সম্প্রতি নওশাদ দাবি করেছিলেন, তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে কিনতে চায়। আর সেই ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে রবিবার ভাঙড়ের আম্রেস্বর গ্রামের এক জনসভায় শওকত বলেন, “তৃণমূল ছাগল কিনবে কিন্তু কোনও পাগলকে কোনোদিন কিনবে না।”
সেই সঙ্গে শওকত আরও বলেন, “ভাঙড় বিধানসভা থেকে একটা ভণ্ড, দালাল, চিটিংবাজ নির্বাচিত হয়েছেন। টিভিতে এখন তাঁকে দেখা যাচ্ছে না। মানুষ তাঁকে ঘৃণা করছে। মাসে এক দু’বার এখানে আসেন, ঘুরে চলে যান। হঠাৎ তিনি বলছেন, তাঁকে কেনার জন্য নাকি মোটা টাকার অফার দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয় কবে তাকে অফার দেওয়া হয়েছিল? তখন তিনি বলেন, যখন বিধায়ক হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন সেই সময়। আমাদের এত অভাব হয়ে গেল চার পয়সার নকুলদানাকে আমাদের কিনতে হবে! এর থেকে বড় মিথ্যাবাদী, ধাপ্পাবাজ আর কেউ হতে পারে না।”
সেই সময়েই শওকত তীব্র আক্রমণ করে বলেন, “তৃণমূলের এত অভাব হয়নি। তৃণমূল ছাগল কিনতে পারে কিন্তু কোনও পাগলকে কোনোদিন কিনবে না। তাঁকে নাকি অনেক বড় মন্ত্রিত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তাঁকে নাকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। আমি তো আবার শুনলাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর যে জল তোলে তাঁর দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তুমি যতই মিথ্যা কথা বল, টিআরপি বাড়ানোর চেষ্টা করো ভাঙড়ের মানুষ সব বুঝে গিয়েছেন, তাঁরা তৃণমূলের সঙ্গে আছেন।”
শওকত বলেন, মানুষ একবার ISF কে ভোট দিয়ে যেভাবে ঠকেছেন, এরপর আর সেই ভুল করবেন না। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মাস তিনেক আগেই তীব্র কথার দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পরেছিলেন এই দুই যুযুধান বিধায়ক। ফুরফুরা শরিফে তাঁর বিরুদ্ধে ‘চোর চোর’ আওয়াজ তোলার নেপথ্যে ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ এবং নওশাদের দাদা আব্বাস সিদ্দিকির মদত রয়েছে, এমনই অভিযোগ করেন শওকত মোল্লা।
যদিও এই অভিযোগ খণ্ডন করেন নওশাদ। তিনি বলেন, “কোনও গরিব মানুষ যদি নিজের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে কোনও নেতাকে দেখে এমন কিছু কথা বলেন, তার দায় আমার নয়।”
