ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের | tension peaks in bhabanipur and nandigram, tmc demands cancellation of suvendu’s nomination over allegations of politics of fear


West Bengal

oi-Debashis Datta

রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক লড়াই ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। সেই আবহেই এবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলল তৃণমূল কংগ্রেস। ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে ভয়ের পরিবেশ তৈরির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে শাসকদল, পাশাপাশি তাঁর মনোনয়ন বাতিলের দাবিও জানিয়েছে তারা।

এবারের নির্বাচনে একদিকে নিজের শক্ত ঘাঁটি নন্দীগ্রাম, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভবানীপুরে প্রার্থী হয়েছেন শুভেন্দু। এই দুই কেন্দ্রেই তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। দলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও ব্রায়েন বুধবার নির্বাচন কমিশনে পরপর দুটি চিঠি পাঠিয়ে অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন। ঠিক তার পরদিনই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে ভবানীপুরে মনোনয়ন জমা দেন শুভেন্দু, আর তারপরই প্রকাশ্যে আসে এই অভিযোগপত্র।

প্রথম চিঠিতে তৃণমূলের দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো ও কাশ্মীরের মতো পরিস্থিতি তৈরি করার হুমকি দিয়েছেন শুভেন্দু। শুধু তাই নয়, রাজ্যের উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের নাম উল্লেখ করে চাপ সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগও আনা হয়েছে। তৃণমূলের মতে, এই ধরনের আচরণ জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী দুর্নীতিমূলক কার্যকলাপের মধ্যে পড়ে ও তা আইনত দণ্ডনীয়। তাই অবিলম্বে শুভেন্দুকে শোকজ নোটিস পাঠিয়ে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়েছে।

দ্বিতীয় অভিযোগ আরও প্রশাসনিক। তৃণমূলের বক্তব্য, মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট বিধি লঙ্ঘন করেছেন শুভেন্দু। নিয়ম অনুযায়ী রিটার্নিং অফিসারের কক্ষে প্রার্থী সহ সর্বাধিক পাঁচ জনের প্রবেশাধিকার থাকলেও, সেই সীমা অতিক্রম করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিয়োর উল্লেখ করে তৃণমূল দাবি করেছে, সেখানে অনেক বেশি লোকের উপস্থিতি ছিল।

এখানেই শেষ নয়, এই ঘটনায় রিটার্নিং অফিসার ও সাধারণ পর্যবেক্ষকের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তুলেছে শাসকদল। ডেরেক ও ব্রায়েনের অভিযোগ, দায়িত্বে থেকেও তারা নিয়ম ভাঙা ঠেকাতে কোনও উদ্যোগ নেননি, যা নিরপেক্ষতার ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।

এই প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে একাধিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে তৃণমূল। এর মধ্যে রয়েছে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, কঠোরভাবে নিয়ম প্রয়োগ ও সবশেষে শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন বাতিল।

চিঠির অনুলিপি কেন্দ্রীয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছেও পাঠানো হয়েছে। চলতি বছরের ভোটের আগে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামকে ঘিরে এই অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You missed