এই আবহেই বুধবার বৈঠকে বসে ঘাঘর ঘেরা কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা। একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কমিটির তরফে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আইনি লড়াই লড়ার জন্য কোনও রাজনৈতিক দলের সাহায্য নয়। বরং জঙ্গলমহলের কুড়মি অধ্যুষিত গ্রামগুলিতে পাঠানো হবে কূপ।
সেই কূপেই এক টাকা করে অর্থ সাহায্য নেওয়া হবে কুড়মি পরিবারদের থেকে। সব মিলিয়ে জঙ্গলমহলে শাসক – কুড়মি সংঘাত যে আরও চরমে উঠতে চলেছে ঘাঘর ঘেরা কেন্দ্রীয় কমিটির বক্তব্যেই তা স্পষ্ট বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই বিষয়ে ঘাঘর ঘেরা কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুদীপ রায়বর্মণ বলেছেন, “আমাদের যে সমস্ত নেতা, সমর্থক গ্রেফতার হয়েছেন তাঁদের হয়ে আমরা আইনি লড়াই করব।
প্রয়োজনে হাইকোর্টে যাব। দুলাল মুর্মু ও বীরবাহা হাঁসদা যে রকম মন্তব্য করেছেন, তার জন্য আমরা তাঁদের বিরুদ্ধে জঙ্গলমহলের সমস্ত থানায় অভিযোগ দায়ের করব। এই আইনি লড়াইয়ের জন্য প্রতিটি ঘর থেকে এক টাকা করে নেওয়া হবে”।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, যেদিন থেকে এসটি তালিকাভুক্ত করার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে রাজ্যের কুড়মি সমাজ, সেদিন থেকেই রাজ্য সরকারের সঙ্গে একটা চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে তাঁদের। এরপর ঝাড়গ্রামে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নব জোয়ার কর্মসূচিতে হঠাৎ করেই হামলা হয়। আর তাতে আক্রান্ত হন রাজ্যের মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা।
তাঁর গাড়ির কাঁচ ভাঙা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। তারপর থেকেই তুঙ্গে ওঠে সংঘাত। গ্রেফতার হন একের পর এক কুড়মি নেতা কর্মী। এর ফলে চাপ বেড়েছে কুড়মিদের ওপর। তাই এবার জঙ্গলমহলের প্রতিটি থানাতেই এই দুই হেভিওয়েটের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে নিজেদের সমাজকেই বার্তা দিতে চাইছে ঘাঘর ঘেরা কেন্দ্রীয় কমিটি, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
