’। অভিষেক আরও বলেন, নভেম্বরে ২ দিন মেডিক্য়াল ক্যাম্প করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তারপর সেবাশ্রয়ের পোস্টার দেখে আবার শুরু করেছে। মানুষ অরিজিনাল পেলে ডুপ্লিকেটে যাবে কেন?
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
