Science And Technology
oi-Poushali Patra
অগাস্ট ১২, ২০২৬ তারিখটি ঘিরে সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এক আজব এবং ভয় ধরানো দাবি। যেখানে বলা হচ্ছে যে, ঠিক ওই দিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি নাকি সাত সেকেন্ডের জন্য কাজ করবে না। ফলে মানুষ মাটি থেকে উপরে ভেসে উঠবে, তারপর আবার মাটিতে পড়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটবে। যার ফলে কোটি কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা পরিষ্কার করে জানাচ্ছেন যে, এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

এই গুজবটি আরও বেশি করে ছড়িয়েছে কারণ ওই দিনই একটি সূর্যগ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে। অনেকেই দুটি ঘটনাকে জুড়ে দিয়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছেন। কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছে যে, প্রজেক্ট অ্যাঙ্কর (Project Anchor) নামে নাসার একটি গোপন নথি থেকে এই তথ্য ফাঁস হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এমন কোনও নথির অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সমাজ মাধ্যমে প্রথম দিকে যে পোস্টগুলি ভাইরাল হয়েছিল, সেখানে বলা হয় যে ব্ল্যাক হোলের সংঘর্ষ থেকে তৈরি গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ (gravitational wave)-এর জন্যই নাকি এই ঘটনা ঘটবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যাখ্যা বৈজ্ঞানিক ভাবে একদম ভুল। গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ (gravitational waves) এতটাই দুর্বল যে তা শুধুমাত্র অত্যন্ত সংবেদনশীল যন্ত্রে ধরা পড়ে, পৃথিবীর উপর এর কোনোরকম প্রভাব পড়ে না।
নাসা স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, ২০২৬ সালের ১২ আগস্ট অথবা ভবিষ্যতের কোনও দিনেই পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি হঠাৎ করে বন্ধ হওয়ার প্রশ্ন নেই। নাসার বক্তব্য যে, পৃথিবীর ভর যত দিন থাকবে, তত দিন তার মাধ্যাকর্ষণও থাকবে। এটি কোনও নির্দিষ্ট সময়ে হঠাৎ করে বদলে যেতে পারে না।
ইংল্যান্ডের হার্টফোর্ডশায়ার বিশ্ববিদ্যালয় (University of Hertfordshire)-এর ব্ল্যাক হোল বিশেষজ্ঞ ড. উইলিয়াম অলস্টন (Dr William Alston)-ও এই দাবিকে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ হারাতে হলে গোটা গ্রহটাই একসঙ্গে অদৃশ্য হয়ে যেতে হবে, যা বাস্তবে একেবারে অসম্ভব।
বিজ্ঞানীরা সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলছেন, সমাজ মাধ্যমে ছড়ানো এরকম আতঙ্কজনক দাবিতে বিশ্বাস না করে যাচাই করা তথ্যের উপরই ভরসা করা উচিত।
