পোস্টাল ব্যালট নিয়ে বিধিভঙ্গের অভিযোগ তৃণমূলের, অভিযোগ কমিশনে | তৃণমূলের পোস্টাল ব্যালট অভিযোগ ক্ষুদিরাম কেন্দ্রে | Trinamool Congress Alleges Postal Ballot Rule Violation At Khudiram Anushilan


Kolkata

-Ritesh Ghosh

তৃণমূল কংগ্রেস কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে পোস্টাল ব্যালট বাছাইয়ে বিধিভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে। তাঁদের অভিযোগ, জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (DEO) নিয়ম ভেঙেছেন। যদিও নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, এই অভিযোগের কোনও সারবত্তা এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এর আগেও অবশ্য তৃণমূল ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুমে ‘সন্দেহজনক গতিবিধি’র অভিযোগ তুলেছিল।

এই অভিযোগের জেরে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে উত্তেজনা দেখা যায়। বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ এবং শ্যামপুকুরের প্রার্থী শশী পাঁজা ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের গেটের বাইরে অবস্থানে বসেন। একই সময়ে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দক্ষিণ কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গণনাকেন্দ্রের স্ট্রংরুমে পৌঁছন।

শ্যামপুকুরের তৃণমূল প্রার্থী শশী পাঁজা অবশ্য দাবি করেছেন, বৃহস্পতিবার তাঁকে স্ট্রংরুমে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, গণনা কক্ষে ঢুকতে গেলে জওয়ানরা তাঁকে আটকে দেয়।

এই প্রসঙ্গে শশী পাঁজা বলেন, “সিআরপিএফ-এর হাতে আমরা প্রতিনিয়ত অপমানিত হচ্ছি। ভোটের দিন সাধারণ মানুষের সঙ্গেও তাদের একই বর্বর আচরণ আমরা দেখেছি। আজ স্ট্রংরুমে প্রবেশ করতে গিয়েও আটকানো হল। নিয়ম না জেনে তারা আটকাচ্ছেন কীভাবে?”

শশী পাঁজা পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত একটি গুরুতর অনিয়মেরও অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানান, “গতকাল দুপুর দেড়টা পর্যন্ত আমাদের প্রতিনিধিরা ব্যালট পেপারের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু ট্রাঙ্কে করে ব্যালট পেপার এসেছে ভোর চারটে নাগাদ। তখন সেখানে আমাদের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।” তিনি আরও জানান, সাতটি ট্রাঙ্কে পোস্টাল ব্যালট প্রবেশ করানো হয়েছে।

তাঁর অভিযোগ, “যে ঘরে সিসিটিভি ক্যামেরা নেই এবং যে কক্ষটি নিয়ে আগেও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল, সেই ঘরেই পোস্টাল ব্যালটের ট্রাঙ্কগুলি রাখা হয়েছে। সেখানে সিসিটিভি ফুটেজ দেখার কোনও ব্যবস্থা নেই। যদিও আজ সিসিটিভি লাগানোর কথা বলা হচ্ছে, যার অর্থ ফের ঘরটি খোলা হবে। এতক্ষণ পর্যন্ত সিসিটিভি লাগানো হয়নি।”

শশী পাঁজা ক্ষোভ প্রকাশ করে যোগ করেন, “কর্তৃপক্ষ এখন কিউআর কোড এবং ভিডিও কল নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলিকে জানানো হচ্ছে না, কখন সিসিটিভি স্থাপন করা হবে। এই গোটা পদ্ধতিটি নিয়েই আমাদের অনেক প্রশ্ন থাকছে।”

বারাসতে সিসিটিভি ডিসপ্লে বন্ধ থাকা নিয়েও তিনি সরব হন। শশী পাঁজা বলেন, “প্রতিটি বুথে সফলভাবে ওয়েবকাস্টিং (অডিও-ভিডিও) করা হলেও, গণনা কেন্দ্রে সিসিটিভি ডিসপ্লে কেন বারবার ব্যাহত হচ্ছে? হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যাওয়া বা অস্পষ্ট হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে, যেমনটা বারাসতে দেখা গেছে।”

সিসিটিভি বন্ধ থাকার বিষয়ে তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, “যে সময়টায় আমরা কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক মিনিটের জন্য সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে পাইনি, সে সময়কার রেকর্ডিং আমাদের হাতে দিতে হবে। ডিসপ্লেতে দৃশ্যমানতা না থাকলেও, নিশ্চয়ই রেকর্ডিং হয়েছে।”

জনগণের রায় সুরক্ষিত রাখা নিয়েও শশী পাঁজা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “মানুষ তাদের রায় দিয়ে দিয়েছে, তাহলে সেই রায় সুরক্ষিত রাখার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রতিদিন কেন লড়াই করতে হচ্ছে?”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *