West Bengal
-Ritesh Ghosh
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ রবিবার মেদিনীপুরের নন্দকুমারে একটি ‘বিজয় সংকল্প র্যালি’তে অংশ নেন। এই জনসভায় তিনি রাজ্যের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের প্রশংসা করেন, তবে একই সাথে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘তোষণের রাজনীতি’ ও হিংসার অভিযোগ তুলে তীব্র আক্রমণ শানান।
মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ তাঁর বহুল পরিচিত ‘বুলডোজার’ নীতির পুনরাবৃত্তি করে জানান, পশ্চিমবঙ্গেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দেন যে, যারা বাংলার সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতাকে বিকৃত করার চেষ্টা করবে, তাদের ‘বুলডোজারের মাধ্যমে জবাব দেওয়া হবে’।

জনসভায় তিনি সরাসরি বলেন, “যারা বন্দে মাতরমের বিরোধিতা করে, তাদের দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত।” আদিত্যনাথ উল্লেখ করেন, রাম, মহাদেব ও কৃষ্ণের পুণ্যভূমি উত্তরপ্রদেশ থেকে তিনি সেই বাংলায় এসেছেন, যা জাতীয় সংগীত ও স্বদেশী গানের জন্মভূমি হিসেবে গভীর জাতীয় তাৎপর্য রাখে।
আদিত্যনাথ বাংলার সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরে রাজ্যটিকে জাতির পথপ্রদর্শক শক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি স্বামী বিবেকানন্দ, ক্ষুদিরাম বসু, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির মতো ব্যক্তিদের অবদানের কথা স্মরণ করেন।
ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির আদর্শ উল্লেখ করে আদিত্যনাথ বলেন, “এক দেশে দুটি আইন চলতে পারে না সেই স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে পূরণ হয়েছে।” তিনি ৩৭০ ধারা বাতিলের বিষয়টি তুলে ধরে একে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত আদর্শিক লক্ষ্য অভিহিত করেন।
তৃণমূলকে আক্রমণ শানিয়ে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বাংলায় শাসনব্যবস্থার অবনতি ও রাজনৈতিক হিংসা বেড়েছে। তাঁর দাবি, “এটি এমন একটি ভূমি যা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সহ বহু বিজ্ঞানী ও উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব তৈরি করেছে, কিন্তু টিএমসি একে বিভাজন ও নৃশংসতার ভূমিতে পরিণত করেছে।”
তিনি জনসংখ্যাগত উদ্বেগের বিষয়টিও তুলে ধরেন এবং অভিযোগ করেন যে, টিএমসি রাজনৈতিক লাভের জন্য অনুপ্রবেশকে উৎসাহিত করছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, “টিএমসি সরকার অনুপ্রবেশকারীদের নিজেদের ভোটব্যাঙ্ক হিসাবে ব্যবহার করার জন্য সীমান্তে বেড়া দিতে দিচ্ছে না।”
