Recruitment Scam : টোপে টুপি কালীঘাটের কাকুকেও! কাজ কেড়ে নিয়ে ঠিকাদারকে দলীয় পদ – expelled hooghly trinamool leader santanu banerjee was accused of getting a party post in return for money


এই সময়: শিক্ষা দপ্তরে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের থেকে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তো ছিলই। এবার টাকার বিনিময়ে ঠিকাদারকেও দলীয় পদ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল হুগলির বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, আদালতে জমা দেওয়া ইডির চার্জশিটে সামনে এসেছে আরও এক আজব কীর্তি। নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রেখে চাকরি বিক্রির ব্যবসা করলেও খোদ শান্তনুর কাছেই প্রতারিত হয়েছেন কালীঘাটের কাকু হিসেবে পরিচিত সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রও!

Ayan Sil : হাজার চাকরিতে অয়নের একার ইনকাম ৪৫ কোটি!
চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে, ফ্ল্যাট কিনতে গিয়ে শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্যাঁচে পড়ে ৪০ লক্ষ টাকা খোয়াতে হয় কালীঘাটের কাকুকে। সম্পত্তির মালিক হওয়া তো দূরের কথা, অগ্রিম হিসেবে দেওয়া ওই টাকা কার্যত জলে যায় তাঁর। কারণ, ঋণ সংক্রান্ত আইনি জটিলতায় প্রকল্পটি দিনের আলোই দেখেনি কখনও!

Recruitment Scam : পার্থ-অয়নের ‘লিঙ্কম্যান’ কুন্তল? চার্জশিটে বিস্ফোরক তথ্য ED-র
ইডি সূত্রের খবর, হুগলিতে একটি বহুতল প্রকল্পে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রকে ১২০০ বর্গফুটের বাণিজ্যিক প্লট কেনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। ‘দীপ ডেভলপার অ্যান্ড জেনারেল অর্ডার সাপ্লায়ার’ কোম্পানির অধীনে ওই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। যেখানে অংশীদার হিসেবে ছিলেন ব্যবসায়ী ইন্দ্রনীল চৌধুরী এবং দিবাকর মুখোপাধ্যায়। আচমকা সেখানে পার্টনার হিসেবে যুক্ত করে নেওয়া হয় শান্তনুর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কাকেও। তাঁর বিনিয়োগ করা পুঁজি ছিল মাত্র ৪ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা!

চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে, শান্তনু ওই আবাসন প্রকল্পে ফ্ল্যাটের ক্রেতা খুঁজে আনবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। পরে সুজয়কৃষ্ণকে বুঝিয়ে ১২০০ বর্গ ফুটের কমার্শিয়াল প্লেস কেনার জন্য ৪০ লক্ষ টাকা অগ্রিম নিয়ে নেন। ২০২০ সালে সেই টাকা জমা দেওয়া হয় ‘দীপ ডেভলপার অ্যান্ড জেনারেল অর্ডার সাপ্লায়ার’-এর অ্যাকাউন্টে।

Shantanu Banerjee : দিনমজুরের অ্যাকাউন্টে নিয়োগ দুর্নীতির টাকা!
বাজার দর ১২ হাজার টাকা প্রতি বর্গফুট থাকলেও সুজয়কে ৮ হাজার টাকা হিসেবে বিক্রি করার কথা হয়। কিন্তু, কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগে শান্তনু ওই কোম্পানির নামে ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে নেন। সেই টাকা আবার ‘এমএস ইভান কনট্রেড প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে একটি সংস্থার অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হয়। এরপর অংশীদারদের মধ্যে ঝামেলার কারণে ওই প্রজেক্টের কাজ আর শেষ হয়নি। ফলে বারবার তাগাদা দিলেও কালীঘাটের কাকু শান্তনুর থেকে ফেরত পাননি ওই টাকা।

Recruitment Scam CBI Raid: ‘কালীঘাটের কাকু’র বাড়িতে CBI, প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতিতে কলকাতায় ম্যারাথন তল্লাশি
এসব তো গেল একটা দিক। শান্তনুর বিরুদ্ধে ইডির আরও অভিযোগ রয়েছে। চার্জশিটে বলা হয়েছে, সরকারি নিয়ম মেনে হুগলিতে ঠিকাদার পঞ্চায়েতে রাস্তা তৈরির বরাত পেলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁকে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। উল্টে নিজের লোকজন লাগিয়ে সেই কাজ দখল করেন শান্তনু।

গত সোমবার ব্যাঙ্কশাল কোর্টে ইডি বিশেষ আদালতে অয়ন শীল এবং শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শিক্ষক দুর্নীতি মামলায় সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করে। সেখানেই দাবি করা হয়, রাস্তার কাজ তাঁর টাকায় শেষ হলেও সরকারি খাতায় ঠিকাদার হিসাবে যেহেতু মিসবাউদ্দিনের নাম ছিল, তাই গ্রাম পঞ্চায়েতে তরফ থেকে ওই নামেই চেক ইস্যু করা হয়।

Recruitment Scam : ‘গুণধর’ নেতাকে প্রশ্ন ইডি-র
এর পর শান্তনু বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে সমস্ত টাকা ট্রান্সফারের নির্দেশ দেন ঠিকাদারকে। সেই নির্দেশ মেনে ওই অর্থ বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েও দেন মিসবাউদ্দিন। টাকা লেনদেনের প্রক্রিয়া শেষ হতেই পুরস্কার হিসেবে দলীয় পদ দেওয়ার পাশাপাশি উপহার হিসেবে ১ লক্ষ ১৫ হাজার টাকার একটি আইফোনও কিনে দেওয়া হয় তাঁকে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *