Mamata on Mukul: কালের নিয়মে ঝরল মুকুল! ‘আমি বিচলিত-মর্মাহত’, সহযোদ্ধার মৃত্যুতে কাঁদছে মমতার মন… ভূয়সী প্রশংসা অভিষেকের…


জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দীর্ঘদিনের সহকর্মী। দল গঠনের প্রথম দিন থেকে সহযোদ্ধাও বটে। একসময়ে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড ছিলেন। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের পরই, কখনও আবার একসঙ্গেই উচ্চারিত হত ‘মমতা-মুকুল’ নাম। পরে যদিও রাজনৈতিক জীবনের গতিপথে পথ বদলেছিলেন মুকুল রায়। তবে কিছুদিন পর আবার ফিরেও আসেন পুরনো ‘ঘরে’ তৃণমূলে। আজ প্রয়াত মুকুল রায়। আর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মীকে হারিয়ে ‘মর্মাহত’ তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। ওদিকে মুকুল রায়ের ভূয়সী প্রশংসা করে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের।

Add Zee News as a Preferred Source

মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় লিখেছেন, “প্রবীণ রাজনীতিবিদ মুকুল রায়ের সহসা প্রয়াণের সংবাদে বিচলিত ও মর্মাহত বোধ করছি। তিনি আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী ছিলেন, বহু রাজনৈতিক সংগ্রামের সহযোদ্ধা ছিলেন। তাঁর বিদায়ের খবর আমাকে বেদনাহত করেছে। প্রয়াত মুকুল রায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা-লগ্ন থেকে দলের জন্য প্রাণপাত করেছেন। তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়েছিলেন, দলের সর্বস্তরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল। পরে তিনি ভিন্ন পথে যান, আবার ফিরেও আসেন। বাংলার রাজনীতিতে তাঁর অবদান এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কথা ভোলার নয়। দলমত নির্বিশেষে তাঁর অভাব অনুভব করবে রাজনৈতিক মহল। এই অভিজ্ঞ নেতা ও সহকর্মীর পরিবার ও অনুরাগীদের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাই। শুভ্রাংশুকে বলব, মন শক্ত করো।  এই সংকটে আমরা তোমার সঙ্গে আছি।”

ওদিকে তৃণমূলের জন্মসঙ্গী মুকুল রায়ের মৃত্যুকে এক্স হ্যান্ডেলে ‘বঙ্গ রাজনীতিতে একটা যুগের অবসান’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়। অভিষেক লিখেছেন, “মুকুল রায়ের মৃত্যুতে বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের এক যুগের অবসান ঘটল। মুকুল রায় ছিলেন বিপুল বিশাল অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন প্রবীণ নেতা। তাঁর অবদান রাজ্যের জনসাধারণের জন্য ও রাজনৈতিক যাত্রার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় গঠনে সহায়তা করেছিল। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে গঠনমূলক বছরগুলিতে তিনি সংগঠনের সম্প্রসারণ ও সুসংহতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। জনজীবনের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে। তাঁর পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং গুণমুগ্ধদের প্রতি আমি আন্তরিক সমবেদনা জানাই। তাঁর আত্মা চিরশান্তি লাভ করুক।”

মুকুল রায়ের মৃত্যুসংবাদ পেতেই মুকুলপুত্র শুভ্রাংশু রায়কে ফোনও করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়। যে প্রসঙ্গে শুভ্রাংশু রায় বলেন, “অভিষেক ব্যানার্জি ফোন করেছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেসের অনেকে ফোন করেছেন।” প্রসঙ্গত, কংগ্রেসের হয়ে ছাত্র রাজনীতির হাত ধরে মুকুল রায়ের উত্থান হলেও, ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মের সময়ই তিনি কংগ্রেসের ‘হাত’ ছেড়ে ঘাসফুলে চলে আসেন। তৃণমূলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর-ই দলের সেকেন্ড ইন কমান্ডের দায়িত্বে ছিলেন মুকুল রায়। দীর্ঘ কয়েক  দশক ধরে রাজ্য এবং জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। মুকুল রায়কে বলা হত তৃণমূলের চাণক্য। ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন মুকুল রায়। তাঁর সময়ে বাংলায় শক্তিবৃদ্ধির পাশাপাশি ত্রিপুরা, অসম-সহ উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতেও বীজ বপন করে ঘাসফুল।

বিধায়ক হওয়ার পাশাপাশি দেশের প্রাক্তন রেলমন্ত্রীও ছিলেন মুকুল রায়। দীর্ঘ রাজনৈতিক কেরিয়ারে ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদও। তবে নারদা কেলেঙ্কারিতে তার নাম জড়ায়। এরপর বিজেপিতে যোগ দেন। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপিতে যোগদান করেন মুকুল রায়। দলবদলের পর ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে ভোটে জিতে বিধায়ক নির্বাচিত হন মুকুল রায়। কিন্তু জেতার কয়েক মাসের মধ্যে আবার তৃণমূলে ফিরে আসেন মুকুল রায়। কিন্তু ফেরার পর তৃণমূলে তাঁর দ্বিতীয় ইনিংসে আর সেভাবে সক্রিয় ছিলেন না মুকুল রায়। তাঁকে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির (পিএসি) চেয়ারম্যানও করা হলেও খাতায়-কলমে ‘বিজেপি বিধায়ক’ হয়েই থেকে গিয়েছিলেন। তাঁর বিধায়ক পদ খারিজ সংক্রান্ত মামলাটি এখনও সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন।

আরও পড়ুন, Mukul Roy Passes Away: তৃণমূলের ‘চাণক্য’ থেকে ‘বিজেপি বিধায়ক’… বর্ণময় রাজনীতিক জীবন ফেলে রেখে অন্তরালেই প্রয়াত মুকুল রায়!

আরও পড়ুন, Mukul Roy Demise: বিজেপিতে যোগ দিয়েই জয়ী! মুকুল রায়ের প্রয়াণে আবেগী বার্তায় মোদী লিখলেন…





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *