West Bengal
-Ritesh Ghosh
২০২৬-এর বঙ্গ নির্বাচনের পারদ ক্রমশ চড়ছে। আর এই আবহে শনিবার পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায় এক মেগা নির্বাচনী জনসভা থেকে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তৃণমূল সরকারের ‘১৫ বছরের দুর্নীতির’ হিসাব নেওয়ার হুঁশিয়ারির পাশাপাশি, বাংলায় পালাবদলের ডাক দিয়ে জনসাধারণের সামনে ফের তুলে ধরলেন বিজেপির ‘ছয় গ্যারান্টি’।
এদিনের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, আগামী ৪ মে-র পরেই রাজ্যে পরিবর্তন হওয়া নিশ্চিত।

রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের ছ’টি গ্যারান্টি দিয়েছিলাম। সেগুলি পূরণের সময় এসেছে। তৃণমূলের নির্মম সরকারের ভয়ের রাজকে সরিয়ে ভরসায় বদলে দেবে আমার গ্যারান্টি।” রাজ্যে চলা লাগাতার দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি ঘোষণা করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি নিয়ে শ্বেতপত্র জারি করা হবে। মোদীর কথায়, “যাতে তৃণমূলের সব সিন্ডিকেট, সব দুর্নীতিগ্রস্তদের হিসাব করা যায়। ১৫ বছরের হিসাব হবে।” পাশাপাশি তিনি আশ্বাস দেন, কাটমানি সংস্কৃতি বন্ধ করে রাজ্যের সমস্ত সরকারি কাজের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহারে উল্লেখিত নারী ও যুবকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির কথা এদিন বিশেষ জোর দিয়ে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেন, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হলে মহিলাদের প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে এবং সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধা মিলবে। নারী সুরক্ষার ওপর জোর দিয়ে মোদী বলেন, “বিজেপির আমলে এই রাজ্যের মহিলারা নিরাপদে, নির্ভয়ে যাতায়াত করতে পারবেন।”
রাজ্যের বেকারত্ব ও নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেন, “বিজেপি এলে যুবসমাজ লক্ষ লক্ষ চাকরি পাবে। বেকারদের ভাতাও দেওয়া হবে।” শিক্ষক নিয়োগ সহ বিভিন্ন দুর্নীতিতে যে সমস্ত প্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের সরকারি চাকরিতে বয়সের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এছাড়া, রাজ্যেও ‘রোজগার মেলা’-র আয়োজন করা হবে, সমস্ত শূন্যপদ পূরণ করা হবে এবং রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) কার্যকর করার গ্যারান্টিও দেন তিনি।
ভাষণের এক পর্যায়ে সম্প্রতি তিন রাজ্যে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন জানান মোদী। বিহার, মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “যেখানেই অনেক ভোট পড়েছে, বেশি করে মহিলারা ভোট দিয়েছেন, সেখানেই বিজেপি এবং এনডিএ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে।” কেরলেও বাম (এলডিএফ) এবং কংগ্রেসের (ইউডিএফ) পায়ের তলার মাটি সরছে বলে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাতেও বিজেপি নিশ্চিত জয়ের দিকে এগোচ্ছে এবং জনতার এই প্রবল উৎসাহই সেই জয়ের প্রমাণ।
সকাল ১১টা-১২টার প্রখর রোদে কাটোয়ার মাঠে উপচে পড়া ভিড় দেখে রীতিমতো আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। নিজের রাজ্য গুজরাতের তুলনা টেনে তিনি বলেন, “গুজরাতেও সকাল ১১-১২টায় এমন সভা আমি করতে পারি না। চাইলেও করা যায় না। আপনারা এখানে আশ্চর্য জমায়েত করেন প্রতি বার। আমি অভিভূত।” এই জনপ্লাবন দেখেই তিনি আত্মবিশ্বাসের সুরে ঘোষণা করেন, “এ রাজ্যে যে ৪ মে-র পর পরিবর্তন আসছে, তা এই সভা থেকেই নিশ্চিত।”
সব মিলিয়ে, কাটোয়ার এই সভা থেকে দুর্নীতি, নিয়োগ এবং নারী সুরক্ষার মতো জ্বলন্ত ইস্যুগুলিকে হাতিয়ার করে বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপির প্রচারের সুর একেবারে সপ্তমে বেঁধে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
