Online Worship : শরীর খারাপ, সময় নেই? পুজো হবে অনলাইনেই! – even sitting in kolkata puja can be offered at siddhi vinayak mandir in mumbai by online


এই সময়: পরিস্থিতি ভালো নয়। পর পর চাকরি যাচ্ছে। আমেরিকায় চাকরি করতে যাওয়া ছেলেটার কপালে যে কী আছে সেটা ভাবতে গিয়েই রাতের ঘুম উড়েছে বসু পরিবারের। পরিবারের গিন্নি জয়শ্রী বসু মনে মনে মানত করেছিলেন সব কিছু ভালোয় ভালোয় মিটে গেলে মুম্বইয়ে সিদ্ধি বিনায়ক মন্দিরে পুজো দেবেন। তাঁর মানতের জোরেই হয়তো দিন পনেরো পর সুসংবাদ এল নিউ জার্সি থেকে

Shani Jayanti Puja Vidhi: কাল শনি জয়ন্তীতে এই উপায়ে পুজো করুন বজরংবলীর, খুশি হবেন গ্রহরাজ
বড় প্রমোশন হয়েছে ছেলের। এবার মানত রক্ষায় মুম্বই পাড়ি দিতে হয়। কিন্তু এমন হুট করে সেটা করা যায় নাকি! সমস্যার কথা প্রকাশ করতেই সমাধান মিলল হাতেনাতে। সশরীরে নয়, নিজে কলকাতায় বসেও পুজো দেওয়া যায় মুম্বইয়ের সিদ্ধি বিনায়ক মন্দিরে – অনলাইনে। গত কয়েক বছর হলো শরীরটা একেবারে ভেঙে পড়েছে বিনায়ক ভট্টাচার্যর। ইচ্ছা ছিল একবার কাশী গিয়ে বিশ্বনাথ দর্শন করে আসবেন। কিন্তু আর মনে হয় হবে না। বিকেলে পার্কে বুড়োদের আড্ডায় মন খারাপ করে প্রসঙ্গটা তোলার পর রীতিমতো হাঁ হাঁ করে উঠলেন কয়েকজন।

Falharini Kali Puja 2023: আজই ফলহারিণী কালী পুজো, এই উপায়ে মনের ইচ্ছাপূরণ করবেন আদ্যাশক্তি
শুনলেন নড়বড়ে শরীর নিয়ে বেনারস না গিয়েও বিশ্বনাথের দর্শন করা সম্ভব। শুধু তা-ই নয়, নিজের পছন্দ করা পুরোহিতের হাত দিয়ে সেই মন্দিরে পুজো পর্যন্ত দেওয়া যাবে। ওঁকে শুধু অনলাইনে মন্দির, পুরোহিত, বিশেষ কোনও পুজো চাইলে সেই পুজোর নাম বেছে নিয়ে উপযুক্ত দক্ষিণাটুকু দিতে হবে। অনলাইনে পুজো পরিষেবা। ব্যস্ততার যুগে যাঁদের সাধ আছে কিন্তু সময় নেই – তাঁদের জন্য লোভনীয় প্রস্তাব।

Jamai Shashthi 2023: জামাই ষষ্ঠীতে জামাই এখানে স্বয়ং শ্রীচৈতন্য! এলাহি ভোজন, ষাটের বাতাস সবই থাকে
যাঁদের অশক্ত শরীর আর দীর্ঘ ট্রেনযাত্রা বা প্লেনের ধকল নিতে পারবে না, তাঁদের কাছেও এমন পরিষেবা বিরাট আশীর্বাদের মতোই। দেশের যে কোনও মন্দিরে সম্ভাব্য সব রকমের পুজো দেওয়ার ব্যবস্থা একেবারে বাড়িতে বসেই। পুজো দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে বাড়িতে ক্যুরিয়ার মারফত চলে আসবে পুজোর ডালি এবং প্রসাদও। একেবারে যেন অনলাইনে সুইগি বা জ়্যোম্যাটোতে পছন্দসই খাবার অর্ডার দেওয়ার মতোই।

অনলাইনে পুজো দেওয়ার পদ্ধতি ঠিক কী? এই কাজের সঙ্গে যুক্ত একটি সংস্থা অনলাইনপুজা ডট কমের এক কর্মী বলছেন, ‘বিভিন্ন মন্দিরের সঙ্গে আমাদের টাই-আপ রয়েছে। আমাদের ওয়েবসাইট খুললে কোন মন্দিরে পুজো দেওয়া যাবে তার তালিকা পাওয়া যাবে। মন্দির পছন্দ করার পর কোন ধরনের পুজো দেওয়ার সুবিধা রয়েছে সেটাও দেখা যাবে।

Palash Phool Remedies: পলাশ ফুলের এই সহজ টোটকায় জীবনে ঘটবে ম্যাজিক! মিলবে রাজসুখ
এমনকি ওই মন্দিরের পুরোহিতদের প্রোফাইলও দেওয়া আছে ওয়েবসাইটে। সেখান থেকে পছন্দসই পুরোহিতকেও বেছে নেওয়া যাবে।’ সংস্থা জানাচ্ছে, পুজোর ধরনের পাশেই খরচ দেওয়া আছে। আগ্রহীরা সেখানে ক্লিক করলে একটা ফর্ম আসবে। কার নামে পুজো, তাঁর বিশদ বিবরণ সেখানে ভরতে হবে। প্রণামী দিতে হবে অনলাইনেই। পুজোর প্রসাদ বাড়িতেই পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

এই ভাবে কি আদৌ পুজো দেওয়া হয়? নাকি এমনিই একটি বাক্স বাড়িতে পাঠিয়ে স্তোক দেওয়া হয় পুণ্যার্থীদের? জবাবে কলকাতার সংস্থা পুজো পরিষেবা ডট কমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘পুজোর পুরো পদ্ধতিটা পুণ্যার্থীকে ভিডিয়ো মারফত দেখানো হবে। তিনি দেখতে পাবেন তাঁর নাম লেখা পুজোর ডালি পুজোয় ব্যবহার করা হচ্ছে। পরে সেই ডালিই তাঁর বাড়িতে পাঠানো হবে। পুরো ব্যাপারটাই স্বচ্ছ।’

Shani Jayanti 2023: শিংনাপুরে শনি মূর্তি নয় বরং পূজিত হয় পাথরখণ্ড, চমকে দেবে এই কাহিনি
কিন্তু এই ভাবে পুজো দেওয়া কতটা যথার্থ? আদৌ কি এতে পুণ্য অর্জন করা যায়? এই প্রশ্নের উত্তরে পুরাণ বিশেষজ্ঞ নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী বলছেন, ‘ঈশ্বরের জন্য যদি সামান্যতম কৃচ্ছসাধন না করা হলো, তাহলে আর পুজো দেওয়া কেন? এখন যেন আমাদের কাছে দেবতা খুব ক্যাজ়ুয়াল হয়ে গিয়েছেন। রোজ বাড়িতে বসে সুইগিতে খাবার অর্ডার দিই, আজ না হয় কোনও একটা মন্দিরে পুজো দিয়ে কোনও প্রবীণ-প্রবীণাকে মানসিক শান্তি দিলাম।’

সর্ব ভারতীয় ব্রাহ্মণ পরিষদের প্রাক্তন সম্পাদক এবং পেশায় পুরোহিত রঞ্জন পাঠক অবশ্য এই মতের সঙ্গে পুরোপুরি সহমত হননি। তিনি বলেন, ‘একেবারে শুরুতে তো আমাদের পুজো ছিল যজ্ঞ এবং স্তূতি। তার পর ক্রমশ পুজো-পদ্ধতির বিবর্তন হয়েছে। শাস্ত্র বলে আর্তের জন্য কোনও নিয়ম নেই। যদি অসুস্থ কেউ এমন ভাবে পুজো দিয়ে মানসিক শান্তি পান, তবে অসুবিধা কোথায়? তবে এটা শখ বা ব্যবসায় পরিণত হলে আমার সমর্থন থাকবে না।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *