Jobs
oi-Poushali Patra
কৃত্রিম মেধা কী সত্যিই বিশ্বজুড়ে চাকরির বাজার একদম ওলটপালট করে দেবে? ঠিক এই প্রশ্নটাই এখন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। AI নিয়ে বহুদিন ধরেই আশঙ্কা থাকলেও এই বার আরও কড়া সতর্কবার্তা দিলেন এআই গবেষক রোমান ইয়াম্পোলস্কি (Roman Yampolskiy)।

রোমান ইয়াম্পোলস্কি (Roman Yampolskiy) হলেন একজন সুপরিচিত কম্পিউটার বিজ্ঞানী এবং লুইসভিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার সিকিউরিটি ল্যাবের পরিচালক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিরাপত্তা, আচরণগত বায়োমেট্রিক্স এবং এআই (AI)-এর অস্তিত্বগত ঝুঁকি নিয়ে গবেষণার জন্য মূলত তিনি পরিচিত। ২০২৭ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে এজিআই (AGI)-এর কারণে ৯৯% চাকরি ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। মানুষের বদলে আরও নিখুঁতভাবে করবে অধিকাংশ মেধাভিত্তিক কাজ করবে এজিআই (AGI)।
‘দ্য ডায়েরি অফ আ সিইও’ পডকাস্টে তিনি বলেন যে, ইতিমধ্যেই এখনকার মোটামোটি ৬০ শতাংশ কাজ এআই (AI) দিয়ে প্রতিস্থাপনযোগ্য। প্রথম ধাক্কা আসবে কম্পিউটার নির্ভর যেকোনও পেশায়, তারপরে কায়িক শ্রমের ক্ষেত্রেও মানুষের বদলে রোবট আসতে পারে। তাঁর মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে অধিকাংশ শারীরিক কাজেও রোবট সক্ষম হয়ে উঠবে।
তবে সব কাজই কী শেষ? ইয়াম্পোলস্কির মতে, পাঁচ ধরনের পেশা টিকে থাকতে পারে। সেগুলি হল,
- ধনী ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত পরিষেবা (যেমন ব্যক্তিগত সহকারী, হিসাবরক্ষক) .
- থেরাপি এবং কাউন্সেলিংয়ের মতো মানবিক সংযোগভিত্তিক কাজ।
- এআই (AI) তদারকি এবং নিয়ন্ত্রণের বিশেষজ্ঞ।
- এআই (AI) প্রশিক্ষক এবং পরামর্শদাতা।
- প্রাথমিক পর্যায়ে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট।
যদিও তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, প্রযুক্তি যতই স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে, এই কাজগুলোর চাহিদাও ঠিক ততটাই কমতে পারে।
এআই (AI) নিয়ে মাইক্রোসফটের এআই (AI) প্রধান মুস্তাফা সুলেমানও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, খুব তাড়াতাড়িই ‘হোয়াইট কলার’ চাকরিগুলিও বড় চাপের মধ্যে পড়তে চলেছে।
সব মিলিয়ে প্রশ্ন একটাই যে, এআই (AI) কী কাজ সহজ করবে, নাকি কাজই কেড়ে নেবে? বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই মিলবে তার স্পষ্ট উত্তর।
