শরণ্যার কাহিনি
পরীক্ষার রেজাল্ট ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই যেন বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস শরণ্যাকে নিয়ে। চণ্ডীতলার জনাই ট্রেনিং স্কুলের এই পড়ুয়ার সাফল্যে গর্বিত তার পরিবার এবং শিক্ষকরা। তবে এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে বিগত এক বছরে শরণ্যার স্ট্রাগল। উচ্চমাধ্যমিকের পাশাপাশি জীবনযুদ্ধেও জয়ী হয়েছেন তিনি।
উচ্চমাধ্যমিকের প্রস্তুতির সঙ্গে সঙ্গেই চলেছে একজন রূপান্তরিত নারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠার লড়াই। চোখধাঁধানো ফলের পর সেই সংগ্রামের কথাই উঠে এল শরণ্যার মুখে। তিনি বলেন, “জন্মেছিলাম একজন পুরুষের শরীরে। ছেলেবেলা থেকেই আমার স্বভাব, আচরণ ছিল মেয়দের মতো। ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করি আমি একজন নারী। একাদশ শ্রেণি পাশ করার পর আমি সমাজের কাছে নিজের সত্তা প্রকাশ করি। এখন আমি শরণ্যা।”
ছেলেবেলায় কটাক্ষের শিকার হতে হয়েছে শরণ্যাকে। সে কথাও উঠে আসে তাঁর কথায়। ছাত্রীর কথায়, “ছেলেবেলা থেকেই আমি ছাত্রীদের সঙ্গে বসতাম, তাদের সঙ্গেই বেশি মেলামেশা করেছি তাই অনেকেই কটাক্ষ করেছে। কিন্তু, তারাই আজ আমাকে বুঝেছে। যে সমাজ হয়ত আমাকে পুরুষ হিসেবে চিহ্নিত করে এসেছে এতদিন, সেই মানুষগুলোই এখন আমার সাফল্যে গর্বিত।”
শরণ্যার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
শরণ্যার কথায়, “শিক্ষাই আসল অস্ত্র। শিক্ষা অর্জন করতে পেরেছি বলেই আমি নিজেকে বুঝতে পেরেছি। শিক্ষা থাকলে তবেই তো আত্মউপলব্ধি সম্ভব। লড়াই করে যেতে হবে। আমিও করেছি। তবেই সাফল্য পেয়েছি।”
সিভিল সার্ভেন্ট কিংবা একজন আদর্শ শিক্ষিকা হতে চান শরণ্যা। ট্রান্সজেন্ডার বোর্ডের জন্য উন্নয়ন এবং আগামী প্রজন্মকে লিঙ্গভেদের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে ভালোবাসার শিক্ষা দিতে চান উচ্চমাধ্যমিকের সপ্তম স্থানাধিকারী।
কী বলছেন শরণ্যার শিক্ষক?
জনাই ট্রেনিং স্কুলের ইংরাজির শিক্ষক বলেন, “অনেকগুলো দিক থেকে ও নজির গড়েছে। ইতিহাসে ১০০, ভূগোল-এডুকেশনে ৯৯। কলা বিভাগে পরেও যে এমন তাক লাগানো রেজাল্ট করা যায়, তা দেখিয়ে দিয়েছে শরণ্যা। জানতাম গত একবছর ধরে অসম্ভব মানসিক অশান্তির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমি ওকে বলেছিলাম, ফোকাস নষ্ট হতে দিস না। জানতাম একটা ভালো খবর আসবেই।”
