জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ‘রাজার হল খুব অসুখ, জ্বলল বাড়ি ভাঙল বুক’!
বাইশ গজ হোক কিংবা রাজনীতির ময়দান। এক সময়ে বুক ফুলিয়ে শাসন করেছেন ইমরান খান (Imran Khan)। ১৯৯২ সালের পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ জেতানো কিংবদন্তি ক্রিকেটার, সেই দেশের প্রাক্তন প্রধামন্ত্রীও। সেই ২০২৩ সালের অগস্ট থেকে ইমরান ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবি (Imran and Bushra Bibi)। জেলবন্দি। ক্ষমতা হারানোর পর একাধিক মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাগারে তাঁরা। ইমরান আজ ৮৫% দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন! ভয়াবহ অবনতি হয়েছে শরীরের! এই খবর বাইরে আসতেই রাজনীতি ও কূটনীতির বেড়াজাল ছিঁড়ে ময়দানে নামলেন ভারতের দুই কিংবদন্তি- সুনীল গাভাসকর ও কপিল দেবরা (Sunil Gavaskar and Kapil Dev)।
আরও পড়ুন: ভারতের কোচের পদ ছাড়ছেন গুরু গম্ভীর? বিশ্বকাপের মাঝেই বিরাট আপডেট, একসঙ্গে ৩ ভূমিকার মেগা অফার…
সই করলেন ১৪ ক্রিকেট মহারথী
শুধু সুনীল-কপিলই নন, ইমরানের পাশে দাঁড়াল ক্রিকেটবিশ্ব। দেশ-বিদেশের ১৪ জন প্রাক্তন অধিনায়করা লিখিত পিটিশন দিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে। ৭৩ বছরের ইমরানকে যেন পাকিস্তান সরকার যথাযথ চিকিৎসার সুবিধা দেয়। এই মর্মেই পিটিশনে সই করেছেন- গ্রেগ চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, মাইকেল আথারটন, নাসের হুসেন, সুনীল গাভাসকর, কপিল দেব, ইয়ান চ্যাপেল, অ্যালান বর্ডার, মাইকেল ব্রিয়ারলি, ডেভিড গাওয়ার, কিম হিউজ, ক্লাইভ লয়েড, স্টিভ ওয়া এবং জন রাইট। তবে পাকিস্তানের কোনও প্রাক্তন অধিনায়ক এই পিটিশনে সই করেননি। গত সপ্তাহে ওয়াসিম আক্রম, ওয়াকার ইউনিস এবং শাহিদ আফ্রিদি-সহ বেশ কয়েকজন প্রাক্তন পাক ক্রিকেটার সোশ্যাল মিডিয়ায় ইমরানের যথাযথ চিকিৎসা দাবিতে আওয়াজ তুলেছেন।
খুবই শোচনীয় অবস্থা ইমরানের
গত সপ্তাহে প্রকাশিত খবরে জানা গিয়েছিল যে, ইমরান তাঁর ডান চোখের ৮৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। তার অনুগামী এবং পরিবারের দাবি, যে তাঁদের কারাগারে ইমরানের সঙ্গে দেখা করার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ইমরানের ছেলে সুলেমান গতবছর ডিসেম্বরে বলেছিলেন, ‘বাবাকে খুব ছোট্ট সেলে রাখা হয়েছে। যে সেলকে ডেথ সেলও বলা হয়। কারণ মৃত্যু পথযাত্রীদেরই সেই সেলে রাখা হয়। প্রাক্তন পাক অধিনায়কের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ বেড়েই চলেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সর্বশেষ রায়ের ইমরান বর্তমানে ৩১ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
পিটিশনে কী লেখা হয়েছে?
আমরা নিজ নিজ দেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের স্বাক্ষরকারী প্রাক্তন অধিনায়করা, গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক এবং বিশ্ব ক্রিকেটের কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব ইমরান খানের কারাবাস ও তাঁর সঙ্গে আচরণ সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলির আমাদের চিন্তা বাড়িয়েছে। ক্রিকেটে ইমরান খানের অবদান সীমান্ত ও প্রজন্ম অতিক্রম করে। অধিনায়ক হিসেবে তিনি পাকিস্তানকে ঐতিহাসিক জয়ের শিখরে পৌঁছে দিয়েছেলিনে ১৯৯২ বিশ্বকাপে—যে সাফল্য গড়ে উঠেছিল দক্ষতা, সাহস, দৃঢ়তা এবং অনুকরণীয় নেতৃত্বের ভিত্তিতে। আমাদের অনেকেই তাঁর বিরুদ্ধে খেলেছি, একই মাঠ ভাগ করে নিয়েছি, কিংবা তাঁর অসাধারণ অলরাউন্ড নৈপুণ্য ও অদম্য মানসিকতার অনুপ্রেরণায় বড় হয়েছি। ক্রিকেট ইতিহাসে তিনি অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার ও অধিনায়ক হিসেবে সর্বজনস্বীকৃত। ক্রিকেটের বাইরে, তিনি পাকিস্তানের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন এক গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং সময়ে। রাজনৈতিক মতভেদ যাই থাকুক না কেন, একজন প্রাক্তন রাষ্ট্রপ্রধান ও বৈশ্বিক ক্রীড়া-প্রতীক হিসেবে তাঁর মর্যাদা ও সম্মান প্রাপ্য। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি—বিশেষত দৃষ্টিশক্তি নিয়ে উদ্বেগজনক খবর—এবং গত আড়াই বছর ধরে তাঁর কারাবাসের পরিবেশ নিয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তা আমাদের গভীরভাবে বিচলিত করেছে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনের অংশ হিসেবে আমরা ন্যায্যতা, মর্যাদা ও পারস্পরিক সম্মানের যে মূল্যবোধে বিশ্বাস করি, তা যেন খেলার সীমানা ছাড়িয়েও বজায় থাকে—এই প্রত্যাশাই আমাদের। আমরা পাকিস্তান সরকারকে সম্মানের সঙ্গে অনুরোধ জানাচ্ছি যে—ইমরান খানের স্বাস্থ্যের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় অবিলম্বে, যথাযথ ও ধারাবাহিক চিকিৎসা-সুবিধা নিশ্চিত করা হোক, এবং প্রয়োজন হলে তাঁর পছন্দের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হোক।আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ কারাবাসের পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক, যার মধ্যে ঘনিষ্ঠ পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তাঁর আইনি প্রক্রিয়ায় ন্যায়সংগত, স্বচ্ছ ও বিলম্বহীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হোক। ক্রিকেট বহুদিন ধরেই জাতি ও মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করেছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা খেলার অংশ, কিন্তু সম্মানই তার চিরস্থায়ী ঐতিহ্য। ইমরান খান তাঁর খেলোয়াড়ি জীবনে সেই চেতনাকেই ধারণ করেছিলেন। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই—ন্যায়, শালীনতা ও মানবিক মর্যাদার সার্বজনীন নীতিগুলো রক্ষা করে সেই চেতনাকেই সম্মান জানাতে। এই আবেদন করা হচ্ছে ক্রীড়াসুলভ মনোভাব ও মানবিক সংহতির চেতনায়, চলমান কোনো আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি পূর্বধারণা ছাড়াই।
আরও পড়ুন: টিম ইন্ডিয়ার ঘূর্ণি তারকার সঙ্গে রাতে ক্যামেরা বন্দি! কাম-লালসায় অস্থির অভিনেত্রী এবার কাউচেই…
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
