জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল সাজাতে গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্ক ও প্রান্তিক মানুষের কর্মসংস্থানকেই পাখির চোখ করল তৃণমূল সরকার। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় পেশ হওয়া অন্তর্বর্তী বাজেটে গ্রামবাংলার অর্থনীতির মেরুদণ্ড মজবুত করতে ‘মহাত্মাশ্রী’ (প্রাক্তন কর্মশ্রী) প্রকল্পে বিরাট বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। কেন্দ্রের সাথে দীর্ঘ সংঘাতের আবহে রাজ্যের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নাম বদল ও রাজনৈতিক সংঘাত
১০০ দিনের কাজের প্রকল্প নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের লড়াই দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে এই প্রকল্পের নাম থেকে ‘মহাত্মা গান্ধী’র নাম বাদ দিয়ে ‘রাম’ নাম যুক্ত করাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়েছিল রাজনীতি। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের পাল্টা হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার রাজ্যের নিজস্ব ‘কর্মশ্রী’ প্রকল্পের নাম বদলে গত ডিসেম্বরেই রেখেছিল ‘মহাত্মাশ্রী’। গান্ধীজির প্রতি শ্রদ্ধা এবং কেন্দ্রের ‘বঞ্চনা’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এই নামবদল করা হয়েছিল।
বাজেটে বড় ঘোষণা: বরাদ্দ ও কর্মদিবস বৃদ্ধি
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ১০০ দিনের কাজের জন্য আর কেন্দ্রের মুখাপেক্ষী হয়ে বসে থাকবে না রাজ্য। তাঁর প্রধান ঘোষণাগুলি হলো:
-
২০০০ কোটি টাকার তহবিল: ‘মহাত্মাশ্রী’ প্রকল্পের সফল রূপায়ণের জন্য রাজ্য বাজেটে ২,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
-
কর্মদিবস বৃদ্ধি: এই প্রকল্পে কাজের দিন ৭৫ থেকে বাড়িয়ে ১০০ দিন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে গ্রামবাংলার শ্রমিক ও কৃষকরা বছরে নির্দিষ্ট সময় কাজের নিশ্চয়তা পাবেন এবং তাঁদের হাতে আগের চেয়ে বেশি অর্থ আসবে।
-
ক্ষেতমজুরদের জন্য সুখবর: এবার থেকে ক্ষেতমজুরদেরও ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পের আওতায় আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা গ্রামীণ পরিবারগুলির সামাজিক সুরক্ষায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।
কেন্দ্র বনাম রাজ্য: বাজেটের লড়াই
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গত রবিবার পেশ হওয়া কেন্দ্রীয় বাজেটে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ ১০০ দিনের কাজ অর্থাৎ ‘ভিবি জিরামজি’ প্রকল্পের জন্য নতুন কোনো দিশা দেখাননি। ঠিক তার কয়েক দিনের মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার নিজস্ব কোষাগার থেকে ২০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে দিল্লির সরকারকে কড়া বার্তা দিল। মুখ্যমন্ত্রী আগেই ঘোষণা করেছিলেন যে, কেন্দ্র টাকা না দিলে রাজ্য নিজেই শ্রমিকদের বকেয়া মেটাবে। এদিনের বাজেট প্রস্তাব সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন।
প্রভাব ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
এই প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি পৌঁছে যাবে কয়েক লক্ষ গ্রামবাসীর কাছে। বিশেষ করে পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং সুন্দরবনের মতো প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে এই ঘোষণা বড় প্রভাব ফেলবে। চতুর্থবারের জন্য ক্ষমতায় ফিরলে এই প্রস্তাবগুলি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার অঙ্গীকার করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।
বাজেট ঘোষণার পর প্রশাসনিক মহলের একাংশ মনে করছে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পর ‘মহাত্মাশ্রী’ হতে চলেছে রাজ্য সরকারের অন্যতম বড় তুরুপের তাস। একদিকে কেন্দ্রের ‘রাম’ নাম বনাম রাজ্যের ‘মহাত্মা’ বা ‘বাপু’র প্রতি শ্রদ্ধা— এই রাজনৈতিক সমীকরণে গ্রামীণ মানুষের রুটি-রুজির সংস্থানকে প্রাধান্য দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটের লড়াইয়ে অনেকটাই এগিয়ে থাকতে চাইছেন।
আরও পড়ুন: Shantiniketan: শান্তিনিকেতনে মধুচক্র! হোটেলের বন্ধ ঘরে নগ্ন নারী-পুরুষের মেলা… বিস্ফোরক তথ্য…
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
