অর্জুনকে মহাভারতের নায়ক হিসেবে ধরা হয়। তিনি ধর্মের পক্ষে যুদ্ধ করেছিলেন। আর তার প্রধান পথ প্রদর্শক ছিলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। শ্রীকৃষ্ণ যাঁর সখা তিনি কী আর সাধারণ কেউ হতে পারেন। তিনি সাধারণ কেউ ছিলেন না।
Mythology
oi-Sanjay Ghoshal
অর্জুনকে মহাভারতের নায়ক হিসেবে ধরা হয়। তিনি ধর্মের পক্ষে যুদ্ধ করেছিলেন। আর তার প্রধান পথ প্রদর্শক ছিলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। শ্রীকৃষ্ণ যাঁর সখা তিনি কী আর সাধারণ কেউ হতে পারেন। তিনি সাধারণ কেউ ছিলেন না। তিনি ছিলেন অসাধারণ একজন। ধনুর্বিদ্যায় তাঁকে সর্বশ্রেষ্ঠ স্থান দেওয়া হয়।

অর্জুন হস্তিনাপুরের মহারাজ পাণ্ডু ও রানি কুন্তীর তৃতীয় পুত্র। তিনি মধ্যম পাণ্ডব হিসেবেও পরিচিত। ইন্দ্রদেব কর্তৃক বরপ্রাপ্ত হয়ে অর্জুনকে লাভ করেছিলেন কুন্তী। মহাভারতে তাঁকে সেজন্য ইন্দ্রপুত্রও বলা হয়। আসলে তিনি ছিলেন নারায়ণের অংশ। নররূপী নারায়ণের অংশ হিসেবে তিনি জন্ম নিয়েছিলেন মহাভারতের যুগে। নর-রূপে অর্জুন আর নারায়ণ-রূপে শ্রীকৃষ্ণ এসেছিলেন অধর্মের বিনাশ ঘটিয়ে ধর্মের পুনঃস্থাপন করতে। শ্রীকৃষ্ণ সেই জ্ঞান অর্জুনকে দিয়েছিলেন মহাভারতের কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে। বলেছিলেন, ” যদা যদা হি ধর্মস্য, গ্লানির্ভবতি ভারত, অভ্যুত্থানাং অধর্মস্য তদন্মানং সৃজাম্যহম, পরিত্রাণায় সাধুনাং বিনাশয় চ দুষ্কৃতাম, ধর্ম সংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে।”
তিনি ধর্মপরায়ণ, বাধ্য এবং সম্মানীয় ছিলেন। ছিলেন অতি পরাক্রমশালী এবং দয়ালু ব্যক্তি। সেই কারণে শুধু মাতা কুন্তীরই অতি প্রিয় ছিলেন না। অতি প্রিয় ছিলেন পিতামহ ভীষ্ম, গুরু দ্রোনাচার্য, সমস্ত ভ্রাতাদেরও। দ্রৌপদীও তাঁকে বিশেষ পছন্দ করতেন। দ্রৌপদীর পঞ্চস্বামী হলেও তিনি অর্জুনেরই অনুরাগিনী ছিলেন।
দানবদের সঙ্গে দেবতাদের যুদ্ধের সময় অর্জুন মহাপরাক্রম দেখিয়েছিলেন। তাঁর পরাক্রম দেখে বীরত্বের পুরস্কার স্বরূপ তাঁর মাথায় সূর্যের ন্যায় তেজস্বী একটি কিরীট পরিয়েছিলেন। তাই তিনি কিরীটি নামেও পরিচিত। মহাভারতের এহেন নায়ক অর্জুনের দশটি নাম ছিল। মহাভারত কথায়, সেই ১০ নামের বারংবার ব্যবহার হয়েছে।

মহাভারতের অর্জুন যে ১০ নামে পরিচিত সেই নামগুলি হল- ধনঞ্জয়, বিজয়, শ্বেতবাহন, ফাল্গনী, কিরীটি, বীভৎসু, সব্যসাচী, অর্জুন, জিষ্ণু ও কৃষ্ণ। এছাড়াও তাঁকে পার্থ বলে ডাকা হয়। তিনি পৃথার সন্তান হিসেবে পার্থ নামেও পরিচিত। অর্জুনের ধনুকরে নাম ছিল গান্ডীব। সেই হেতু তিনি গাণ্ডীবধারী হিসেবেও পরিচিত।
অর্জুন দ্রৌপদীর স্বয়ংবরে অংশগ্রহণ করে লক্ষ্যভেদে সফল হয়েছিলেন। পাঞ্চাল রাজ্যে অর্জুনের গোল-ভঙ্গের দক্ষতা মৎস্যবাদে পরিণত হয়েছিল। তারপর পঞ্চপাণ্ডব দ্রৌপদীকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন অর্জুন-দ্রৌপদীর পুত্রের নাম ছিল শ্রুতকর্মা। আর শ্রীকৃষ্ণের ভগ্নী সুভদ্রাকেও তিনি স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন। তাঁদের পুত্র ছিলেন বীর অভিমন্যু। এছাড়াও অর্জুন চিত্রাঙ্গদা ও উলুপিকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন। চিত্রাঙ্গদার পুত্র বব্রুবাহনের সঙ্গে তাঁর যুদ্ধও সংঘটিত হয়েছিল।
