জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সারা পৃথিবী যাঁকে চেনে অভিনেত্রী হিসেবে, তিনি কি শুধুই শিল্পী? না কি মা? শুধু মা না কি সমাজের বিপরীতে দাঁড়িয়ে দুনিয়ার চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো ২৪ বছর বয়সে একা মা, যে সময় সিঙ্গল মাদার শব্দটাই শোনেনি বিশ্ব। ঠিক তখন আদালতের সঙ্গে লড়ে, সারা পৃথিবীকে দেখিয়ে দিয়েছিল মা হতে হলে কেন শুধু জরায়ু থাকতে হবে, আসলে দরকার হৃদয়ের টান, কলজের জোর। তিনি আর কেউ নন, মিস ইউনিভার্স সুস্মিতা সেন।
১৯৯৪ সাল। ফিলিপিন্সের ম্যানিলা শহর সাক্ষী থাকল এক নতুন ইতিহাসের। আঠারো বছরের এক তরুণীর হাত ধরে ভারত পেল তার প্রথম ‘মিস ইউনিভার্স’— তিনি বাঙালির আন্তর্জাতিক মুখ সুস্মিতা সেন। কিন্তু সেই জৌলুস ছিল তাঁর দীর্ঘ যাত্রার এক সামান্য সূচনা মাত্র। ভারতীয় সিনেমা তাঁকে চিনেছে তাঁর মোহময়ী গ্ল্যামারের আধারে আর দর্শক ভালোবেসেছে তাঁর মুক্তমনা ব্যক্তিত্বকে। রুপোলি পর্দায় তাঁর উপস্থিতি মানেই নিজস্ব এক ঘরানা; তিনি কোনওদিন স্রোতে গা ভাসাননি, বরং নিয়ম ভাঙাকেই করে তুলেছিলেন তাঁর সহজাত প্রবৃত্তি। মাত্র চব্বিশ বছর বয়সে সমাজ আর প্রথাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে একক মাতৃত্বকে আপন করে নেওয়া সুস্মিতা শিখিয়েছেন, একজন নারীর পূর্ণতা কোনও পুরুষের স্বীকৃতির মুখাপেক্ষী নয়।
সময়ের চাকা ঘুরেছে। দীর্ঘ বিরতি এসেছে, শারীরিক বাধা এসেছে, মৃত্যুকেও অতি কাছ থেকে ছুঁয়ে দেখেছেন তিনি। কিন্তু ফিনিক্স পাখির মতো ছাই থেকে বারবার জেগে ওঠাই যাঁর স্বভাব, তাঁকে হারাবে সাধ্য কার? সাময়িক নিস্তব্ধতা ভেঙে যখন তিনি ‘আরিয়া’ হয়ে ওটিটির পর্দায় ফিরলেন, বিশ্ব দেখল সেই চেনা তেজ। তিনি বুঝিয়ে দিলেন, বাঘিনী ডেরা পাল্টালেও শিকার করতে ভুলে যায় না। মিস ইউনিভার্স থেকে ওটিটি-র সম্রাজ্ঞী— সুস্মিতা সেন আজ আর কেবল একটি নাম নয়, বরং এক অপরাজেয় মতাদর্শ। নিজের ছন্দে বাঁচা আর খাদের কিনারা থেকে বারবার রাজকীয়ভাবে ফিরে আসার এক জীবন্ত রূপকথা।
বিনোদনের দুনিয়ায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জি ২৪ ঘণ্টা অনন্য সম্মান ১৪৩২-এ মহাসম্মান বিভাগে সম্মানিত সুস্মিতা সেন। অভিনন্দন সুস্মিতা, আপনি আমাদের গর্ব।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
